Logo

আড়াইহাজারে ক্রেতা শূন্য ফল পট্রি  লোকসানের মুখে ব্যবসায়ীরা 

আড়াইহাজারে ক্রেতা শূন্য ফল পট্রি  লোকসানের মুখে ব্যবসায়ীরা 

এম এ হাকিম ভূঁইয়া:
আড়াইহাজার উপজেলায় প্রতিটি ইউনিয়নেই দুই থেকে তিনটি করে ছোট বড় স্থায়ী ও অস্থায়ী বাজার আছে। এসব বাজারে রয়েছে প্রায় শতাধিক ছোট বড় ফল ব্যবসায়ী। করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবে ফল পট্রিগুলো অনেকটাই ক্রেতা শূন্য হয়ে পড়েছে। এতে বিক্রি হচ্ছে না ফল। সময় মতো বিক্রি করতে না পারায় অনেক ব্যবসায়ীর আড়তে ফল পচতে শুরু করেছে। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। অনেকের পথে বসার উপক্রম হয়ে পড়ছে। কয়েক দিন আগে এই সময়টাতে প্রতিটি দোকানগুলোতে গড়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেচাকেনা হতো। এখন তার উল্টো চিত্র। আক্ষেপ করে অনেকেই বলেছেন, দোকান ভাড়া, সংসার ও কর্মচারি খরচ চালাতে পারছে না তারা। আজ শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, সারাক্ষণ কর্মব্যস্ত ফলের পোল্ট্রিতে ছিল ক্রেতা শূন্য। ক্রেতার অভাবে খাঁ খাঁ করছে দোকানগুলো। ব্যবসায়ীরা অলস সময় পার করছেন। অনেকেই আড়ত থেকে পচন ধরা ফল ফেলে দিচ্ছেন। আড়াইহাজার পৌরসভা বাজারের ফল ব্যবসায়ী হাশেম বলেন, আমি প্রায় ২০ বছর ধরে ফলের ব্যবসা করে আসছি। এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখিনি। কয়েকদিন আগেও বেলা ১০টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করা যেতো। এখন তার উল্টো। সারাদিনে বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০টাকা। তিনি আরো বলেন, বেচাকেনা কমে যাওয়া ফলে পচন ধরছে। এতে লোকসান হচ্ছে। একই বাজারের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, ফল বিক্রি করা যাচ্ছে না। এতে সংসার চালানো কষ্ট হয়ে পড়ছে। দোকান ভাড়া ও কর্মচারির খরচ দেয়া যাচ্ছে না। এমনভাবে আর কয়েক দিন চললে আমাদের পথে বসা ছাড়া উপায় নেই। উপজেলার কামরানির চর বাজারের ফল ব্যবসায়ী কুদ্দুস বলেন, ১৫ বছর ধরে আমি ফলের ব্যবসা করে আসছি। এমন পরিস্থিতিতে আগে কোনো সময় পড়েনি। সারাদিন আগে যেখানে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারতাম। এখন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০টাকা। তিনি বলেন, একদিকে ক্রেতা শূন্য বাজার। অপরদিকে ফল পচে যাচ্ছে। এর ওপর নেই বেচাকেনা। লোকসানের মুখে পড়ে আমি স্বর্বশান্ত। এখন না পারছি সংসার চালাতে। না পারছি দোকান ভাড়া দিতে। গোপালদী বাজারের ব্যবসায়ী হরিপদ বলেন, উপজেলার মধ্যে সব চেয়ে বেশী ফল বিক্রি হয়ে থাকে এই বাজারে। কিন্তু গত কয়েক দিনের ব্যবধানে ফলে ব্যবসায় ধস নেমেছে। প্রায় ২০টির মতো দোকান আছে এই বাজারে। একটি দোকানেও নেই বেচাকেনা। ক্রেতা শূন্য হয়ে পড়েছে ফলে দোকানগুলোতে। কয়েক দিন আগেও প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাইকারী ও খচরা পর্যায়ে ফল বিক্রি করা হতো প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার মতো। এখন তা বিক্রি হচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছে। তিনি আরো বলেন, সময় মতো বিক্রি করতে না পারায় আড়তে ফলের পচন ধরতে শুরু করেছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে একই চিত্র দেখা গেছে। বালিয়াপাড়া বাজারের ব্যবসায়ীক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, প্রাণঘাতি (কভিড-১৯) করোনারভাইরাস সংক্রমণ আতঙ্কে বাজারে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। ব্যস্ততম ফলের দোকানগুলোতে ক্রেতা শূন্য। এতে ফল ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

fifteen + two =


Theme Created By Raytahost.Com