Logo
HEL [tta_listen_btn]

তিনজন প্রতিনিধির দন্ধে  উত্তপ্ত বন্দর

তিনজন প্রতিনিধির দন্ধে  উত্তপ্ত বন্দর

বন্দর সংবাদদাতা:
পরস্পরকে খুনি, ভূমিদস্যু ও নাশকতাকারী উল্লেখ করে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন নারায়ণগঞ্জের বন্দরের তিন জনপ্রতিনিধি। একদিকে আছেন মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুল অন্যদিকে জেলা পরিষদের সদস্য হাজী আলাউদ্দিন। পরস্পরকে আক্রমণ করে দেয়া বক্তব্যকে ঘিরে জনগণের মধ্যে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। তিনজনের বিরুদ্ধেই অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে। তিন জনপ্রতিনিধির পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে খুন, ভূমিদস্যুতার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন অনেকে। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গভীর তদন্ত করলে জানা যাবে পরস্পরকে নাশকতাকারী, খুনি, ভূমিদস্যু ও টেন্ডারবাজ উল্লেখ করার সত্যতা ও রহস্য। তবে তিনজনের বিরুদ্ধেই একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে থানায়। গত ২৭ সেপ্টম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পরিষদের সদস্য হাজী আলাউদ্দিনকে কুখ্যাত খুনি ভূমিদস্যু ও টেন্ডারবাজ অ্যাখ্যা দেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুল। সংবাদ সম্মেলনে আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার পর নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তোলা হয়। বলা হয়, কুড়িপাড়া বাজারে থ্রি-নট-থ্রি (শান্তি সংঘ) নামে কালো পোশাক পরিহিত একটি বাহিনী তৈরি করেছেন জেলা পরিষদ সদস্য আলাউদ্দিন। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, হত্যা, টেন্ডারবাজি, ভূমিদস্যুতাসহ বিভিন্ন অপকর্মের মামলা রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। দীর্ঘদিন জেল খেটে এসে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কাউন্সিলর বাবুল। এদিকে ৩ অক্টোবর বন্দরের মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন ও কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুলের বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেলা পরিষদের সদস্য আলাউদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনকে খুনি এবং কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুলকে নাশকতার আসামি উল্লেখ করে আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করা হয়। ভূমিদস্যুতা, গ্যাস সংযোগের নামে অর্থ আদায়, মসজিদ-মাদ্রাসার বৈধ কমিটিকে বাদ দিয়ে নিজের মনগড়া কমিটি গঠনসহ নানা অভিযোগও তোলা হয় তাদের বিরুদ্ধে। লিখিত বক্তব্যে আলাউদ্দিনের ছেলে এড মামুন সিরাজুল মজিদ দাবি করেন, স্বাধীনতা বিরোধী কুখ্যাত খুনি রাজাকার রফিকের চেয়ারম্যান মাকসুদের বাবা পরিবার খুন, ভূমিদস্যুতা, অর্থ আত্মসাতের মত জঘন্য অপরাধের ভয়াবহতা এরশাদ শিকদারকেও হার মানায়। রাজাকার রফিকের ছেলে মাকসুদ চেয়ারম্যানও তার বাবার মতই। মাকসুদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অবৈধ গ্যাস সংযোগের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে বলা হয়, চেয়ারম্যান মাকসুদ ধামগড়, মুসাপুর ইউনিয়ন ও নাসিক ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের জনগণকে ১২ হাজার অবৈধ গ্যাস লাইন দেবার কথা বলে ৭২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া চেয়ারম্যান মাকসুদের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা ও কবরস্থানের বৈধ কমিটি বাদ দিয়ে নিজের মনগড়া কমিটি গঠনের অভিযোগ করেন হাজী আলাউদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে করা অভিযোগ সব অস্বীকার করে বন্দরের মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন বলেন, আপনারা তো সবই বোঝেন। এইগুলা সবই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা প্রচারণা। আলাউদ্দিন তার বিভিন্ন খারাপ উদ্দেশ্য ও আধিপত্য বিস্তারের জন্য এসব করে থাকে। এইরকম কাজ সে বহুবার করছে। সে নিজেই অনেক জায়গা-জমি দখল করেছে। তার নামে কয়েকটা মামলা পেন্ডিং আছে। জেলা পরিষদের সদস্য আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলে মাকসুদ চেয়ারম্যান বলেন, আলাউদ্দিন তো সব বিষয়ে ওস্তাদ। খুন, ভূমিদস্যুতা, হুমকিসহ সব বিষয়ে আছে সে। বন্দরে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় আলাউদ্দিন তার ছেলে ও সহযোগীরা। খুন, হুমকি থেকে শুরু করে সবধরণের অপরাধের সাথে তারা জড়িত। সোনারগাঁয়ের নয়াপুরের এক সাংবাদিকরেও সে মারছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com