Logo

আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি হতাশাগ্রস্ত শামীম ওসমান

আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি হতাশাগ্রস্ত শামীম ওসমান

নিজস্ব সংবাদদাতা:
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, বার বার আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি নেতারা এখন হতাশাগ্রস্ত। গত মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেসরকারি একটি টেলিভিশনে টকশোতে তিনি এমন মন্তব্য করেন। আওয়ামী লীগের এই সাংসদ বলেন, ৭৫ এর পর থেকে ’৯৬ পর্যন্ত দেখেছি, ৯৫ এর নির্বাচন দেখেছি, বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিরোধী দলের আসনে বসাইতে দেখেছি। আমার মনে হয় বিএনপির ভেতরে একটা ডিপ্রেশন বা ফ্রাস্টেশন কাজ করছে। কারণ তারা জনগণের পালস্টা ধরতে পারছে না। আল জাজিরার লোকরা আপনাদের দিয়ে একটা ভুল করিয়েছিল। আন্দোলনের সমস্ত রাস্তাকে আপনাদের জন্য ও আমাদের জন্য আপানারা ভোঁতা করে দিয়েছেন। কারণ তিন মাসের জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনটা করেছেন আপনারা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি বলছেন, গণমাধ্যম কথা বলছে না কেন। গণমাধ্যম বলবে কেন? আপনি পলিটিশিয়ান, আপনার সৎ সাহস নিয়ে বলেন না কেন। আপনি বলবেন, আমি বললে আমাকে গ্রেফতার করবে, টর্চার করবে। আল জাজিরার নিউজের মূলহোতা একজন সাইকোপ্যাথ। তাহলে একটা মিডিয়া কীভাবে একটা সাইকোপ্যাথের উপর ভিত্তি করে একটা নিউজ করে দিল। আর যারা এই নিউজটা গ্রহণ করছে আমার মনে হয় তারাও সাইকোপ্যাথ।’ শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি আমার দেশের সেনাবাহিনীকে পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাস করি। যখন ইসরাইল থেকে অস্ত্র কেনার কথা বলেছেন তখন কিন্তু তিনি সেনাপ্রধান হননি। তার আগে হয়েছে এবং ইসরাইল থেকে নয় বরং হাঙ্গেরি থেকে কেনা হয়েছে। কী পরিস্থিতিতে কেনা হয়েছিল সেটা এখন জমা আছে এবং তার দুই ভাই বলছেন কেউ জানেন না। জোসেফের যখন সাজা মওকুফ হয় তখন কিন্তু বাংলাদেশের সব পত্রিকায় এসেছে। জোসেফের সাজা মওকুফ হওয়ার পর তিনি সেনাপ্রধান হয়েছেন। আবার তাদের পরিবারের টিপু আহমেদকে হত্যা করা হয়েছে এবং তার বিচার এখনও পান নাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘তৎকালীন সময়ে ফ্রিডম পার্টি এবং অন্যান্যদের ঘটনাগুলো আমরা দেখেছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর একটা কথা দুই মাস ধরে বলার চেষ্টা করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশ যখন এগিয়ে যায় তখনই ক্ষতি করার জন্য চেষ্টা করে। তিনি সকলকে সতর্ক থাকার আহবা ন জানিয়েছেন। তিনি অনেক দিন পর সতর্ক থাকার কথা বলেছেন। কারণ সেনাবাহিনী, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন আমাদের এক একটা কাঠামো। আমি অবাক হয়ে যাই যখন আমার দেশের মানুষ অন্য দেশের একটা নিউজে খুশি হয়ে যায়।’ শামীম ওসমান বলেন, ‘যারা সচেতন তাদের একটা কথা বলতে চাই, বর্তমান সেনাপ্রধান, ডিজিএফআই এর চীফ, এনএসআই এর চীফ ও আইজিপি তাদের নিয়ে কথা হতো তাহলে মনে করতাম এটা সরকারকে আঘাত করার একটা চেষ্টা, হালকা একটা প্ল্যান। কিন্তু আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন বিদেশ থেকে বসে দুইজন এক্স আর্মি অফিসার ও কয়েকজন সাংবাদিক বর্তমান সেনাপ্রধান, ডিজিএফআই এর চীফ, এনএসআই এর চীফ ও আইজিপি এদের ও অতীতের সবাইকে নিয়ে কথা বলছে। এরা কিন্তু বর্তমানকে বলছে না, এরা অতীতের অবসারপ্রাপ্তদেরকে টার্গেট করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাদের সাংবাদিক বলবো কি না জানি না। কারণ বিভিন্ন নারী সাংবাদিকদের নিয়ে যে ধরণের অশ্লীল ভাষায় তারা কথা বলেছেন, তাতে আমার রুচিতে বাঁধে। আমার বিরুদ্ধেও বলেছে আমি নাকি ভারত থেকে ৬ হাজার লোক নিয়ে এসে অস্ত্র ট্রেনিং দিচ্ছি। এটা কোনো বিষয় না। এদের কথার সাথে আল জাজিরার কথা মিলে যায়। তারা আবার কালকে ঘোষণা দিচ্ছে, পরের পর্ব কী হবে সে বিষয়ে আল জাজিরার সাথে তাদের কথা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এরা ষড়যন্ত্রটা অনেক আগে থেকে শুরু করেছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়া ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল আকবরদের নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। কারণ তারা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন। ষড়যন্ত্র যারা রুখে দেয় তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রগুলো হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *