Logo

আইভী’রঅবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক

আইভী’রঅবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক

নিজস্ব সংবাদদাতা:
নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির খোঁজ করতে গিয়ে কেঁচো খুড়তে বেরিয়ে আসছে অজগর। ২০ কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল বাড়িটি তৈরী করা হয়েছে অবৈধ কালো টাকায়। এই বাড়ির বিপুল টাকার উৎস মেয়র আইভী ও তার পরিবারের বাকি ৪ ভাই বোনের মধ্যে কারোরই কোন ব্যক্তিগত আয়কর রিটার্ণ দাখিল করেননি। ফলে এ টাকার উৎস অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুদক। এনিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) জাতীয় দৈনিক দেশ রূপান্তর ও ভোরের পাতায় বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এদিকে সংবাদ প্রকাশের খবর পেয়ে এদিন সকালেই পত্রিকা গুলোর সকল কপি নারায়ণগঞ্জ থেকে উধাও হয়ে গেছে। পাঠকরা হকারদের থেকে পত্রিকা সকাল সকালই কিনে নিয়েছে। দুপুরের আগেই পত্রিকার সব কপি শেষ হয়ে যায়। পত্রিকা দু’টিতে খবর প্রকাশের পর নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে মেয়র আইভীকে নিয়ে নানান সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন ‘ওনার আসল রূপ বের হচ্ছে’, কেউ বলছে ‘থলের বিড়াল বের হতে শুরু হয়েছে’। স্থানীয় গণমাধ্যম মেয়র আইভীর ১৮ বছরের নানা অনিয়ম, নাগরিক দুর্ভোগসহ বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশের পর এবার জাতীয় দৈনিক ‘দেশ রূপান্তর’ ও ‘ভোরের পাতা’ পত্রিকার সংবাদ দেশবিদেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
সংবাদটি হুবহু তুলে ধরা হলো
বর্তমান সরকার ও খোদ প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করলেও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিস্তর প্রমাণ মিলেছে। আয়কর বিবরনীতে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর নীট সম্পত্তির পরিমাণ ২৪ লাখ টাকার কম হলেও বাস্তব চিত্রের সাথে রয়েছে আকাশ পাতাল অমিল। জানা গেছে, স¤প্রতি নির্মিত মেয়র আইভী ও তার পরিবারের সদস্যরা যে বাড়িতে বসবাস করছেন সেই বাড়ি নির্মাণেই খরচ হয়েছে কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা। অথচ মেয়র আইভী ছাড়া তার পরিবারের বাকি ৪ ভাই বোনের মধ্যে কারোরই কোন ব্যক্তিগত আয়কর রিটার্ণ নেই। প্রাসাদসম সেই বাড়ি নির্মাণে কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জনশ্রæতি থাকলেও রহস্যজনক কারণে বিষয়টি নিয়ে আইভী পরিবারের নীরবতা দুর্নীতি আর অনিয়মের অভিযোগকে আরো বেশী প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। এছাড়াও গত ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রæয়ারিমেয়র আইভী পৈতিৃক সম্পত্তি থেকে ১২শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি মূলে মালিকানা প্রাপ্ত হলেও সেই তথ্য তার আয়কর বিবরনীতে উল্লেখ করেননি। গত ২১ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদুক) এর চেয়ারম্যান বরাবর মেয়র আইভী ও তার পরিবারের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে দায়ের করা একটি অভিযোগে এমন তথ্য উঠে এগেছে। ঢাকার জনৈক হাফিজুর রহমান এই অভিযোগটি দায়ের করেছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে দুদক কর্তৃপক্ষ। অভিযোগে সাথে দেয়া প্রামান্য দলিলাদি নিয়ে এখন মাঠে নেমেছে দুদকের গোয়েন্দা উইং। মেয়র আইভীর দাখিলকৃত আয়-ব্যয়ের হিসাব আর তার জীবন যাপনের ‘আকাশ পাতাল ফারাক’ দেখে বিস্মিত খোদ কর্মকর্তারাও। এদিকে শেষ হওয়া দুর্গোৎসবেও নারায়ণগঞ্জের হিন্দু ধর্মালম্বীদের মাঝে ছিল একটি দেবোত্তর সম্পত্তি দখল নিয়ে চরম সমালোচনা। কয়েকশ পূজা মন্ডবে মেয়র আইভী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রায় ৩শ কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগে ব্যানার টানিয়েছিলেন সনাতন ধর্মালম্বীরা। নগরীর দেওভোগ এলাকার কয়েকশ বছরের পুরানো ঐ মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি নিজেদের বলে দাবী করছেন মেয়র আইভী পরিবার। আর কয়েক বছর ধরে ঐ সম্পত্তি রক্ষায় আন্দোলনরত হিন্দু ধর্মীয় নেতাদের দাবী, দেবোত্তর সম্পত্তি কেনা বেচার কোন আইন না থাকলেও বিশাল সম্পত্তি গ্রাস করে আছেন মেয়র আইভীর পরিবার।
অপরদিকে দুদকে দাখিলকৃত সেই অভিযোগপত্রে হাফিজুর রহমান উল্লেখ করেছেন, মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে তার আয়কর রিটার্ণে (সনাক্ত নং-০২০-১০৭-০৫৯০/ইউটিআইএন নং-৩৯৩৮৭৩২৮২৬৫৭ সার্কেল ১৩-বৈতনিক, নারায়ণগঞ্জ জোন) সম্পদ বিবরনীতে উল্লেখ করেছেন তার মোট অর্জিত তহবিল ১৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এছাড়া নীট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ২৩লাখ ৭২হাজার ২শ ৫০টাকা। কিন্তু অনুসন্ধানে মেয়র আইভীর অপর একটি পৈত্তিক সূত্রে পাওয়া সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, পৈত্তিক সূত্রে (পারিবারিক আপোষ বন্টন নামা দলির নং-১৫৫৩,তারিখ ১৩/২/২০১৭) মেয়র আইভী ১২শতাংশ জমি প্রাপ্ত হয়েছেন এবং দলিলে তার মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৬ লাখ ৬৪হাজার টাকা। কিন্তু এই প্রাপ্ত সম্পদের তালিকা বা তথ্য মেয়র আইভী আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করেননি। অথচ স¤প্রতি নির্মিত ‘চুনকা কুঠির’ নামে পৈত্তিক সম্পত্তিতে যে চারতলা প্রাসাদসম বাড়িতে মেয়র আইভী ও তার ২ভাই বসবাস করেন অভ্যন্তরীন ইনটেরিয়র, লিফটযুক্ত ঐ ভবনটি নির্মাণ করতে খরচ হয়েছে কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর ২ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি ছাড়া মিনু কাদির, লাকি ফারহান, আলী রেজা রিপন ও আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জলের মধ্যে শুধু মাত্র আলী রেজা রিপনের নামে আয়কর সনদ রয়েছে (টিইন নং- ৪৭২০৫৩৫০৬৬৩২) রয়েছে যেটি তিনি খুলেছেন ২০২০সালের ১৭সেপ্টেম্বর। কিন্তু ২০২০-২০২১ কর বর্ষে আলী রেজা রিপন কোন আয়কর রিটার্ন দাখিল করেননি। এছাড়াও দাখিলকৃত অভিযোগে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নেই বলে অভিযোগ করে বলা হয়েছে, আদালতের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত ২০১৯ সালের ২০জুন শতবর্ষী রহমতউল্লাহ মুসলিম ইন্সটিটিউট ভবনটি প্রকাশ্য দিবোলোতে ভেঙে দিয়েছেন মেয়র আইভী। অথচ ঐ ভবনটি তথা রহমতউল্লাহ মুসলিম ইন্সটিটিউট এর সভাপতি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক। গত ২০০৯ সালে (সাবেক পৌরসভা আমলে) মেয়র আইভী জেলা প্রশাসকের সভায় ঐ জায়গার মালিক রহমতউল্লাহ ইন্সটিটিউট বলেই স্বিকার করেন এবং দোকানীদের পুনর্বাসন করে রাস্তা প্রশ^স্ত করতে জায়গাটি চেয়েছেন বলে জানা গেছে (জেলা প্রশাসকের সভার রেজুলেশন, তারিখ-১৮নভেম্বও ২০০৯)। এদিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলায় ২০১৯ সালের ২৮আগষ্ট নারায়ণগঞ্জ ৪র্থ সহকারী জজ আদালতের হাকিশ শোকজ করেন মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীকে। আর কোন নোটিশ ছাড়াই প্রায় অর্ধশত ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলায় তারা এখন পথে পথে ঘুরছেন। ব্যবসায়ীরা মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে ৩১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের মামলাও করেছেন। পাশাপাশি লিখিত অভিযোগে নগরীর জিমখানা এলাকায় ৫৩৯ বছরের পুরাতন মোঘলীয় আমলে নির্মিত একটি মসজিদ ও ওয়াকফকৃত প্রায় ৩০ কোটি টাকার সম্পত্তিও দখলে নিয়েছেন মেয়র আইভী। প্রধানমন্ত্রী স্বদিচ্ছার প্রকল্প মডেল মসজিদের জন্য দেয়া ঐ (শরীয়তউল্লাহ ওয়াকফ এস্টেট, তালিকাভুক্তি নং ২০৪০) ওয়াকফ’র সম্পত্তি দখলে নিতে তিনি উচ্চ আদালতের নির্দেশকেও মানেনি। এই ঘটনাতেও মসজিদ কমিটির দায়ের করেছেন। এছাড়াও আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অপর একটি অভিযোগও আনা হয়েছে। তা হলো মহামান্য হাইকোর্টের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (রিট পিটিশন নং ৯৯৩৩/২০১২) অমান্য করে ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর মেয়র আইভী ১৯৬৪সালে প্রতিষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ চিত্ত বিনোদন ক্লাবটিও ভেঙ্গে ফেলেন। অপরদিকে ব্যক্তি মালিকানা জমি দখল করে রেলওয়ের জমি বুঝিয়ে দেয়ার মত স্পর্শকাতর অভিযোগও করা হয়েছে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে। লিখিত অভিযোগে হাফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, রেলওয়ে থেকে ক্রয়কৃত জায়গার মালিকদের জায়গা দখল করে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব প্যাডে রেলওয়ের জমি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। অভিযোগের সাথে দাখিলকৃত প্রমানে দেখা গেছে, ২০২০ সালের ২৬ জুলাই খুরশিদা আক্তার নামে এক নারীকে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব প্যাডে (স্মারক নং-৪৬.১৬.৬৭০০.০১১.০৩২(২).৮৯-২০/১৪০৯) দেয়া একটি চিঠিতে বলা হয়, রেলওয়েথেকে খুরশিদা আক্তারের খরিদ করা ৮.৫৭৫ কাঠা জমিটি জিমখানা বিনোদন কেন্দ্রের অভ্যন্তরে রয়েছে। তাই তাকে রেলওয়ের অপর একটি দাগের ১০শতাংশ জমি বুঝিয়ে দেয়া হয়। অথচ, জমির মালিক রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কিন্তু বুঝিয়ে দিচ্ছে সিটি কর্পোরেশন, যা ভুমিদস্যুতার এক অনন্য রেকর্ড বলে অভিযোগ করেন হাফিজুর রহমান। এদিকে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা আদেশ থাকার পরেও সেখানে ব্যক্তি মালিকানা জমি দখলে নেয়ায় গত ১৬ অক্টোবর উচ্চাদালতের নির্দেশে নি¤œ আদালতে একটি ভায়োলেশন মিস (১/২১) মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় বিবাদী মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে সমনও জারি করেছে আদালত। হাফিজুর রহমান আরো জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের ১১অক্টোবর প্রকাশ্য দিবালোকে নারায়ণগঞ্জ শহরের জিমখানা এলাকায় ৭০ বছরের পুরানো রেলওয়ের ৩৫টি স্টাফ কোয়ার্টার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে ১৬ একর জায়গা দখল করা হয়েছে। জিমখানা এলাকায় বিনোদন পার্কের নামে বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন ঐ বিশাল জমির দখলদ্বারিত্ব বজায় রাখতে সিটি কর্পোরেশনের কাগজে কলমে এটি জিমখানা বিনোদন কেন্দ্র হলেও সেটিকে শেখ রাসেল পার্ক নাম দেয়া হয়েছে। রেলমন্ত্রী স্বশরীরে নারায়ণগঞ্জ এসে সেই কাজ বন্ধ করলেও তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কাজ চালু রাখেন মেয়র আইভী। এমনকি ঐ কাজের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মামলা করলে গ্রেফতার হওয়া ঠিকাদারকে ছাড়িয়ে আনতে সারা রাত থানায় বসে ছিলেন মেয়র আইভী। অপরদিকে লিখিত অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রম নিয়েও হতাশা ব্যক্ত করেছেন অভিযোগকারী। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ৪মার্চ জাতীয় সংসদে ৫ম অধিবেশনে স্থানীয় এমপি শামীম ওসমান তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন (১৬৫৯ ও ৭৭৪) এর উত্তরে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক অসত্য, অসম্পূর্ণ ও ভুল তথ্য প্রদানের বিষয়টি তুলে ধরেন। সেমতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় ২০১৫ সালের ৬ এপ্রিল এসব অভিযোগের তদন্ত করতে (৪৬.০০.০০০০.০৭১.২৭.০১৭.১৪ (অংশ-১).১৬৩ স্মারক) ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়। উক্ত তদন্ত কমিটি দীর্ঘ ও সরেজমিন তদন্তের পর ২০১৫ সালের ১০আগষ্ট মোট ২৪৮ পাতার একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদনের সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে আনিত বেশ কয়েকটি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে ঐ বছরের ২৭ আগস্ট স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, সমবায় মন্ত্রনালয়ের (স্থানীয় সরকার বিভাগ) সিটি কর্পোরেশন-০২ শাখা কর্তৃক দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব বরার (স্মারক ৪৬.০০.০০০০.০৭১.২৭.০১৭.১৪ (অংশ-১).৪৯৫) প্রাথমকিভাবে প্রমানতি অভিযোগসমূহের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের কোন সুরাহা হয়নি। এব্যপারে স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে জানান, আমি মহান সংসদে প্রশ্ন উত্থাপন করার পর সিটি কর্পোরেশনের প্রেরিত জবাবে মিথ্যা ও অস্পূর্ণ তথ্য মিলেছিল বলেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছিল। সেইকমিটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছিল। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির প্রশ্নে জিরো টলারেন্স ভুমিকা নিয়েছেন, সেখানে দেখলাম দদুকে সেই তদন্ত রিপোর্ট যাওয়ার পর হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। মহান জাতীয় সংসদে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি মিথ্যা বা অসত্য তথ্য দেয় তবে এই অপরাধেই তার কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমি আশা রাখি বর্তমানে যারা দুদককে পরিচালনা করছেন তাদের কাছ থেকে এসব অনিয়ম আর দুর্নীতির ব্যপারে সদুত্তর পাবো।
এদিকে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে অভিযোগকারী সেই হাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, লিখিত অভিযোগে কয়েকটি অনিয়ম আর দুর্নীতির কথা উল্লেখ করেছি মাত্র। ১৮ বছরের ক্ষমতাকালে মেয়র আইভী ও তার পরিবারের অনিয়ম অভিযোগপত্রে লিখতে গেলে উপাখ্যান হয়ে যাবে। হাফিজুর রহমান জানান, চলতি বছরের ২৪জুন সিটি কর্পোরেশনের ভেকু, সার্ভেয়ার, লোকবলসহ মেয়র আইভীর আপন ভাই যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক উজ্জলের নেতৃত্বে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবির জমি দখল করা হয়েছে। বসত-বাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। কিন্তু মেয়র আইভী আর তার পরিবারের কিছুই হয়নি।
হাফিজুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগের সাথে আরো বেশ কিছু অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রামান্য দলিল দেয়া হয়েছে। তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আপনারাই তদন্ত করুন কেন ২০১১ সালে টেন্ডার হওয়া নারায়ণগঞ্জ সিটি (পৌর পাঠাগার) পাঠাগারটি নির্মাণ করতে সাড়ে বছর সময় লাগলো আর ব্যয় ৩ কোটিথেকে বেড়ে ২৬ কোটি টাকা হয়ে গেল। তদন্ত করে দেখুন পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত গত ১৮বছরে উন্নয়ন কাজের প্রায় ৮০ভাগ টেন্ডারই কেন রতœা ও মুনিয়া নামের ২টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ঝুলিতেই যায়। যে শহরে একটি ডাস্টবিন নেই সেখানে কেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নামে পঞ্চবটী এলাকায় কোটিকোটি টাকা ব্যয়ে কমপোষ্ট প্ল্যান্ট করে ব্যর্থ হওয়ার পর আবার সাড়ে ৩শ কোটি টাকা ব্যয়ে জালকুড়িতে নতুন প্ল্যান্ট করা হচ্ছে। কেন নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বারবার নিষেধ সত্তে¡ও মেয়র আইভীর একক সিদ্ধান্তে জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় কয়েক কিলোমিটার বিস্তৃত খালের সৌন্দর্য বর্ধনের নামে প্রায় ১৬০কোটি টাকার প্রকল্প করছেন। খালটি সওজ কর্তৃপক্ষ অধিগ্রহন করে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প ঢাকা সার্কুলার রুট পার্ট-২ এর অন্তর্ভুক্ত ৪লেন সড়ক নির্মাণের সকল পরিকল্পনা চুড়ান্ত করেছে। এ বিষয়ে সওজ কর্তৃপক্ষ বারবার সেখানে কোন অবকাঠামো নির্মাণ না করতে অনুরোধপত্র পাঠালেও তাতে কর্ণপাত করেননি মেয়র আইভী। হাফিজুর রহমান বলেন, মেয়র আইভীর বাড়ির পাশে সিটি কর্পোরেশনের ঠিকাদারের অবহেলায় দেয়াল চাপায় শ্রমিক মারা গেছেন, বন্দর এলাকায় কিছুদিন আগে সিটি কর্পোরেশনের কাজে দেয়াল চাপায় শ্রমিক মারা গেছেন কিন্তু এসব ঘটনায় মামলা করলেও আইভীর ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের কিছুই হয়না। তবে আশা রাখি, যেসকল যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিরা এখন দুদুককে এগিয়ে নিচ্ছেন তারা নিশ্চয়ই আমার অভিযোগটি আমলে নিবেন এবং প্রমানমন্ত্রীর দুর্নীতির প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *