Logo
HEL [tta_listen_btn]

সিদ্ধিরগঞ্জে কিশোরগ্যাংয়ের উৎপাত বৃদ্ধি

সিদ্ধিরগঞ্জে কিশোরগ্যাংয়ের উৎপাত বৃদ্ধি

দেশের আলো রিপোর্ট
সিদ্ধিরগঞ্জে দিনে দিনে বেড়ে চলছে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত। বিশেষ করে সিদ্ধিরগঞ্জের প্রতিটি এলাকার বাসিন্দাদের জন্য কিশোর গ্যাং এখন যেন আতঙ্কের আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের পরও থামছে না কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, প্রায় প্রতিটি এলাকায় রয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের আতঙ্ক। ছোট-খাটো বিষয় নিয়েও এরা জড়িয়ে পড়ছে বড় ধরনের সহিংসতায়। তাছাড়া কিছুদিন পর পর এসব কিশোর গ্যাংয়ের মারামারি করার ভিডিও চোখে পড়ছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রæপগুলোতে। জানাযায়, সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ড এর পাগলাবাড়ির বিল, পাইনাদী নতুন মহল্লা, ২নং ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়া ডাম্পিং ও ১০ পাইপ সংলগ্ন, ৩ ওয়ার্ডের রসুল বাগ, মুক্তিনগর এলাকা, ৪নং ওয়ার্ডের বাগানবাড়ি এলাকা, ৫নং ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা নদীস্থ শ্মশান ঘাট ও সাইলোগেট এলাকা, ৬নং ওয়ার্ডের শিমুলপাড়া, আইলপাড়া, ৯নং ওয়ার্ডের জালকুড়ি বিল ইত্যাদি এক গ্রæপের দেখাদেখি জন্ম নিচ্ছে আরেক গ্রæপ। এসব গ্রæপের আধিপত্য বিস্তার, সিনিয়র-জুনিয়র, নারীঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটছে হত্যাকান্ডও। এছাড়াও চুরি-ছিনতাই, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে হত্যাকান্ডে পর্যন্ত জড়াচ্ছে ১৪ থেকে ২০ বছর বয়সী কিশোররা। অস্ত্র হিসেবে তারা ব্যবহার করছে রড, পাইপ, সুইস গিয়ার, ছুরি, চাকু, চাপাতির মতো ধারালো বস্তু। জানা যায়, ৩০ মে রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল ২নং ঢাকেশ্বরী দক্ষিণ ধনকুন্ডা এলাকায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাংয়ের গ্রæপ অতর্কিত হামলা চালিয়ে আল আমিন (১৯) নামে এক গার্মেন্টস কর্মীকে রক্তাক্ত জখম ও গুরুতর আহত করেছে। সোমবার (৬ জুন) সিদ্ধিরগঞ্জের ৪নং ওয়ার্ডের বাগানবাড়ি এলাকায় সোহাগ (২৩) নামে যুবকের উপর অনেকটা ফিল্মিস্টাইলে হামলার ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়েছে সিদ্ধিরগঞ্জে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কিশোর পরনের টি-শার্ট খুলে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন অদূরে। এরপরই পড়নের প্যান্টের বেল্ট খুলে এক যুবককে মারধর শুরু। সঙ্গীরাও একই স্টাইলে একের পর এক বেল্ট দিয়ে পেটাচ্ছিলেন যুবককে। সঙ্গে অকথ্যভাষায় গালিও দিচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়েই মূলত বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কারণ একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের প্রাথমিকভাবে বড় অপকর্ম করার সাহস থাকে না। রাজনৈতিক নেতারা যখন তাদের কাজকর্ম করার জন্য এসব কিশোরগ্যাংদের আশ্রয় দিয়ে থাকে, তখন সেসব কিশোরগ্যাংয়ের সদস্যরা ধীরে ধীরে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আর এভাবে কিশোরগ্যাংগুলো মারাত্মক অপকর্ম করে থাকে।
এবিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মশিউর রহমান জানান, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আবারও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের প্রতিরোধ করতে আমরাও তৎপর আছি। এ বিষয়ে পুলিশের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন আমাদের একটি বিশেষ টিম এসকল কিশোরগ্যাংদের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমি অভিভাবকদের বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি, তারা যেন সন্তানদের সন্ধ্যার পর কোনোভাবেই একা বাড়ির বাহিরে যেতে না দেন। সন্তানরা কখন কোথায় যাচ্ছে সে বিষয়ে খেয়াল রাখবেন। কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। তাহলে কিশোর অপরাধ দমন করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com