Logo
HEL [tta_listen_btn]

সেই ওমর ফারুক হাসপাতালে ভর্তি

সেই ওমর ফারুক হাসপাতালে ভর্তি

নিজস্ব সংবাদদাতা:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে করোনাভাইরাসের ‘তিন ডোজ’ টিকা নেওয়া নারায়ণগঞ্জের যুবক ওমর ফারুক (২৪) এখনো সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে। এর আগে ফতুল্লার ভ‚ঁইগড় এলাকার সৌদীগামী ওই যুবককের বাসা থেকে মেডিকেল টিমের সদস্য পরিচয় তুলে নেয়ার পর তার চিকিৎসা শুরু হয়। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শেখ ফজিলাতুন্নেছা কনভেনশন সেন্টারে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। ডাক্তাররা বলছেন, ওই যুবক সম্পূর্ন সুস্থ আছেন। তার মানষিক চিকিৎসার তদন্ত হচ্ছে। এক সাথে ‘তিন ডোজ’ টিকা নেয়ার ঘটনা আদৌ সত্য কিনা তার জন্য ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওমর ফারুক ফতুল্লার ভ‚ঁইগড় এলাকার জামাল হোসেন প্রধানের ছেলে। ওমর ফারুকের ৪ বছর বয়সী এক ছেলে আছে। তাঁর বাবা পেশায় সিএনজি চালক। সোমবার (২৬ জুলাই) ওমর ফারুক দাবি করেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে তাকে করোনাভাইরাসের ‘তিন ডোজ’ টিকা দেয়া হয়েছে। তার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়। তাকে খুঁজে বের করতে তোড়জোড় শুরু হয়। বুধবার খোঁজ পাওয়ার পর ওই যুবককে একাধিকবার ফোন করে হাসপাতালে যেতে বলে। কিন্তু সে না গিয়ে ফোন বন্ধ করে দেয়। পরে দুপুরে ফতুল্লার ভ‚ঁইগড়ে মেডিক্যাল টিম এসে তাকে তুলে নিয়ে যায়। বিএসএমএমইউ’র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ নজরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বলেন, ‘ওমর ফারুকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তিন ডোজ টিকা নেয়ার কথা বললেও তার হাতে কোনো চিহ্ন নেই। সাধারণত এক ডোজ টিকা নিলেই সামান্য জ্বর, সর্দি কিংবা কাশি হতে পারে। কিন্তু তার ভাষ্য অনুযায়ী তিন ডোজ দিয়ে টিকা নেয়ার পরও তার কোনো ধরনের জ্বর-সর্দি-কাশি নেই। ওমর ফারুক নামের এই যুবক মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ কারণে তিন সদস্যের কমিটিতে একজন মানসিক বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।’ একসঙ্গে তিন ডোজ টিকা নেওয়ার এমন খবর মিথ্যা ও গুজব বলে দাবি করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ভিসি অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘অভিযোগকারী’ টিকাগ্রহণকারী ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টার পাশাপাশি এই ‘অপপ্রচারের’ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলছেন বিএসএমএমই। ভিসি বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমি সংশ্লিষ্টদের ডেকেছিলাম। এক ব্যক্তি তিন ডোজ টিকা নিতে পারেন না। এটা সম্ভব না। কারণ নিবন্ধন দেখেই টিকা দেওয়া হয়। এমন ঘটনা ভুল খবর। লোকটি পাগল হতে পারে। সুস্থ মানুষের পক্ষে এমন ঘটনা ঘটানো সম্ভব না। ফারুকের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বুধবার মেডিকেল টিমের সদস্যরা তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেওয়া বলে জানিয়েছেন। এরপর সারা দিন কোনো খবর না পেলেও সন্ধ্যা সাতটার দিকে ওমর ফারুক তাঁর মা রহিমা বেগমকে ফোন করে জানান, তিনি হাসপাতালে আছেন, সুস্থ আছেন। ওমর ফারুকের বোন ফারজানা আক্তার বলেন, তিন ডোজ টিকা নেওয়ার পর তাঁর ভাইয়ের শরীরে হালকা জ্বর ও শরীর ব্যথা হয়েছিল। এছাড়া তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। টিকা নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তাকে বিএসএমএমইউতে যাওয়ার জন্য অনেকবার ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর ভাই ভয়ে ফোন না ধরে পরে ফোন বন্ধ করে রাখেন। পরে বুধবার দুপুরে মেডিকেল টিম পরিচয়ে হাসপাতাল থেকে লোকজন এসে তাঁর ভাই ওমর ফারুককে তুলে নেয়ার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তিন ডোজ টিকা নেওয়ার পরে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যও কেউ আসেনি।’ ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান বলেন, বিষয়টি জানা নেই, তবে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com