Logo
HEL [tta_listen_btn]

চিকিৎসা ব্যবস্থা থেকে নারায়ণগঞ্জের মানুষের  আস্থা হারিয়ে গেছে : সেলিম ওসমান

চিকিৎসা ব্যবস্থা থেকে নারায়ণগঞ্জের মানুষের  আস্থা হারিয়ে গেছে : সেলিম ওসমান

নিজস্ব সংবাদদাতা:
চিকিৎসা ব্যবস্থা থেকে নারায়ণগঞ্জের মানুষের আস্থা হারিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই শিক্ষা নিয়ে কাজ করেছি। কতটুকু করতে পেরেছি তার প্রমাণ আপনাদের সামনেই রয়েছে। সুচিকিৎসা নিয়ে হয়তো আমাদের কিছু গাফিলতি ছিল। আমাদের ভুল স্বীকার করতেই হবে। নারায়ণগঞ্জের মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থা থেকে আস্থা হারিয়ে গেছে। সব জায়গায় দালাল চক্র। হাসপাতাল থেকে রোগী ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া হয়। রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের একজন দুর্নীতিবাজের বিচার চাইলাম। তাকে রাজশাহীতে বদলি করে দেওয়া হলো। আমি এ ঘটনার তদন্তসহ বিচার দাবি করছি। নারায়ণগঞ্জের মানুষের পরিশ্রমের টাকা কেউ আত্মসাত করে নিয়ে যাবে তার বিচার হবে না এটা হতে পারে না। আমরা প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো। উনার কাছে হাত পাতবো। নারায়ণগঞ্জের সদর এবং বন্দরের একটি মানুষও যাতে সুশিক্ষা এবং সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয় আমরা সেই ব্যবস্থা করবো। এমপি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন করবো। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার সবাইকে নিয়ে আলোচনায় বসবো। আমরা সব থেকে বেশি প্রয়োজন হবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে। কারণ শহর যদি নোংরা থাকে তাহলে রোগব্যাধি বেশি ছড়াবে। নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে নারায়ণগঞ্জের জনগণের মঙ্গলের জন্য আমরা সবাইকে নিয়ে এক টেবিলে বসে আলোচনার মাধ্যমে পরিকল্পনা নিয়ে ভবিষ্যতের উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করবো।’ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি আগামী ৬ মাসের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্ব নিবো। আমি যদি দেশে নাও থাকি তবুও ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে মাসিক সভায় অংশগ্রহন করবো। আপনাদের সকলের সহযোগিতা নিয়ে এই মুজিববর্ষের মধ্যে আমি বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ১০০ শয্যা হাসপাতালে পরিণত করবো। পাশাপাশি সিভিল সার্জন আমাকে জানিয়েছেন ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের ভবনটি ৩ তলা হলেও সেটি ৮ তলা ফাউন্ডেশন দেওয়া আমরা সেটাকেও উর্ধ্বমুখী স¤প্রসারন করে ৩০০ শয্যায় পরিণত করবো। এদিকে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালটিও প্রধানমন্ত্রী ৫০০ শয্যা অনুমোদন দিয়েছেন। সেটির কাজ নানা জটিলায় আটকে রয়েছে। আমরা সেখানে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় সাড়ে ৫ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গায় ৬ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করবো। যাতে করে সেখানে করোনা রোগীদের পাশাপাশি সাধারণ রোগীরাও চিকিৎসা নিতে পারে। কেউ যেন অভিযোগ করতে না পারে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা পাইনি। তিনি আরো বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে উন্নয়ন এবং মানুষকে সেবা করার মাঝে কোন প্রকার রাজনীতি আনি নাই। আজকের এই মতবিনিময় সভা সেটিরই প্রমাণ। আজকে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি সব দলের নেতারাই এই মঞ্চে উপস্থিত আছে। কিন্তু এই করোনা মহামারীর সময় কিছু মানুষ অপরাজনীতিতে লিপ্ত রয়েছেন। কেউ কেউ আমার মৃত্যু কামনা করছেন। আমি মরলে তারা এমপি হবেন। আবার একজন শ্রমিক নেতাকে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বলে পাগলের মত বক্তব্য রাখছেন। আসলে তারা পাগল হয়ে গেছে। আমার দাদা বাবার মত আমাদের পরিবারের সবাই নারায়ণগঞ্জের মানুষকে ভালবাসতে চাই। আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবো মানুষের উপকার করবে। আমার বিশ্বাস বন্দরের মানুষকে আমি যা বলবো সেটি তারা দলমত নির্বিশেষে সবাই শুনবে। কারন আমি বন্দরকে ভালবাসি বন্দরের মানুষও আমাকে ভালবাসে। বন্দর উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুক্লা সরকারের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মেহেরুবা আক্তার, সিটি কর্পোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার, ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহম্মেদ, জাপা নেতা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, বন্দর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহম্মেদসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com