Logo

এনসিসিনির্বাচন  মেয়র পদে নতুন মুখ চান সিটিবাসী

এনসিসিনির্বাচন  মেয়র পদে নতুন মুখ চান সিটিবাসী

নিজস্ব সংবাদদাতা :
শোনা যাচ্ছে, আগামী জানুয়ারি মাসে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (এনসিসি) নির্বাচন। সিটি ও পৌর মিলিয়ে টানা ৩বারের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। এ পনেরো বছরে সিটিবাসী তাঁর কাছ থেকে বাড়তি ট্যাক্স ছাড়া আর কিছু পাননি। তাই আগামী নির্বাচনে সিটিবাসী মেয়র পদে নতুন মুখ দেখার প্রত্যাশী।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের মানুষ এখন সুফল পাচ্ছে। একের পর এক ফ্লাইওভার থেকে শুরু করে পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, আন্ডারপাস. টানেল, ব্রিজ, রাস্তা-ঘাট সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। সেই টেকসই উন্নয়ন থেকে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। আসন্ন সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে সর্বমহলে আলোচিত হচ্ছে বিষয়টি। অনেকেই বলছে সারাদেশে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ যেভাবে এগিয়ে চলছে দেশের সবচেয়ে ধনী জেলা হিসেবে পরিচিত এবং সর্বোচ্চ হারে ট্যাক্স দেয়ার পরও নারায়ণগঞ্জ নগরীর টেকসই উন্নয়ন হয়নি। যা হয়েছে তা হচ্ছে ‘ভাওতাবাজী’। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয়েছে সরকারী ও জনগনের ট্যাক্সের টাকা লুটপাট। এমন অভিযোগ নগরবাসীর। নগরবাসীরা জানায়, কিছু বড় বড় বিল্ডিং, মার্কেট আর দু-একটি পার্ক নির্মাণই সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন। আর এগুলোকে হাইলাইট করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাচ্ছে ১৮ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। আর দুই মেয়াদে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে হয়নি আশানুরুপ উন্নয়ণ। বাড়েনি নাগরিক সুবিধা। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এ নিয়েই চলছে আলোচনা ও বিচার বিশ্লেষন। বিগত নির্বাচনের প্রার্থী থেকে শুরু করে খোদ সরকার দলীয় নেতারাও বলছেন আত্মউন্নয়ণ ছাড়া নগরবাসীর উন্নয়নে খুব একটা সফলতা দেখাতে পারেনি বর্তমান সিটি মেয়র আইভী।
২০১৬ সালের সিটি নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রতিদ্ধন্ধিতা করেছিলেন এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী একজন ব্যর্থ মেয়র প্রমাণিত হয়েছেন নগরবাসীর কাছে। অপর মেয়র প্রার্থী বাংলাদেশ গার্মেন্টস টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এড. মাহাবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, দেশের অন্যতম ব্যস্ত শহর নারায়ণগঞ্জ। ২০১১ সালে পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশন করা হয় এই নগরীকে। নগরবাসীর প্রত্যাশা ছিলো একটি আধুনিক নগর উপহার পাবে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছ থেকে। কিন্তু গত ১১ বছরে নাগরিক সুবিধাটাই পায়নি ঠিক ভাবে নগরবাসী। ভালো মানের চিকিৎসার জন্য এখনো রাজধানীমুখী হতে হয়। কখনো তো রাস্তায়ই শেষ নিঃশাস্ব ত্যাগ করতে হয়। তিনি বলেন, নাগরিক সুবিধা অন্য জেলা থেকে পিছিয়ে আছি আমরা। আমরা নামেই একটা সিটি কর্পোরেশনে আছি, কাজে ও মানে আমরা একটা পৌরসভার থেকেও পিছিয়ে। নির্বাচন হয়েছে মূলত টাকার খেলা। ২০১৬ সালে টাকার নির্বাচন হয়েছে নারায়ণগঞ্জে। নির্বাচনে কোটি কোটি টাকার বন্যা বইয়ে দিয়েছে। যেহেতু টাকার নির্বাচন ছিলো, সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন কিভাবে হবে। সাধারণ মানুষ তার মত দিবে কিভাবে? ২০১১ সালে নির্বাচনের কয়েক ঘন্টা আগে বসিয়ে দেয়া বিএনপির প্রার্থী ও জেলা কমিটির আহŸায়ক তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা একটি সিটি মেয়রের সর্ব প্রথম কাজ। থাকতে হবে জনগণের প্রতি মেয়রের দায়বদ্ধতা। নির্বাচনের আগে নগর সাজানোর পরিকল্পনা নিয়ে ইশতেহার থাকলেও, নির্বাচনের পরে যা বাস্তবায়নে তেমন উদ্যোগ থাকে না। সিটি কর্পোরেশন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। মেয়র আইভী সিটি কর্পোরেশনের নাগরিকদের কাঙ্খিত সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। জলবদ্ধতা দূর হয়নি, পরিচ্ছন্ন নগরী হয়নি, মশা মাছির প্রকোপ আছে। শুধু কিছু ফ্ল্যাট তৈরী করেছে। সিটি কর্পোরেশনের কাজ কী শুধু ফ্ল্যাট তৈরী করা? একসময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা, বর্তমান মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ‘বাবার পরিচয় ও বিএনপির একটি অংশের সমর্থনে আজকের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। আমার ৩৮ বছরের রাজনৈতিক জীবনে উনাকে কখনো দেখিনি, আওয়ামী লীগের ব্যানারে কোন আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। তারপরেও এখন আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দেন। এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে মহানগর আওয়ামীলীগকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কর্মী সভা চলছে। এসব কর্মী সভায় বিগত ১৮ বছর ধরে নগরীর দায়িত্বে থাকা মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নিয়ে চরম ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। কর্মী সভায় নেতা-কর্মীরা বলেছেন, নাগরিক সুবিধা, নেতা-কর্মীদের মুল্যায়ন না করলেও ব্যক্তি উন্নয়নে এগিয়ে গেছেন মেয়র। প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছেন ‘চুনকা কুটির’। মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা বলেছেন, ‘মাফ চাই, আইভীর জন্য আর ভোট চাইবো না। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। মনে রাখবেন শেখ হাসিনা থাকলে দেশের উন্নয়ন হবেই হবে। শামীম ওসমান সুস্থ থাকলে সিদ্ধিরগঞ্জ-ফতুল্লা এলাকা আরও অনেক উন্নত হবে। তার করা উন্নয়নের পর উন্নয়ন করার জায়গা থাকবে না। শেখ হাসিনার জন্য জাইকা টাকা দেয় আর উনি (আইভী) বলেন নিজের উন্নয়ন। ৩৪ জনের একটা সিন্ডিকেট সরকারের টাকা লুটপাট করবেন তা হবে না। আইভীর জন্য ভোট চেয়ে ছিলাম, মাফ চাই আর চাইবো না। কয়েক কোটি টাকার মশার-মেশিন ঔষধ আনা হয়েছে, সেটা কোথায় গেলো। সেটাও হজম হইয়া গেছে। রাস্তায় রাস্তায় ময়লার ভাগার। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা সিটি কর্পোরেশনের। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উঠে যায়। এই হচ্ছে ওনার উন্নয়ন। পরিবর্তন চায় নারায়ণগঞ্জবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *