Logo
HEL [tta_listen_btn]

লালমনিরহাটে কিশোরী গণধর্ষণ প্রধান আসামী ফতুল্লায় গ্রেফতার

লালমনিরহাটে কিশোরী গণধর্ষণ প্রধান আসামী ফতুল্লায় গ্রেফতার

ফতুল্লা সংবাদদাতা :
লালমনিরহাটে এক কিশোরী(১৫) গণধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি ফতুল্লা থেকে গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীর নাম নুর মোহাম্মদ নুরু (৪০)। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কালীগঞ্জ থানার একটি দল ফতুল্লা পুলিশের সহায়তায় আসামীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। ৬ অক্টোবর লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা এলাকায় কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয়। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, পাটগ্রাম উপজেলার এক কিশোরী ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় লালমনিরহাটগামী আন্তঃনগর করতোয়া এক্সপ্রেস ট্র্রেনে কাউনিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। ট্রেন কালীগঞ্জের কাকিনা স্টেশনে দাঁড়ালে ওই কিশোরী নাস্তা করতে নামে। সেসময় রকি (২২) নামে পরিচয় দিয়ে অটোরিকশার চালক কিশোরীর কাছে জানতে চান সে কোথায় যাচ্ছে। তখন মেয়েটি তাকে কাউনিয়া যাচ্ছে বলে জানায়। রকিও নিজেকে কাউনিয়ার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন। এরই মধ্যে ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেলে রকি অটোরিকশায় করে কাউনিয়া যাবেন এবং সেই অটোরিকশায় মেয়েটিকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রতি দেন। প্রতিশ্রতি মোতাবেক রকি ওই কিশোরীকে নিয়ে কাউনিয়া যাওয়ার কথা বলে নিজের অটোরিকশায় বিভিন্ন সড়ক ঘুরে মধ্য রাতে একটি সেচ পাম্পের নির্জন ঘরে নিয়ে যান। সেখানে রকি ও তার তিন বন্ধু মিলে কিশোরীকে গণধর্ষণ করেন। বিষয়টি দেখে ফেলে অপর একটি গ্রুপের তিন যুবকও কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরদিন ৭ অক্টোবর দুপুরে মুখ না খোলার শর্তে কিশোরীকে মুক্তি দেন বখাটেরা। পরে অসুস্থ অবস্থায় কিশোরী পথ ভুল করে চলার পথে স্থানীয়রা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মেয়েটি তাদের কাছে বিষয়টি খুলে বলে। তারপর স্থানীয়দের সহায়তায় এক গ্রাম্য পুলিশ সদস্যের বাড়িতে আশ্রয় নেয় মেয়েটি। ৮ অক্টোবর রাতে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মাতবররা বৈঠকে বসে ধর্ষণকারী যুবকদের শনাক্ত করে মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা আদায় করেন। তবে কিশোরীর অভিযোগ, টাকাগুলো তাকে না দিয়ে নিজেদের পকেটেই রাখেন মাতবররা। জরিমানার টাকা কিশোরীকে না দিয়ে উল্টো তাকে হুমকি দিয়ে পথ খরচ দুই হাজার টাকা দিয়ে মাতবররা তাকে পাঠিয়ে দেন বলেও অভিযোগ করে মেয়েটি। পরে ৯ অক্টোবর রাতে স্থানীয়দের মাধ্যমে কিশোরী কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবে আশ্রয় নেয়। প্রেসক্লাবে ঘটনার লোমহর্ষক এ বর্ণনা শুনে সাংবাদিকরা থানায় জানায়। এর পরপরই কিশোরীকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ এবং পরে মেয়েটির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত করে ওইদিন রাতেই মূলহোতা অটোচালক রকিকে আটক করা হয়। রকির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই কিশোরী বাদী হয়ে সাতজন ধর্ষক, ইউপি সদস্যসহ ১০ জনের নাম উল্লেখসহ আরও চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা নেয় পুলিশ। এদিকে শুক্রবার কালীগঞ্জ থানার একটি দল ফতুল্লা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে নুরুকে গ্রেফতার করে রাতেই কালীগঞ্জ থানায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য রওনা দিয়েছে । এ নিয়ে মামলার এজাহার নামীয় ১০ আসামির মধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মূলহোতা রকির পরে গণধর্ষণ মামলার এক নম্বর আসামি নুরুকে ফতুল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে। মামলার প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদ নুরু কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের তালুক বানিনগর এলাকার মজিবর রহমান মজির ছেলে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com