Logo
HEL [tta_listen_btn]

পরিবার প্রতি ৫০ লাখ টাকা  ক্ষতিপূরণের দাবি স্বজনদের

পরিবার প্রতি ৫০ লাখ টাকা  ক্ষতিপূরণের দাবি স্বজনদের

নিজস্ব সংবাদদাতা:
সরকারের পক্ষ থেকে নিহত পরিবার প্রতি ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণে হতাহত পরিবারের সদস্যরা। সেইসাথে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দ্বগ্ধ রোগীদের ওষুধের ব্যবস্থা করে দেয়ার দাবি জানান তারা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তল্লায় এক সংবাদ সম্মেলনে হতাহত পরিবারের সদস্যদের পক্ষে এই দাবি জানান বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত মসজিদের ইমাম আব্দুল মালেকের ছেলে নাঈম ইসলাম। এই সময় তারা এ মর্মান্তিক ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনারও দাবি জানান। বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত মসজিদের ইমাম আব্দুল মালেকের ছেলে নাঈম ইসলাম বলেন, ‘এখানে অনেক পরিবার আছে যাদের গত কয়েকদিন চুলা জ্বলেনি। আমাদের এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি। আমাদের পরিবারের উপার্জনকারীদের আমরা হারিয়েছি। এইসব পরিবারকে যেন আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হয় এবং আমরা যারা কাজ কাম করতে সক্ষম তাদের যেন, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে নিহত পরিবার প্রতি ৫০ লাখ টাকা করে দাবি জানান। নাঈম বলেন, টাইলস মিস্ত্রি মনির ভাই মসজিদের মেসে থাকতেন। ওনার পরিবার এখানে না থাকায় সে কোনো সাহায্য, সহযোগিতা পাচ্ছেন না। এখনো অনেকে বার্ন ইউনিটে শয্যায় আছেন। তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হোক। আমার বাবার যখন চিকিৎসা চলে তখন আমার বাবার জন্য ৬-৭ হাজার টাকার ঔষধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছিল। যারা হাসপাতালে এখনও ভর্তি আছেন তাদের ওষুধ কেনার টাকার ব্যবস্থা যেন সরকার করে। তিনি বলেন, সেদিন এশার নামাজে আমিও ছিলাম। নামাজ পড়ে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে। সেদিন মোয়াজ্জিন সাহেব দু-চারজনকে বাচানোর জন্য কি পরিমাণ চেষ্টা করছেন তা আমি মুখে বলে বুঝাতে পারবো না। তার শরীর সাদা হয়ে গিয়েছিল। তিনি পোড়া অবস্থায় দুই-তিনজনকে বের করেছিলেন মসজিদ থেকে। আমার বন্ধু সাব্বির ও তার ভাই জুবায়ের সবসময় নামাজ শেষ করে, তালিম করে মসজিদ থেকে বের হতো। সেদিন তারা দুজনই মারা গেছে। এখন তাদের মায়ের কি হবে? ইব্রাহিম বিশ্বাস নামে এক ভাই ছিলেন। সেদিন আমি তাকে চিনতেই পারছিলাম না। সম্পূর্ণ শরীর কালো হয়ে গিয়েছিল তার। উনি তখনো বলতাছিল, ইমাম সাহেবকে ধরো, ইমাম সাহেবকে বাঁচাও। সেদিন আমার আব্বুও (ইমাম) পুড়ে যান। বার্ন ইউনিটের চিকিৎসা সেবা নিয়ে তিনি বলেন, বার্ন নিউনিটে কেউ কারো স্বার্থ দেখে নাই। আমি সেই বার্ন ইউনিটে মানবিকতা দেখছি। আমি সেই মানুষগুলোর জন্য দোয়া করি। ইমামের আরেক ছেলে ফাহিম বলেন, এ মর্মান্তিক ঘটনায় যদি তিতাসের কোনো ভুল থেকে থাকে তাহলে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হোক। যাতে আমাদের মত অন্য কাউকে তার স্বজনদের হারাতে না হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com