Logo
HEL [tta_listen_btn]

নৌপথে কুয়াশায়  বেড়েছে ডাকাতির ঘটনা

নৌপথে কুয়াশায়  বেড়েছে ডাকাতির ঘটনা

ভ্রাম্যমান সংবাদদাতা:
নারায়ণগঞ্জকে ঘিরে রয়েছে শীতলক্ষ্যা, মেঘনা, ধলেশ^রী ও বুড়িগঙ্গাসহ বেশ কয়েকটি নদী। নানা পণ্য পরিবহনসহ যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল হয়ে থাকে এ নৌ পথগুলোতে। বর্ষায় ভরাজলের টইটুম্বরে ঝড়ের কবলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে প্রাণহানীর, আর শীত মৌসুমে ভয়ঙ্কর হতে থাকে ডাকাতের মুখোমুখির।বর্তমানে বাড়ছে শীত, সাথে কুয়াশা। আর এই শীত নামার সাথে সাথে বেড়েছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন নৌ পথে ডাকাতির ঘটনা। শীতলক্ষ্যা, মেঘনা, ধলেশ^রী ও বুড়িগঙ্গা নদীর কয়েকটি স্থানে প্রায়ই নৌ ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া কিংবা বিভিন্ন স্থান থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্যেশ্যে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহি লঞ্চ গুলো ডাকাতের কবলে পড়ছে বেশি।মেঘনা নদীতে গজারিয়ার এলাকায় একই স্থানে একাধিবার ডাকাতের কবলে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। সর্বশেষ গত ২১ ডিসেম্বর ডাকাতের কবলে পড়ে যাত্রীবাহি লঞ্চ এমবি শাহ আলী। গত ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা চাঁদপুরের মতলবগামী এমভি হৃদয় যাত্রীবাহী লঞ্চে দ্বিতীয় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এর আগে একই স্থানে গত ১৯ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত ১৩ অক্টোবর গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসমান তিনটি তেলের পাম্পে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।এদিকে নৌ পথে ডাকাতির বেড়ে যাওয়ায় আতংকিত যাত্রী ও লঞ্চ মালিকরা। পাশাপাশি আতংকে রয়েছে নৌপথের মালামাল পরিবহনকারী ব্যবসায়িরা। ডাকাতির পর এসব ঘটনায় লঞ্চ মালিক বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলেও আসামিদের গ্রেফতারের খবর কম। এক-দুইজন ডাকাত সদস্য গ্রেফতার হলেও বাকিরা রয়ে যাচ্ছে অধরা। মামলার আসামীরা বেশীর ভাগই নারায়ণগঞ্জের নদী সীমানা এলাকার।২১ ডিসেম্বর এর ঘটনা সম্পর্কে এমভি শাহআলী-৪ লঞ্চের মালিক আক্তার হোসেন জানান, দুটি স্পিডবোটে করে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও রামদাসহ ডাকাতরা লঞ্চটির গতিরোধ করে লঞ্চে উঠে পড়ে। এ সময় প্রায় ১৫-২০ জন ডাকাত যাত্রীদের জিম্মি করে মারধোর করে এবং বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে।তিনি আরও জানান- ‘ডাকাতি করে চলে যাওয়ার সময় যাত্রীরা বিল্লাল হোসেন নামে এক ডাকাতকে ঝাপটে ধরে রাখে। আর অন্য ডাকাতরা স্পীডবোট নিয়ে মাওয়ার দিকে চলে যায়।এদিকে আটককৃত ডাকাত নারায়ণগঞ্জ-সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদি নতুন মহল্লার আক্তার খানের ছেলে বিল্লাল হোসেন তার সহযোগি অন্য ডাকাতদের নাম পরিচয় পুলিশকে জানায়। তারা হলো- ফরিদ গাজী,রাজু সরকার কবির খালাসী চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা নবীনগর এতিম খানা এলাকার আমির জসিম, মহসিন সরকার ূ আব্দুল্লাহ , মুরাদ,খালেক, রাব্বী , জুবায়ের, নুর ইসলাম, রাঙ্গা বাচ্চু,ইব্রাহিম সহ অজ্ঞাত আরো ৩ থেকে ৪জন। পরে এদের মামলার আসামী করা হয়।গত ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা চাঁদপুরের মতলবগামী এমভি হৃদয় যাত্রীবাহী লঞ্চে দ্বিতীয় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এর আগে মেঘনা নদীর একই স্থানে গত ১৯ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ‘এমভি মকবুল-২’ যাত্রীবাহী লঞ্চে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।মুন্সিগঞ্জের ওই বিপদজনক এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া মিয়াজী জানান, বারবার নৌ ডাকাতির ঘটনায় আমরা আতংকিত। যতবারই ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, ততবারই মামলা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়না আসামী গ্রেফতারে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রæততম সময়ের মধ্যে এসব আসামীদের আটক করে ব্যবস্থা নিবে।গত ১৩ অক্টোবর গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসমান তিনটি তেলের পাম্পে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা স্পিডবোটে পাম্পে এসে নিজেদের কোস্টগার্ডের লোক পরিচয় দিয়ে তেল নেয়ার কথা বলে কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও মারধর করে নগদ টাকা ও মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।বন্দরের লক্ষণখোলার ওটি নাফিম ফ্লোটিং অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার ফজলে রাব্বী জানান, রাত ৩টার দিকে ৮-১০ জনের একটি ডাকাত দল স্পিডবোটে পাম্পে আসে। লাইফ জ্যাকেট পরিহিত ডাকাতরা নিজেদের কোস্টগার্ডের লোক পরিচয় দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে জ্বালানি তেল বিক্রির এক লাখ ২৫ হাজার টাকা, সিসি ক্যামেরার মনিটর ও মোবাইল সেট নিয়ে যায়।একই কায়দায় ঢাকেশ^রী এলাকার গোদনাইল ফ্লোটিং পাম্পে হানা দেয় তারা। দুর্বৃত্তরা পাম্প অপারেটর শান্ত ও তাকে মারধর করে ক্যাশবাক্স ভেঙে ৫৫ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল সেট এবং সাড়ে ৪ ভরি ওজনের একটি রূপার চেইন ছিনিয়ে নেয়।এর আগে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর মোহনায় তিনটি বাল্কহেডে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় ডাকাতরা ১৫ জন শ্রমিককে কুপিয়ে নগদ অর্থ, মোবাইল ও জাহাজের তেলসহ মূল্যবান সামগ্রী লুটে নিয়েছে।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থা নারায়ণগঞ্জ জোনের চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান খান বাদাল জানান, যে হারে ঘন ঘন ডাকাতি বেড়েছে, গত ২৫ বছরে এমনটা হয়নি। আগে শুধু থানা পুলিশ ছিলো, এখন তো নৌ পুলিশও কোস্ট গার্ড আছে, সাথে থানা পুলিশের ফাঁিড়র সংখ্যাও বেড়েছে। এর পরও এমন ঘটনায় আমরা শংকিত, বিস্মিত।নৌ পুলিশের এসপি কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, মূলত শীতকালে কুয়াশার কারণে নৌপথে ডাকাতি বেড়ে যায়। ডাকাতরা নিজেদের সহজেই লুকিয়ে রাখতে পারে এবং নৌযানগুলোও ধিরে চলাচল করে। তার পরেও আমরা তৎপর রয়েছি। নৌপথে ডাকাতিরোধে প্রয়োজনে যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়ন করা হবে। আমরা ডাকাতদের ধরতে কাজ করে যাচ্ছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com