Logo

বন্দরে শামসুজ্জোহার মৃত্যুবার্ষিকীতে সেলিম ওসমান  রাজনীতির জায়গায় রাজনীতি থাকুক আগে এত কষ্ট হয়নি, এবার হচ্ছে : শামীম ওসমান

বন্দরে শামসুজ্জোহার মৃত্যুবার্ষিকীতে সেলিম ওসমান  রাজনীতির জায়গায় রাজনীতি থাকুক আগে এত কষ্ট হয়নি, এবার হচ্ছে : শামীম ওসমান

নিজস্ব সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান বলেছেন, সেদিন চেয়্যারম্যান দেলোয়ার বলেছেন ওসমান পরিবার ছাড়া কাউকে চিনি না। এরশাদ নারায়ণগঞ্জে এসে বলেছিলেন নারায়ণগঞ্জে কোন পার্টি নেই, নারায়ণগঞ্জে ওসমান পার্টি। আমার বাবার অত্যন্ত পরিশ্রমের আদমজী জুটমিল। সবগুলো মিল তিনি চালু করেছিলেন। ৯৬ সাল পর্যন্ত সে মিলগুলো চলেছে। কিন্তু কিএক কারণে এ মিলগুলো বন্ধ করে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। আমাদের উন্নয়ন চলছে, উন্নয়নের সাথে আপোষ নেই। শনিবার (১৯ ফেব্রæয়ারি) বন্দরের মুছাপুর ইউনিয়নের ত্রিবেনী এলাকায় অবস্থিত শামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একেএম শামসুজ্জোহার ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে একথা বলেন তিনি। দোয়া ও মিলাদের পূর্বে স্কুলে মরহুম শামসুজ্জোহার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মরহুমএকেএম শামসুজ্জোহার দুই ছেলে এমপি একেএম সেলিম ওসমান ও এমপি একেএম শামীম ওসমানসহ আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
দোয়ার পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনার শুরুতে মরহুম একেএম শামসুজ্জোহার স্মৃতিচারণ করেন বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান ও বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম.এ রশিদ। সেলিম ওসমান বলেন, নাসিম ওসমান সেতুর কাজ ৯৫ শতাংশ শেষ। এখন সড়কের কাজ বাকি। বন্দরে আমার ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের নামে আমি স্কুল নির্মাণ করতে পেরেছি। আমরা দুটি স্কুল সরকারি করতে পেরেছি। আমার বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া জানাচ্ছি। নির্বাচনের সময় কিছু ভুল বোঝাবুঝি হলেও আমরা এখন আবারও ঐক্যবদ্ধ। স্কুলগুলো কয়েকদিনের মধ্যে আবারও খুলে দেয়া হচ্ছে। তাই আমি স্কুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি। আমাদের দায়িত্ব আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম যেন দাঁড়িয়ে যায়। তিনি বলেন, বন্দরের সাবদিতে ফুলের চাষ হচ্ছে। কিন্তু আমরা তাদের মূল্যায়ন করতে পারিনি। আমি সকলের প্রতি বন্দরের উন্নয়ন কমিটি করার অনুরোধ করেছি, সকলে এই কমিটিতে কাজ করবেন। আমাদের ১৫১ জনের উন্নয়ন কমিটি হবে। সেখান থেকে ১০০১ জনের কমিটি হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা থাকবো না। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এটা দিয়ে যেতে পারলে লাভ হবে। আমার দাদা ও বাবা এই এলাকায় কাজ করেছেন। আজকে পয়ত্রিশ বছর তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমার বড় ভাই ও আমার মা তারাও চলে গেছেন। আমার বড় ভাই নিজের নতুন বউকে ঘরে রেখে বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিশোধ নিতে চলে গিয়েছিলেন। আমার মা বলেছিলেন, তুমি এবার মানুষের জন্য কাজ করবে। তুমি নাসিমের শূন্যস্থানটা পূরণ করবে। আমি কোন মার্কা চাইনি। সিটটা লাঙ্গলের জন্য ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। দ্বিতীয়বার আমি নির্বাচন করবো না, কিন্তু আপার কাছ থেকে নির্দেশনা আসলো আমাকে নির্বাচন করতেই হবে। এরপরে থাকবো কিনা জানি না। আমাদের মানুষ তৈরি করে দিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, শামীম ওসমানকে ধন্যবাদ জানাই। কাল রাতে তার শরীরের অবস্থা দেখে বলেছি তোমার শরীর ভাল না থাকলে যাওয়ার দরকার নেই। ও বলল না। আপনারা আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন। নাসিম ওসমান সৌভাগ্যবান। রমজানের শেষে তার মৃত্যুবার্ষিকী। আমরা তখন দেখব কি করা যায়। দোয়া করবেন আমাদের বাচ্চারা যেন আবারও লেখাপড়া করতে পারে। তারা যেন অটোপাশ করে বের না হয়। রাজনীতির জায়গায় রাজনীতি থাকুক। আপনারা আমাদের সকলের জন্য দোয়া করবেন। এসময় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, এর আগেও অনেকবার বাবার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছি। এতদিন আমার কষ্ট লাগেনি। তবে এখন কষ্ট লাগে। কয়েকদিন আগে আমার বাবা, মা ও বড় ভাইসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবরে শ্মশানের মাটি ফেলা হয়েছে। আমি রাগলে রাস্তাায় তার প্রভাব পড়ে। এখনও ডাকলে দুই চার লাখ লোক আসে। মৃত্যুর আগে বাবা শেখ হাসিনার হাতে আমাদের তুলে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে ওরা মারা গেলেও কোন আফসোস থাকবে না। শামীম ওসমান বলেন, আমার মেজো ভাই ক্লাস নাইনে থাকতে মুক্তিযুদ্ধে চলে গিয়েছিলেন, বড় ভাইও ছিলেন। আগে মানুষ বলত ওই বাড়ি রাজনীতি করে, তারা সততার প্রতীক। সোনার চামচ মুখে জন্ম নিয়েছি আমরা। তবে ৭৫এর পরে একবেলা ভাত খেয়েছি একবেলা খাইনি। ৯শ’ টাকার জন্য ফরম ফিলাপ করতে পারিনি। ইচ্ছে করলে নারায়ণগঞ্জের অর্ধেক কিনে নিতে পারতেন। পচাত্তরের পরে আমার মাকে গিফট করা হীরা মহলও বন্ধক রেখেছিলেন ১৯৭৪ সালে। বাস্তবতা হল সেদিন যা দেখেছি আগামীতে দেখবো জানি। সেদিন কোন ধনী লোক এগিয়ে আসেনি। আদমজী মিলের শ্রমিকরা এক টাকা করে চাঁদা দিয়ে ছাড়িয়ে দিয়েছিল। বাবা বলেছিল বাড়িটা এখন আর আমার না তোমরা শ্রমিকের বাড়িতে বড় হচ্ছ। তাই তাদের জন্য কথা বলি। রাজনীতি মানে এবাদত। রাজনীতি মানে মানুষকে খুশি করে আল্লাহকে খুশি করা। এটা আমার বড় ভাই পেরেছিল, বাবাও পেরেছিল। আমরা হয়ত পারিনি। তিনি আরও বলেন, তাদের কাউকে সাক্ষী রেখে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিক। এটাই আমাদের জন্য প্রাপ্য। সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে গিয়ে বলেছিলাম আমি আর কিছু চাই না। তখন তিনি বললেন, তোমার বাবা আমাদের জন্যেও রক্ত দিয়েছে। তিনি আমারও চাচা। তিনি কী পরিমান আল্লাহওয়ালা মানুষ তা আমি দেখেছি। আমাদের জীবনের ভরসা নেই। তাই সকলে সকলের জন্য মাফ চাই। যারা চলে গেছেন আমি তাদের সকলের জন্য দোয়া করছি। আপনারা আমার বাবা, মা ও বড় ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন এবং দোয়া করবেন আল্লাহকে খুশি করে যেন মরতে পারি। দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, বন্দর উপজেলার নির্বার্হী কর্মকর্তা কুদরত-এ-খোদা, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিপক কুমার সাহা, বন্দর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু, বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন, ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেন, জেলা যুবসংহতির আহŸায়ক রিপন ভাওয়াল, মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহম্মেদ, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.এ গাজী সালাম, ধামগড় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ, বন্দর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খান মাসুদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

sixteen − 9 =


Theme Created By Raytahost.Com