Logo
HEL [tta_listen_btn]

টানা বর্ষণে ফতুল্লায় কৃত্রিম বন্যা

টানা বর্ষণে ফতুল্লায় কৃত্রিম বন্যা

নিজস্ব সংবাদদাতা
বৃষ্টিতে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকার রাস্তা-ঘাট বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। রাতভর বৃষ্টিতে ফতুল্লার অধিকাংশ এলাকার রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সকাল থেকে মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার কারণে অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেনা। মাত্র কয়েক ঘন্টার টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে ফতুল্লা থানা এলাকার অধিকাংশ এলাকা। তলিয়ে গেছে পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন রাস্তাঘাট। অধিকাংশ রাস্তা গুলোতেই হাঁটু সমান পানি। ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার মনির হোসেন জানায়, রাত এবং সকালের টানা কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতে রাস্তা ঘাট তলিয়ে গেছে। তার বাড়ির ভিতরে পানি প্রবেশ করেছে। বাসা থেকে বের হওয়ার কোন উপক্রম নেই। রাস্তায় হাটু সমান পানি। রিকশা বা অটোরিকশা কিছুই পাওয়া যাচ্ছেনা রাস্তায়। তবু ও জরুরি একটা কাজে লুঙ্গি পরে আরেকজনের মাধ্যমে ফোন করে অটোরিকশা বাসার সামনে নিয়ে এসে বাসা থেকে বের হতে হয়েছে। মাসদাইর গুদারাগাট এলাকার বাসীন্দা জুয়েল জানায়, টানা কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। রিকশা জন্য ৪০ মিনিটের উপরে দাঁড়িয়ে থেকে রিকশা, মিশুক কিছু না পেয়ে স্যান্ডেল হাতে নিয়ে প্যান্ট গুটিয়ে ময়লা পানি মাড়িয়ে নিজ কর্মস্থলে আসতে হয়েছে। ফতুল্লার দাপা বেপারীপাড়া এলাকার বাবু জানায়, ডাইংয়ের পানির কারণে তার বাড়ির সামনের রাস্তাসহ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তাটি বছরের অধিকাংশ সময় হাটু সমান পানির নীচে তলিয়ে থাকে। তার উপর রাতের কয়েক ঘন্টার টানা বৃষ্টিতে রাস্তা কোমর সমান পানির নিচে তলিয়ে যাবার পাশাপশি বাসা বাড়ির ভিতরেও পানি প্রবেশ করেছে।
বিসিকে জলাবদ্ধতা
টানা বৃষ্টিতে ফতুল্লার বিসিক শিল্প এলাকার প্রধান তিনটি সড়কেই তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কয়েক লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিককে। বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বিসিক এলাকা ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে। এসময় বিসিক এলাকায় প্রবেশ পথের সড়কটিতে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। গার্মেন্টস শ্রমিকরা বৃষ্টির মধ্যে পানির ওপর দিয়েই জীবিকার তাগিদে ছুটছেন কর্মস্থলের দিকে। গার্মেন্টস শ্রমিকরা জানান, একটু বৃষ্টি হলেই এ সড়কটিতে পানি জমে যায়। ড্রেনের এই ময়লা পানির কারনে হাতে ও পায়ে চুলকানিসহ নানা রকমের চর্মরোগে ভুগতে হয়। তাছাড়া সড়কের খানাখন্দের কারনে এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
রূপগঞ্জে ভোগান্তি
২ দিনের টানা বৃষ্টিতে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ও হাটবাজারে পানি ঢুকে লাখো মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। বৃষ্টির কারণে বসতবাড়ি হাটবাজার, দোকানপাটে পানি ঢুকেছে ও রাস্তায় হাটু পর্যন্ত পানি উঠেছে। বৃষ্টির কারণে বাঁধের ভেতরের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ী বন্যায় পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এখানকার মানুষ। সরকারি নিয়ম কানুন না মেনে অপরিকল্পিতভাবে ক্যানেল ভরাট, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল, ভবন ও বাড়ি ঘর নির্মাণ এ জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ বলে মনে করেন স্থানীয়রা। পানি নিষ্কাশনে যাত্রামুড়া ও বানিয়াদির পাম্প হাউসগুলো কোন কাজে আসছেনা বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সেচ প্রকল্পের মাসাব, বরপা বাগানবাড়ি, সুতালড়া, আড়িয়াবো, তেতলাব, কর্ণগোপ, মৈকুলী, মিয়াবাড়ি, ভায়েলা, পাঁচাইখা, মোগড়াকুল, পবনকুল, বরাব, খাদুন, যাত্রামুড়া, গোলাকান্দাইল, বিজয় নগর, বলাইখা, উত্তরপাড়া, নামাপাড়া, দক্ষিণপাড়া, দক্ষিনপাড়া, নাগেরবাগ, ৫নং ক্যানেল, রূপসী, গন্ধর্বপুরসহ বেশকয়েকটি নিচু এলাকায় প্রায় লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৮৪ সালে ৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমি নিয়ে অগ্রণী নারায়রগঞ্জ-নরসিংদী অগ্রণী সেচ প্রকল্প-১ ও পরে ১৯৯৩ সালে ১শ’ ১ কোটি টাকা ব্যয়ে শীতলক্ষ্যার পূর্ব পাড়ে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমি ঘিরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই এ প্রকল্পের ভিতরে শুরু হয় জলাবদ্বতা। জনবসতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে জনদুর্ভোগও। ২ দিনের বৃষ্টিতে দু’টি সেচ প্রকল্পের এলাকার কোথাও জমেছে হাটুপানি, কোথাও কোমর পানি জমেছে। পুরো বর্ষা ও টানা বর্ষণ শুরু হলে কি হবে এ নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছে অগ্রণীবাসী। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, অগ্রণীর ভেতরে অপরিকল্পিতভাবে মিল-কারখানা গড়ে উঠে অগ্রণী পরিণত হয় আবাসিক ও শিল্প এলাকায়। সেই থেকে দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে অগ্রণী এলাকার মানুষের। বসতি আর কারখানার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে জলাবদ্বতাও। বর্তমানে সেচ প্রকল্প দু’টিতে কৃষি জমিতে পানি সেচের তেমন ব্যবস্থা নেই। এসব কৃষি জমিতে ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে শিল্প কারখানাও গড়ে উঠেছে। এখন প্রকল্প দু’টি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা দ্রæত করা দরকার। অগ্রণী সেচ প্রকল্পের যাত্রামুড়া পাম্প হাউজ থেকে বরপা ব্রিজ হয়ে একটি মূল খাল সেচ প্রকল্পের বানিয়াদী এলাকা দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে সংযোগ হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, কয়েক বছরে সরকার দলীয় প্রভাবশালী নেতারা খাল গুলো ভরাট করে মার্কেট, ঘর-বাড়ি, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এতে করে সামান্য বর্ষণ হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতার থাকবে না। এই জলবদ্ধতা হাতেনাতে সৃষ্টি বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ও পানি সরাসরি ফেলানোর কারণে খাল গুলো ভরাট হয়ে গেছে। যার কারণে দু’টি প্রকল্পের জনগনের পিছু ছাড়ছে না জলাবদ্ধতা। একাত বøাড ও সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মহসিন বলেন, বৃষ্টির কারণে গোলাকান্দাইল নতুন বাজার সড়ক ডুবে হাটু পানি হয়ে গেছে। পানি ভেঙ্গে এখানকার মানুষ চলাফেরা করছেন। আমরা অনেকে বৃষ্টির কারণে দোকানপাট খুলতে পারছিনা। প্রশাসনের কাছে দ্রæত পানি সরানোর ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি। গোলাকান্দাইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান তুহিন বলেন, আমার ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশি মানুষের বসবাস ৫নং ক্যানেল ও নতুন বাজার এলাকাটি। এখানে বিভিন্ন শিল্প কারখানার হাজার হাজার মানুষ বসবাস করেন। জলাবদ্ধতা ঠেকাতে আমরা বৃষ্টির আগেই পানি যাতায়াতের ক্যানেল গুলো পরিষ্কার করেছি। সকাল থেকেই পানি সরানোর কাজ করছি। ক্যানেল পরিষ্কার করা না হলে পানি স্থায়ী রুপ নিতো। এছাড়া বাধের ভেতরের নিচু এলাকা গুলোতে উচু এলাকার পানি এসে জলাব্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল হক বলেন, জলাব্ধতার বিষয়ে আমাকে কেউ অবহিত করেননি। যেহেতু আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইঞ্জিনিয়ার ও অগ্রণী সেচ প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিচ্ছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com