Logo
HEL [tta_listen_btn]

অযত্নে অবহেলায় আড়াইহাজার উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জমিদার ধীরেন্দ্র চন্দ্র রায় চৌধুরীর জরাজীর্ণ সেই বাড়িটি

অযত্নে অবহেলায় আড়াইহাজার উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জমিদার ধীরেন্দ্র চন্দ্র রায় চৌধুরীর জরাজীর্ণ সেই বাড়িটি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অযত্নে অবহেলায় আড়াইহাজার উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জমিদার ধীরেন্দ্র চন্দ্র রায় চৌধুরীর জরাজীর্ণ সেই বাড়িটি। তৎকালিন ব্রিটিশ সরকারের আমলের জমিদার বাড়িটি এখন শুধুই কালের সাক্ষী হয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে রয়েছে। এটি রক্ষণাবেক্ষণেও নেই কোনো উদ্যোগ। ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে এটি। রাত হলেই বসছে মাদকের আসর। মাঝে মধ্যে ভবনের বিভিন্ন কক্ষে দেখা মিলে ব্যবহৃত বিভিন্ন মাদকের বোতল। দিন দিন বাড়ছে স্থানীয় বখাটেদের আনাগোনা। অনেকই স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা মাঝে মধ্যে ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন। অথচ উপজেলা পরিষদ ও থানা থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরুত্বে এটি অবস্থান। এদিকে জমিদার বাড়ির অধীনে থাকা বেশ কিছু জমি নানা কায়দা করে স্থানীয় একটি চক্র এরই মধ্যে দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এখানো দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা স্থাপনাটি দেখতে আসছেন। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন প্রাচীন স্থাপনা রয়েছে। এগুলো ক্রমেই বেদখলে চলে যাচ্ছে। কাঁচারি বাড়িতে দিনভর ছিল খাজনা আদায়ের মহোৎসব। চলতো বিচার কাজ। জমিদার বাড়ির মূল ভবনটি সন্ধ্যা হলেই আলো জ্বলমলে হয়ে উঠতো। সন্ধ্যার নিস্তব্ধ নিরবতায় উলুর্ধ্বনির পূর্জা অর্চনায় মুখরিত হয়ে উঠতো। জমিদার রমণিদের নানা আয়োজনে চলত পূজা-অর্চনা। এখন আর নেই সেই কর্মযজ্ঞ। কালের বির্বতনে সবই হারিয়ে গেছে। অযত্নে অবহেলায় ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে পুরো স্থাপনাটি। ইট, সুরখি ও পলেস্তারা খসে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে ভবনের প্রচীন সব কারুকার্য। এরই মধ্যে স্থাপনাসহ আশাপাশের অনেক জমিই প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। এরই মধ্যে ভবনের কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। ব্রিটিশদের শাসনের বিলুপ্ত হওয়ার পর বিলুপ্ত হয়ে গেছে জমিদারদের মহাকর্মযজ্ঞও। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভেঙে ফেলা হয়েছে নিরামিষ রান্নার ঘর ও মাছ রান্নার ঘরটি। নাই প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায়ের হাকডাক। রুপার পয়সা সংরক্ষনের ড্রামটি। মূল ভবনের ঠিক পাশে এখনো রয়েছে সে সময়কার দুর্গাপূজায় ব্যবহƒত একতলা ভবনটি। বর্তমানে এটিতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কালিপূজা উদ্যাপিত হয়ে থাকে। সংরক্ষণের অভাবে ২০ কক্ষের কারুকার্য খঁচিত বিশাল সুরম্য প্রাসাদের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র এরই মধ্যে চুরি হয়ে গেছে। এক সময় বাড়ির চারপাশে পরিধা ছিল। এখন তা নেই। দেয়াল ও দরজা জানালার মুঘল স্থাপত্যের ছোঁয়াও মূছে গেছে। বাড়ির ভেতর প্রবেশ করতে এখন সাপ-বিচ্ছুর ভীতি। বিকাল হলেই বসছে মাদক সেবীদের আড্ডা। তবে এখনো দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাড়িটি দেখার জন্য ছুঁটে আসেন পর্যটকরা। সংস্কার না করে এরই মধ্যে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণাও করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রভাবশালীদের দখল থেকে কিছু জমি উদ্ধার করে বাড়িটির পাশেই মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। এতে খুশি এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে, জমিদারের রেখে যাওয়া অনেক সম্পত্তি স্থানীয় প্রভাবশালীরা নানা কৌশলে গিলে ফেলেছেন। তাতে অনেকই ঘরবাড়ি নির্মাণও করে ফেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ষাটর্ধ্বো শ্রী গুরুদাস জানান, উপজেলা সদরে প্রায় অর্ধশত বর্গকিলোমিটার এলাকা জমিদারির আওতায় ছিল। বছরে একবার রাজপুন্যাহ হতো। জমিদারি বিলুপ্ত হওয়ার পর আশপাশের বেশ কয়েকটি পরিবার বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তাদের জমি, দালানকোঠা দখল করে বসবাস করছেন। অনেকেই আদালতে মামলা করে মালিক বনে গিয়ে নামজারিও করে নিয়েছেন। এ ব্যাক্তি আরও জানান, এলাকায় অনেক প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা জমিদারদের রেখে যাওয়া স্থাপনা নানা কায়দা করে তাদের কব্জায় নিয়ে গেছে। অবশিষ্ট অংশটুকুও দখলের পাঁয়তারা চলছে। ভবনের ভেতরে সন্ধ্যা হলেই স্থানীয় মাদক সেবিদের আড্ডায় বসছে। স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যা হলেই কিছু বখাটে যুবক ভবনের ভেতরে বিভিন্ন কক্ষে অবস্থান নেন। এখানে তারা মাদকদ্রব্য সেবন করে। ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস করে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com