Logo
HEL [tta_listen_btn]

ধৈর্যের পুরস্কার পেয়েছি ,ডা. আইভী

ধৈর্যের পুরস্কার পেয়েছি ,ডা. আইভী

নিজস্ব সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ‘মোটা মোটা অভিযোগের চিঠি বিভিন্ন জায়গায় দেওয়া হয়েছে। আমি সবসময় নিশ্চুপ ছিলাম। কখনও কোনো নেতার বিরুদ্ধে গিয়ে দলীয় ফোরামে অভিযোগ আমি করিনি। এইটা আমার নীতিতে নাই। আমি মনে করি আমার মাটি যদি ঠিক থাকে, আমার এলাকার লোকজন যদি ঠিক থাকে তাহলে আমার কোনো কিছু করতে হবে না। এই কারণে আমি ধৈর্য ধরেছি। এবং ধৈর্যের ফলাফল নেত্রী আমাকে দিয়েছেন। সোমবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের এক সভায় তিনি এই কথা বলেন। ওই সভায় নৌকার প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নামার ঘোষণা দেয় মহানগর আওয়ামী লীগ। ডা. আইভী বলেন, ‘এই নারায়ণগঞ্জ শহরে যদি বড় বড় প্রকল্পগুলো না করতাম তাহলে আপনারাই বলতেন, মেয়র কোনো কাজ করতে পারে নাই। এত বিরোধীতার পরেও, গত এক-দেড় বছর যাবৎ আমার বিরুদ্ধে প্রচুর পরিমাণ প্রপাগান্ডা চালানো হয়েছে। আমি ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছি বলে প্রধানমন্ত্রীর মডেল মসজিদ নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে। বিরুদ্ধে অবস্থান করা সকলকে আহŸান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসেন একসাথে মিলেমিশে শেখ হাসিনার নৌকাকে নির্বাচিত করি। যারা মনোনয়ন পান নাই তাদেরও একই আহŸান জানাবো। যারা মনোনয়ন চেয়েছিলেন সেই তিনজনের সাথেই ২০০৩ থেকে আমার সুসম্পর্ক ছিল। ২০০৯ সালে গিয়ে তারা আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। কিন্তু যতটুকু নেওয়ার ততটুকু আপনারা তিনজনই আমার কাছ থেকে নিয়েছেন। আপনারা সেই সময়ের কথাগুলো ভুলে যাইয়েন না। ভয়ে এই আওয়ামী লীগ অফিসেও আসতে চাইতেন না। আইভী আসলে আপনারা আসতেন। কৃষকলীগের নির্বাচনের কথাও ভুইলেন না, কোনোকিছুই ভুইলেন না। যা করেছেন তা কারও নির্দেশে করেছেন। সেই কারও নির্দেশ না মেনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মানুন। আসুন দলকে শক্তিশালী করে মানুষের কল্যাণে কাজ করি। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এখনই কিন্তু ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। সব ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে আমরা সফল হবো। আপনাদের সহযোগিতা চাই। নারায়ণগঞ্জের মানুষের পাশে সবসময় থাকবো। আমরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করবো শীঘ্রই। আমরা নেত্রীকে বিজয় উপহার দেবো।’ আইভী বলেন, যত কিছুই হোক না কেন নেত্রী নারায়ণগঞ্জ সম্পর্কে অবগত। বড় দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবেই। মনোনয়ন চাওয়া দোষের কিছু না। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেয় তার পক্ষেই থাকা উচিত। আমি মনোনয়ন পাবার আগে সবসময় বলেছি, প্রধানমন্ত্রী যাকে নৌকা দেন তার পক্ষে কাজ করবো। আমাকে না দিলেও আমি বিপক্ষে অবস্থান নিতাম না। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শেখ হায়দার আলী পুতুল, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এড. মোঃ আসাদুজ্জামান, আরজু রহমান ভূঁইয়া, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবীব, জিএম আরমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আইয়ুব আলী, প্রচার সম্পাদক হাবীব আল মুজাহিদ পলু, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. আতিকুজ্জামান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ কামাল দেওয়ান, উপদপ্তর সম্পাদক ছানোয়ার হোসেন, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসাইন, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্না প্রমুখ।
আনোয়ার হোসেনের আহবান
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ভাবে নির্বাচন করার আহবান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, আমি আগেই বলেছি, বঙ্গবন্ধু কন্যা যাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়ে পাঠাবেন আমরা তার পক্ষে কাজ করবো। মনোনয়ন বোর্ডে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনা ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মনোনয়ন দিয়েছেন। পরিবারের মধ্যে কোন্দল, দূরত্ব থাকতেই পারে এটাই স্বাভাবিক। তারপরও পরিবারের ভালোর জন্য আমরা সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে কাজ করবো। তিনি বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বাবু চন্দন শীল ও সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা মনোনয়নের জন্য মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন। তারা মনোনয়ন পাননি। সকালে এই অনুষ্ঠানে আসার জন্য আমি চন্দন শীল ও খোকন সাহাকে ফোন দিয়েছিলাম কিন্তু ফোনের কোনো রেসপন্স পাইনি। দলে মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেকেই হতে পারে কিন্তু শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবেন শেখ হাসিনা। তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন, আমাদের মাঝে নৌকার মাঝি করে পাঠিয়েছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে। আমার তরফ থেকে আমি সকলকে দাওয়াত দিয়েছি আসা না আসা সেটার তাদের উপর।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অনোয়ার হোসেন বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে তিন থানায় যারা আমাদের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ রয়েছেন। তাদের অনুরোধ করবো, দল-মত নির্বিশেষে জননেত্রী শেখ হাসিনার মার্কা নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন। আমাদের চাওয়া পাওয়া কিছুই নাই। নির্বাচনে আমি কি পেলাম সেটা বড় বিষয় না, নির্বাচনে আমি আমার প্রার্থীকে জিতাতে পারলাম কিনা এটা বড় বিষয়। আওয়ামী লীগের কর্মীরা সব সময় জান-প্রাণ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এটাই আওয়ামী লীগের আদর্শ। তিনি আরও বলেন, আজ প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়ে আমরা মাঠে নামবো। মাঠে নামার আগে বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করবো। ইতিমধ্যে অনেকটা কাজ এগিয়ে এনেছি। আমাদের বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটি নেই আর ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিটিও আমরা করতে পারিনি। তাই ওয়ার্ড ভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির জন্য তালিকা চাওয়া হয়েছে। মহানগর আওয়ামী লীগের অনেকেই কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করবেন। কাউন্সিল পদে দল কাউকে মনোনয়ন দিবে না। হয়তোবা ভবিষ্যতে আমরা একত্রে বসে সমর্থন দিতে পারি। যতদিন তা না হচ্ছে ততোদিন নেতৃবৃন্দ ব্যক্তিগতভাবে একেকজন সমর্থন দিবেন। এ অবস্থায় নির্বাচন পার করতে হবে। কেউ বলতে পারবেন না আমি আওয়ামী লীগের অমুক, আমাকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণা করেন। কাউন্সিলর নির্বাচন নিজেদের করতে হবে। আমি মাঠের কর্মী তাই চাইবো মাঠের কর্মীদের সমর্থন করতে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com