Logo
HEL [tta_listen_btn]

হোমনায় ধানক্ষেতে নবজাতক

হোমনায় ধানক্ষেতে নবজাতক

হোমনা সংবাদদাতা
কুমিল্লার হোমনায় ধানক্ষেতে কুড়িয়ে পাওয়া ইঁদুর বেড়ালের খাওয়া ক্ষত বিক্ষত নবজাতক মেয়ে শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের এনআইসিইউতে ভর্তি রয়েছে। তার অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। রোববার (২৪ জুলাই) রাতে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সহায়তায় মানিক মিয়া উন্নক চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। শুক্রবার (২২ জুলাই) উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের দড়িচর গ্রামের কৃষক আমির হোসেন ধানক্ষেত থেকে জীবিত নবজাতক ওই শিশুটিকে উদ্ধার করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইমার্জেন্সি ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগের আবাসিক মেডিকেল সার্জন ডা. আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, নবজাতক শিশুটি বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডের এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে ধীরে ধীরে উন্নতি লাভ করছে। তার নাক, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত রয়েছে। শিশুটি পুরোপুরি সুস্থ হলে সমাজ কল্যাণ অধিদফতরের মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়া হবে। আমির হোসেন বলেন, সেদিন তিনি ধানক্ষেতে গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে জীবিত মেয়ে শিশুটিকে দেখতে পান। তিনি আরও জানান, ইঁদুর কিংবা পোকামাকড় শিশুটির নাকের ওপরিভাগ খেয়ে ফেলেছে। মাথার পেছনের দিকে বেশ কিছু অংশও ক্ষত বিক্ষত। সারা শরীরেও বড় বিড় পিঁপড়া কামড়াচ্ছিল। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ আশপাশের লোকজনকে জানিয়ে ভাই মো. মানিকের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার নিয়ে যান। মানিক মিয়া বলেন, শিশুটির ভালো চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে চিকিৎসা দিতে না পেরে পুণরায় তাকে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছিল। হাসপাতাল থেকে বিষয়টি থানা পুলিশকেও অবগত করানো হয়। পরে রোববার রাতে শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানেই চিকিৎসাধীন আছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. আনিছুর রহমান জানান, শিশুটিকে যখন ভর্তি করাই তখন তার নাকের ওপরিভাগ ও মাথার পেছনের বেশ কিছু অংশে ক্ষত ছিল।
হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুছ ছালাম সিকদার বলেন, কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতক শিশুটি যখন হাসপাতালে নিয়ে আসনে তখন তার নাক ও মাথার পেছনের চামড়া ইঁদুর বা কোনো জীব জন্তু দ্বারা আক্রান্ত ছিল। তার রক্তক্ষরণ হওয়ায় সে খুবই দুর্বল ছিল। তাকে আমরা ভর্তি করে সঠিক চিকিৎসা দেই। আমাদের চিকিৎসাসেবায় সে ফিডিং করছিল, তার অবস্থাও উন্নতি হচ্ছিল। এর মধ্যে যারা শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল রোববার তারা নিজেরাই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান। আশা করছি শিশুটি পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ।এ ব্যাপারে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতক শিশুটির পরিচয় ও তথ্য উদঘাটনে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com