Logo
HEL [tta_listen_btn]

মণিরামপুরে সরকারী চাউল পাচার কান্ডে যুবলীগ নেতা কুদ্দুস আটক

মণিরামপুরে সরকারী চাউল পাচার কান্ডে যুবলীগ নেতা কুদ্দুস আটক

নিলয় ধর, (যশোর)সংবাদদাতা :
মণিরামপুরে চাউল পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুবলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুসকে আটক করেছেন ডিবি পুলিশ সদস্যরা। সে পৌরসভার জুড়ানপুর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে। এছাড়াও কুদ্দুস পাতন-জুড়ানপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। জানা যায় যে, মণিরামপুর থানা পুলিশের একটি টিম (৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে পৌরশহরের বিজয়রামপুরে ভাই ভাই রাইস মিল এন্ড চাতালে অভিযান  চালিয়েছিলো ।  এই সময়ে উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফীর উপস্থিতিতে সরকারি কাবিখার ৫৪৯ বস্তা চাউল জব্দ করা হয়েছিলো। আটক করা হয়েছে, চাতাল মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ট্রাক চালক ফরিদ হাওলাদারকে। অবশ্য সেখানে চাতাল মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ, সাংবাদিকসহ উপস্থিতিদের সামনে চাউল পাচারের ঘটনায় খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), চাউল বেচাকেনার সিন্ডিকেটের সদস্য শহিদুল ইসলাম, অষ্টম দাস, জগদিশ দাস, দেবাশীষ দাসসহ জড়িত অনেক কুশিলবদের নাম এখানে প্রকাশ করে।  এছাড়াও উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যরে ভাগ্নে ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তি বাচ্চুর বিরুদ্ধে চাউল পাচার সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর কয়েকদিন পর নাজমা খানমের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার পাল্টা অভিযোগ তোলেন উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু। কিন্তু পুলিশ শুধুমাত্র চাতাল মালিক মামুন এবং ট্রাকচালক ফরিদের নামে মামলা করেছিলেন। পুলিশ ৫ এপ্রিল মামুন এবং ফরিদকে আদালতের মাধ্যমে ২ দিনের রিমান্ডে। রিমান্ড শেষে ৭ এপ্রিল তাদেরকে আদালতে হাজির করা হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সম্পা বসুর আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক মামুন এবং ফরিদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তারা উল্লেখ করেন, চাউল পাচারের সাথে আরো জড়িত ছিলেন সিন্ডিকেট নেতা শহিদুল ইসলাম, জগদিশ দাসসহ আরো ২ জন সরকারি কর্মকর্তা। মণিরামপুর থানার ওসি (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ২১ এপ্রিল যশোর ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিলো। অপরদিকে সরকারি চাল আটক হবার পর পরই সরকারি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা মনিরুজ্জামান মুন্নাকে খুলনায় বদলি করা হয়েছে। মামুনের স্বীকারোক্তি মোতাবেক চাউল পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ মে রাতে ডিবি পুলিশের একটি টিম পৌরশহর থেকে সিন্ডিকেট নেতা শহিদুল ইসলামকে আটক করে। পরে শহিদুল ইসলাম আদালতে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, সরকারি চাউল পাচারের ঘটনায় তার সাথে জড়িত ছিলেন উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তি বাচ্চু এবং পাতন-জুড়ানপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি যুবলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস। প্রথম আটক চাতাল মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্বীকারোক্তি মোতবেক জড়িত সিন্ডিকেটের প্রধান আদায়কারী জুড়ানপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী জগদিশ দাসকে আটক করে ডিবি পুলিশ। জগদিশ আদালতে জবানবন্দিতে জানিয়েছে চাউল পাচারের সাথে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু এবং যুবলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস জড়িত। সে সূত্র ধরে রবিবার ১২ জুলাই রাত ২ টার দিকে জুড়ানপুরের নিজ বাড়ি থেকে আব্দুল কুদ্দুসকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এই দিকে সরকারী চাউল পাচার কান্ডে জড়িত সরকারী কর্মকর্তা ব্যতিত প্রায় সকল আসামী আটক হলেও বহাল তবিয়তে রয়েছে।উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ আহ্বায়ক উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু। যে কোন সময় তাকেও আটক করা হতে পারে বলে সুত্র জানিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com