Logo

মর্গ্যান স্কুলে মমতাজ বেগমভবন উদ্বোধন

মর্গ্যান স্কুলে মমতাজ বেগমভবন উদ্বোধন

নিজস্ব সংবাদদাতা:
ভাষা সৈনিক মমতাজ বেগমের নামে নারায়ণগঞ্জের মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় মর্গ্যান স্কুল মিলনায়তনে নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের ও স্কুল কমিটির চেয়ারম্যান এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। আরো উপস্থিত ছিলেন, মমতাজ বেগমের নাতনী জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা ইসলাম রুপা, নাতি ইঞ্জিনিয়ার রওনকুল ইসলাম, নাতনী অতিরিক্ত ট্যাক্স কমিশনার ডা. নাশিদ রিজওয়ানা মুনির, জেলা জাসদ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোহর আলী চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন বলেন, মমতাজ বেগমের নামে একটি ভবন করতে পেরে আমরা সম্মানিত হয়েছি। তার তেজস্বিতা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। মমতাজ বেগমের নাতনী ডা. ফারজানা ইসলাম রুপা বলেন, মমতাজ বেগম ভাষার জন্য, দেশের মানুষের জন্য তার জীবন বিলিয়ে দিয়ে গেছেন। তাকে মুল্যায়ন করতে হলে প্রায় সত্তর বছর আগের এ দেশের সমাজ, পরিবার, রাষ্ট্রের পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখতে হবে। সেসময়ে একজন নারী পারিবারিক বাধা, সামাজিক বাধা তুচ্ছ করে বের হয়ে রাষ্ট্রের চাপিয়ে দেয়া ভাষার বিরুদ্ধে নিজের মাতৃভাষা রক্ষার দাবীতে আন্দোলন করছে এটি অনেক বড় ব্যাপার। তিনি শুধু নিজ স্কুলের ছাত্রীদের নিয়েই আন্দোলন করেননি। সেসময়ের ছাত্র নেতাদেরও নিয়মিত বুদ্ধি, পরামর্শ দিয়েছেন উজ্জীবিত করেছেন যেটি ভাষা সৈনিক শফি হোসেন খান বলে গেছেন। মমতাজ বেগমের নাতি সিলেট গ্যাস ফিল্ডের জিএম ইঞ্জিনিয়ার রওনকুল ইসলাম, উনি একমাত্র ভাষা সৈনিক যিনি দীর্ঘ সময় কারাবরণ করেছেন। ভাষা আন্দোলন করে কারাবরনের কারনে তার স্বামী তাকে ত্যাগ করেছিলেন। ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার দাবীর আন্দোলন না এটা বঞ্চনার বিরুদ্ধেও আন্দোলন। প্রসঙ্গত, একুশে পদপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক মমতাজ বেগম ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ও মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি স্কুলের ছাত্রীদের নিয়ে ভাষার দাবীতে নারায়ণগঞ্জে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। এবং চাষাড়া পুলিশ ফাড়ির সামনে থেকে গ্রেফতার হন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *