Logo
HEL [tta_listen_btn]

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
লাল-সবুজের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে হৃদয়ে ধারণ করে প্রতি বছর হাজারো মেধাবী বাংলাদেশী শিক্ষার্র্থী উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে ইউরোপের অন্যতম শিক্ষা সহায়ক দেশ জার্মানিতে যাত্রা করে। উচ্চ শিক্ষা এবং গবেষণা কার্যক্রম শেষে দেশ সেবার মহান ব্রত নিয়ে স্বদেশে ফিরে এসে এ সকল শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবনি আলোয় বিকশিত করে আমাদের দেশকে। দুর্ভাগ্যক্রমে বিশ্বব্যাপী করোনার মহামারীর প্রভাবে বাংলাদেশস্থ জার্মান দূতাবাসে ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম কয়েক স্তরে/পর্যায়ে দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পেইন, ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাসের প্রতি বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধ এবং সর্বপরি ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাস-শিক্ষার্থীদের সমস্যা অনুধাবন করে গত ১৭ই মে, ২০২১ থেকে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করে। এ বিষয়ে ঢাকাস্থ জার্মান রাষ্ট্রদূত টুইট করে, শিক্ষার্থীদের সমস্যা অনুভব করছেন বলে উল্লেখ করেছেন। তবে, অত্যন্ত দুঃখ ও হতাশ মনে আমরা শিক্ষার্থীরা মিডিয়া বরাবর জানাচ্ছি যে, ১৭ই মে, ২০২১ থেকে কার্যক্রম শুরুর মাত্র ১ মাস পর জুন মাসের ৩য় সপ্তাহে আবারো ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সামাজিক যোগাগোগ মাধ্যম বিশেষ করে টুইটারে এক রাতে হাজারো টুইটের পর ঢাকাস্থ জার্মান রাষ্ট্রদূত টুইট করে ভিসা সংক্রান্ত বিলম্বের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এবং কর্মী সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করেন। একই সাথে নতুন টিম গঠন করে শিক্ষার্থী ভিসার বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নিবেন বলে জানান। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে, উক্ত টুইটের কিছুদিন পরেই তিনি ঢাকাস্থ জার্মান রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে রিটার্ড করেন। এর মাঝে কেটে যায় প্রায় ৪০ দিন। বিভিন্ন সময়ে ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে দূতাবাসে ফোন করলে, প্রতিউত্তরে লক-ডাউনের জন্য ভিসা কার্যক্রম বন্ধ বলে জানানো হতো। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে এবং মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য সকল শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকতারা বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে গত ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপি লকডাউন চলাকালীন সময়ে ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রমকে বিশেষ সেবার আওতায় এনে সকল দূতাবাস খোলা রাখার জন্য ও ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে। মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের যাত্রাপথে কোন প্রতিবন্ধকতা যেন না হয় সে বিষয়ে পুলিশ কমিশনারকে জানিয়েছেন বলেও টুইট করেন। একই সাথে ইতোমধ্যে শিক্ষাথীদের জন্য তড়িৎ ব্যবস্থাপনায় টিকার ব্যবস্থাও করেন। এরুপ শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রমের জন্য আমরা বিদেশগামী শিক্ষার্থীরা মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তাদের ভূয়সী প্রশংসা করছি এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
তবে, আবারো দুঃখ ও হতাশ মনে জানাচ্ছি যে, সরকারের এরুপ আন্তরিক প্রজ্ঞাপনের পরও শিক্ষার্থীরা লক-ডাউন চলাকালীন সময়ে দূতাবাস থেকে ভিসা সংক্রান্ত ইন্টারভিউ এর জন্য কোন ধরনের ফোন বা ই-মেইল পায়নি। এই পরিস্থিতিতে, ২৫ জুলাই তারিখে, জার্মান দূতাবাসে ফোন করা হলে একজন শিক্ষার্থীকে জানানো হয় যে, লক-ডাউনের কারনে বাংলাদেশী কর্মীরা অফিস করছেন না !!!!! তবে কনসুল্যার সহ অন্যান্য সকল জার্মান কর্মীরা অফিস করছেন। তাই লক-ডাউন শেষ হলেই শিক্ষার্থী ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এরুপ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা বেশ হতাশ হয়ে পড়ছে। উল্লেখ্য যে, বেশীরভাগ শিক্ষার্থীর অন ক্যাম্পাস ক্লাস হওয়ায় অক্টোবর, ২০২১ এর মধ্যে জার্মানিতে থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সরকারের প্রজ্ঞাপন মেনে লক-ডাউন চলাকালীন সময়ে ঢাকাস্থ দূতাবাসে বাংলাদেশী কর্মীদের অফিস করার জন্য প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা ও ব্যবস্থা গ্রহন বিষয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীরা জনাব ফাইয়াজ মুরশিদ কাজী, মহাপরিচালক, পশ্চিম ইউরোপ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর বরাবর চিঠি দিয়েছে। গত ১ বছরে প্রায় সহ¯্রাধিক বাংলাদেশী শিক্ষার্থী জার্মানির বিভিন্ন পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হয়ে গত ৩ সেমিষ্টার (সামার ২০২০, উইন্টার ২০২০/২১, সামার ২০২১) অনলাইনে ক্লাস করছে (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জরিপ অনুযায়ী)। ইতোমধ্যে প্রায় প্রত্যেকেই বøক একাউন্টের ১১,০০,০০০/- (এগারো লক্ষ টাকা) জমা রেখেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে অনেকেই কয়েক লক্ষাধিক টাকা টিউশন ফিও জমা দিয়েছে। তাই, প্রায় সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী ভিসা সাক্ষাৎকার ও ভিসা প্রাপ্তির প্রত্যাশায় থাকলেও আগামী লকডাউন এই কার্যক্রমে বেশ প্রভাব সৃষ্টি করবে। তাই, ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাসের ভিসা সেকশনের কার্যক্রম চলমান এবং দ্রæত করার জন্য ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাসের পক্ষ থেকে সঠিক কর্মপরিকল্পনা জানার দাবি জানাচ্ছে ভিসার জন্য অপেক্ষমান সহ¯্রাধিক বাংলাদেশী শিক্ষার্থী। একই সাথে অবশ্যই সরকারের প্রজ্ঞাপন মেনে লক-ডাউন চলাকালীন সময়ে ঢাকাস্থ দূতাবাসে বাংলাদেশী কর্মীদের কাজ পরিচালনা করার দাবি জানানো হচ্ছে।
জার্মানিতে গত ৩ সেমিস্টার অনলাইন ভিত্তিক পাঠ্যক্রম পরিচালিত হলেও আগামী সেমিস্টার থেকে জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসরুম ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমতাবস্থায়, নিয়মিত বাংলাদেশস্থ জার্মান দূতাবাসের কার্যক্রম পরিচালিত না হলে যথাসময়ে ভিসা পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। ফলাফল স্বরুপ, বিশ্বাবিদ্যালয় প্রশাসন হতে শিক্ষর্থীদের ছাত্রত্ব বাতিলের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এমতাবস্থায়, হুমকির মুখে পড়বে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন ও ক্যারিয়ার। আশাহত হবে সহ¯্র পরিবার, ভেঙে পড়বে শিক্ষার্থীদের মনোবল, দেশ হারাবে সম্ভাবনাময়ী গবেষকদের। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাসের ভিসা সেকশনের কার্যক্রম দ্রুত করা অতিব জরুরি।
জার্মানিতে শিক্ষা ব্যবস্থা থিওরি, প্র্যাকটিক্যাল ও ইন্টার্নশিপের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে থিওরি ক্লাস অনলাইনে পরিচালিত হলেও প্র্যাকটিক্যাল এবং ওয়ার্কশপ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানে স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করতে হয়। তাই, শুধুমাত্র থিওরি ক্লাসে অংশগ্রহন করে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ একেবারেই ক্ষীণ। তাই শিক্ষার্থীগণের বেশিরভাগ বিষয়ের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহন করা সম্ভব হচ্ছে না। লাইব্রেরিতে প্রবেশ করার সুযোগ না থাকায় রিসার্চ ভিত্তিক অধ্যয়ন থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা। এমতাবস্থায় শুধুমাত্র ভিসা জটিলতার কারনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময়ী এ মেধাবী শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনেক শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহন করছে, ইন্টারনেট কানেকশনের সমস্যার কারনে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস লেকচার যথাযথভাবে বুঝতে পারছে না। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রেজেন্টেশন ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডর্মেটরি এবং স্বাস্থ্য বীমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থীদেরকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমান টাকা বাংলাদেশ থেকে পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে করে তারা প্রাপ্ত সুবিধাদি ভোগ করতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দীর্ঘ দিন অপেক্ষার পর ভিসা সংক্রান্ত স্বাক্ষাৎকার পাওয়ার বিষয়ে ক্রমাগত অনিশ্চয়তা এবং বিলম্বের কারনে শিক্ষার্থীরা মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে অনেক অভিভাবকবৃন্দ শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন, যার অন্যতম কারন আইএলটিএস। অনেক শিক্ষার্থী ৫.৫ আইএলটিএস ফলাফল দিয়ে ভর্তি হয়ে অনলাইনে ক্লাস করছে। দূতাবাসের নিয়মেও আইএলটিএস ৫.৫ ফলাফল গ্রহনযোগ্য ছিল। গত মে মাস থেকে হঠাৎ করেই এম্বাসি আইএলটিএস ৫.৫ গ্রহন করছে না। অন্যদিকে লকডাউন থাকায় আএলটিএস পরীক্ষাও হচ্ছে না। এমতাবস্থায় ১ বছর অনলাইনে পড়াশোনার পরও শুধুমাত্র এম্বাসির হঠাৎ ডিসিশনের কারনে অনেকের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। আমরা এখনো দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ভিসা প্রত্যাশী অপেক্ষারত বাংলাদেশস্থ জার্মান শিক্ষার্থীদের সার্বিক দিক বিবেচনা করে সকল বিষয়ে সমাধানের জন্য বাংলাদেশস্থ জার্মান দূতাবাস গঠনমূলক সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থী ভিসা কে দ্রæত ব্যবস্থানার মাধ্যমে কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com