Logo

মালয়েশিয়ায় স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে মালয়েশিয়ায় স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। সোমবার (২৩ মার্চ) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

পুরো দেশ খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে লকডাউনে চলে যাওয়া উচিত। গভার্নমেন্টকে এখন হার্ড লাইনে যেতে হবে। জনগন কথা শুনবে না। এটাই স্বাভাবিক। তাই ল্য ইনফোর্সমেন্টের মাধ্যমেই পরিস্স্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। পুরো দেশ লকডাউনে চলে গেলে দিন আনে দিন খায় এরকম খেটে খাওয়া মানুষদের জীবিকার ব্যাবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সমাজের বিত্তশালী লোকজন, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সরকারকে এক যোগে কাজ করতে হবে।

এদেশের একটা অঘোষিত নিয়ম হল: মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিশেষ আদেশ না আসলে দেশের হর্তা কর্তারা নড়েচড়ে উঠেন না। এটা একটা বড় সমস্যা। করোনা মহামারিকে ডেঙ্গুর মত মনে করলে অথবা “আমরা করোনার চেয়ে অনেক শক্তিশালী” এরকম দায়িত্বজ্ঞাণহীন মন্তব্যের ফুলঝুড়ি চলতে থাকলে পুরো জাতির কপালে মহাদুর্গতি আছে।

আমরা প্রায় তিন মাসের মত একটা লম্বা সময় পেয়েছি। এ দীর্ঘ সময়ে অন্যান্য আক্রান্ত দেশগুলো থেকে যদি আমরা শিক্ষা না নেই এবং সংকট উত্তরণে তাদের অভিজ্ঞতা যদি কাজে না লাগাই তাহলে আল্লাহ নিজে এসে কিছু করে দিয়ে যাবেন না। এটাই আল্লাহর নিয়ম বা সুন্নাহ। বাঁচতে হলে আমাদেরকেই সাবধানে থাকতে হবে। কুরআন বলছে: “আল্লাহ তায়ালা ততক্ষণ কোন জাতির অবস্থার পরিবর্তন ঘটান না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা তাদের অবস্থার পরিবর্তনের চেষ্টা করে”। (সূরা আল রা’দ, আয়াত: ১১)।

আমি ব্যাক্তিগতভাবে গত আটদিন যাবত স্বেচ্ছায় পুরোপুরি ভাবে বাসায় অবস্থান করছি। এর মধ্যে একবারের জন্যেও বাইরে বের হইনি। সব সালাত ঘরে জামাতে আদায় করেছি। বর্তমান সময়ে এর চেয়ে ভালো কাজ আর হতে পারে না। তাই সবাইকে বলছি, প্লিজ প্লিজ সবাই ঘরে থাকুন। এটাই এখন সবচেয়ে বড় মহৌষধ।

আতংকিত না হয়ে সাবধানতা অবলম্বন করুন। সরকারের একার পক্ষে এই মহামারি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। সবার ঐকান্তিক সদিচ্ছা ও সহযোগিতা দরকার। জরুরী বাজার সদাই কিনে এনে যথাসম্ভব পরিবারের সদস্যসহ নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করুন। সামাজিক মেলামেশা, জনসমাগম পরিহার করুন। ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও হাচি ও কাশি দেয়ার শুদ্ধাচার মেনে চলুন। জরুরী প্রয়োজনে ঘরের বাইরে গেলে, ফিরে এসেই ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। এ নিয়ম গুলো মেনে চলাই হচ্ছে এখন ফরজে আইন। এ ভাইরাসে বৃদ্ধ জনগোষ্ঠির আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশী তাই তাদেরকে এক্সট্রা কেয়ার দিন।

সবচেয়ে বেশী যেটা দরকার তা হল সেল্ফ আইসোলেশন। বিশেষ করে বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের বুঝিয়ে অথবা সামাজিক ভাবে চাপ প্রয়োগ করে হলেও ওনাদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা। কোয়ারেন্টিন মানে হচ্ছে সবার থেকে আলাদা হয়ে থাকা এবং কারো সংস্পর্শে না আসা। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে যে, দেশে এসে উনারা দিব্যি মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউ কেউ শশুড় বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছেন এবং অনেকে বিয়ের দাওয়াতেও অংশ গ্রহন করছেন।

দেশে অবস্থানরত প্রিয় প্রবাসী ভাইয়েরা, আপনারা দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন। আপনাদের পরিশ্রমের টাকায় সচল থাকে আমার দেশের অর্থনীতির চাকা। এত কিছু করার পরেও সঠিক সময়ে সঠিক রেসপন্সটুকু করতে ব্যর্থ হচ্ছেন আপনারা। আল্লাহর ওয়াস্তে সদ্য বিদেশ ফেরত ভাইবোনেরা বাসায় থাকুন। মানুষের সাথে মেশা থেকে বিরত থাকুন। নিজে বাঁচুন, প্রিয়জনদেরকে বাঁচান। পূর্ব থেকেই সাবধানতা অবলম্বন করা, এটা আল্লাহর আদেশ। এআদেশ স্বেচ্ছায় অমান্য করে আল্লাহর কাছে দোয়া করে কোন লাভ নেই। কুরআন বলছে:

“হে ইমানদারগণ তোমরা আগে থেকেই সাবধানতা ও সতর্কতা অবলম্বন করো”।
[সূরা নিসা, আয়াত: ৭১]

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

seventeen − 9 =


Theme Created By Raytahost.Com