Logo

চাষাড়ায় ওলামা পরিষদের সমাবেশ

চাষাড়ায় ওলামা পরিষদের সমাবেশ

নিজস্ব সংবাদদাতা:
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎআইভীর বিরুদ্ধে সমাবেশ করেছে ওলামা পরিষদের ব্যানারে হেফাজত ইসলামের নেতা কর্মীরা। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক মাসদাইর কবর স্থান হাফিজিয়া মাদরাসা বিলুপ্তি, চাষাড়া বাগেজান্নাত মাদরাসায় হস্তক্ষেপ এবং মাওলানা আব্দুলআউয়ালের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষ পর্যন্ত মেয়র আইভীবিরোধী সমাবেশে রূপ নেয়। সমাবেশে আইভীর কালহাত ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও স্লোগান দেয়া হয়েছে।  সমাবেশে বক্তারা মসজিদ, মাদরাসা ও মাওলানাআউয়ালের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদের পাশাপাশি হকার উচ্ছেদ, আগামী সিটিনির্বাচন নিয়ে কথা বলেন। এই সময় তারা মেয়রের ধর্মীয় বিশ্বাস, পোশাক নিয়েও কটাক্ষ করেন। মেয়রেরনির্বাচনী প্রচারণার সেই ছবি কে মন্দিরে দেবতার সামনে মাথায় সিঁদুর দিয়ে প্রণাম করারও অপব্যাখ্যা দেন।  শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুম্মা চাষাড়া বাগেজান্নাত মসজিদের সামনের সড়কে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে হকার নেতাদের পাশাপাশি শহর-ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জের ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদেরউপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সিটি এলাকার বাহিরের থেকেও লোকজনকে আনা হয় এই সমাবেশে।  মহানগর ওলামাপরিষদের সভাপতি মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদানীনগর মাদরাসার মোহতামিম ও নারায়ণগঞ্জ হেফাজতইসলামের সাধারণসম্পাদক মুফতি বশীরউল্লাহ।  আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা ওলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন কাসেমী, সহসভাপতি মুফতি মাসুমবিল্লাহ, সহসভাপতি মাওলানা আব্বাসী, মহানগর ওলামা পরিষদের সাধারণসম্পাদক মাওলানা হারুন অর রশিদ, সিনিয়র সহসভাপতি মুফতি কবির হোসাইন, সহসভাপতি কামালউদ্দিন দায়েমী প্রমুখ। মেয়র আইভীর উদ্দেশ্যে মুফতি বশিরউল্লাহ বলেন, মন্দিরে দেবতার সামনে মাথায় সিঁদুর দিয়ে প্রণাম করা যেমন শিরক তদ্রুপ ভাবে মাজারেও সেজদা করা শিরক। যিনি মন্দিরে দেবতার সামনে মাথায় সিঁদুর দিয়ে প্রণাম করেছেন তিনি মুসলমান থেকেও মুসলমানের কাতারে নেই। যদি কেউ অমুসলিমদের বৈশিষ্ট্য গ্রহণ করে নামাজ, রোজা ও হজ্ব পালন করে সে মুশরিক হয়ে যায়। অতএব সেই ধারায় আমাদের মেয়র এই কাজ করার জন্য ইসলামের গন্ডি থেকে শিরকের গন্ডিতে পৌছে গিয়েছে।  জেলাওলামা পরিষদের সাধারণসম্পাদক জাকির হোসেন কাসেমী বলেন, বাগেজান্নাত মসজিদের স্থানটি আগে কবরস্থান ছিলো। কবরস্থানের উপরে এই মসজিদটি নির্মাণ হয়েছে। কবরস্থানের উপরে পার্ক হলে মানুষ নাচানাচি করলে উপকৃত হবে নাকি মাদ্রাসা করলে উপকৃত হবে? এটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এর পবিত্রতা রক্ষা করা মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। এখানে মাদ্রাসা আছে এবং থাকবে। পারলে সরকারি অর্থায়নে এই মাদ্রাসাটিকে ১০ তলা ফাউন্ডেশন করে দেন। এতে করে জনগণ আপনার পাশে থাকবে। মহানগর ওলামাপরিষদের সহসভাপতি কামালউদ্দিন দায়েমী বলেন, নারায়ণগঞ্জের মেয়র আপনি আব্দুলআউয়ালের বিরুদ্ধে কথা বলেন। আপনি ফেরদাউসেরবিরুদ্ধে মামলা করতে চান। হেফাজত মরে নাই, ভাববেননা হেফাজত নেতৃত্ব দেওয়ার মত কেউ নাই। বাবুনগরী ও মামুনুল হকের নেতৃত্বে প্রয়োজন হলে আরএকটা নারায়ণগঞ্জে শাপলাচত্বর হবে। আপনাকে শীতলক্ষ্যায় ডুবিয়ে দেওয়া হবে। বাগেজান্নাত মাদরাসার দিকে হাত বাড়ালে এ হাত ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হবে। জেলা ওলামা পরিষদের সহসভাপতি মুফতি মাসুমবিল্লাহবলেন, বারবার মেয়রনির্বাচিত হয়ে আপনার মধ্যে অহংকার চলেএসেছে। মুসলিমদের মনে আঘাত দিয়ে আপনি যাখুশি তাকরলে আমরা তা মেনে নিবোনা। মহানগরওলামা পরিষদের সাধারণসম্পাদক মাওলানা হারুন অর রশিদ বলেন, মেয়র আইভী অনেকউন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। কিন্তু তিনি কয়েকটি কাজের মাধ্যমে সব ভালো কাজগুলোকে শেষ করে দিয়েছেন। মেয়রকে বলতে চাই, এত উন্নয়ন মূলক কাজকরা সত্তে¡ও আপনি মসজিদ-মাদ্রাসায় হাত দিয়েছেন। আপনার সমস্ত উন্নয়ন জনগণ শীতলক্ষায় নিক্ষেপ করবে। জনগণ আপনার এমন উন্নয়ন দেখতে চায়না, যে উন্নয়নের নামে আপনি মসজিদ বন্ধকরতে চান।  সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ফেরদাউসুররহমান আইভীর উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদেরকে নিয়ে বসতে ওনার ভালো লাগেনা। কেন আমরা যদি সামনে যাই। বড়হুজুররা যদি সামনে যায় ওনার গোমটা দেয়া লাগবো। ওনি গোমটাদিতে চায়নাওনি গোমটা খুলে বেটা সাজতে চায়। নামাজও মনে হয় পরেননা। দুইহাতে যে কতটি আঙ্কটি আছে। কোরবানিও করেনা। ধর্মটা ভালো নালাগলে যানগা। কিন্তু ধর্ম নিয়া খেলতে দিবনা। ধর্ম নিয়া আমরা খেলিনা। মন্দিরে ধর্ম ব্যবসা আপনি করেন। মুসলমানের সাথে ধর্ম ব্যবসা আপনি করেন। খোদারকসম আগামী সিটিনির্বাচনে আপনাকে জনগণ উচিত জবাব দিয়ে দিবে। আপনাকে সিটিকর্পোরেশনে ভোটদিয়ে আমাদের প্রতিনিধি বানাইছি। আপনারে মালিক বানাইনাই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *