Logo
HEL [tta_listen_btn]

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে লন্ডভন্ড না’গঞ্জ

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে লন্ডভন্ড না’গঞ্জ

দেশের আলো রিপোর্ট
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং বিরূপ প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ। সারাদিন ঘরে বন্দি ছিলেন মানুষ। কখনো গুড়িগুড়ি আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দমকা হাওয়া দাপিয়ে বেড়ায়। এতে গাছের ডাল ভেঙ্গে রাস্তায় পড়ে অনেক এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পানিতে তলিয়ে যায় নারায়ণগঞ্জের অনেক এলাকা।তলিয়ে যায় রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ওই ফাঁড়িতে কর্মরত রেলওয়ে পুলিশের সদস্যরা। ডিএনডি এলাকাবাসী কৃত্রিম বন্যার শিকার হন। জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়ার আভাস পরিলক্ষিত হচ্ছে। এদিকে নজর দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা । সরেজমিনে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িটি জীর্ণ শীর্ণ হয়ে পড়েছে সাইনবোর্ডটি মজবুত থাকলেও ভিতরের সবই চলছে জোড়াতালি দিয়ে। হাঁটুর উপরে পানি, তলিয়ে আছে ফাঁড়িটি। ফাঁড়ির ভিতরে রান্না চলছে কাঠের মাচায়, আর প্রতিটি বেড ৩/৪ টি করে ইট দিয়ে উঁচু করে দিলেও ঝুঁকিতে বসবাস করছেন পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। এ বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশ সদস্য ইমরান বলেন, আমি ৪ মাস যাবত এই ফাঁড়িতে কর্মরত আছি একটু হালকা বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় পুরো ফাঁড়ি, গতকাল ঘুর্ণিঝড় সিত্রাং এর আঘাতে খুবই ভয়ে রাত পার করেছি কখন যেন বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে তাই আতংকে ছিলাম সারারাত ঘুমাতে পারিনি, পানি এখন শুধু খাটে উঠার বাকি। নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোখলেসুর রহমান বলেন, খুব যন্ত্রণায় আছি হালকা বৃষ্টি হলেই ঘুম হারাম তলিয়ে যায় পুরো বিছানা পত্র। এই সমস্যার মূল কারণ চায়না ডেভেলপার কাজ ধরার পর থেকেই ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যায় তাই পানি নামার কোন ব্যবস্থা নেই বর্তমানে আমরা খুবই কষ্টে সময় পার করছি।
বন্দরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে বন্দর উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জীবন যাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর, বড় বড় গাছপালা, বৈদুতিক খুঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনা উপরে পড়েছে। বন্দর উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় আবারও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে নিচু এলাকার রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক স্থানে আবারও নতুন করে বাঁশের সাঁকো বাঁধতে শুরু করে দিয়েছে উক্ত এলাকার জন সাধারণ।
মাহমুদনগর এলাকার জনৈক রিপন জানান, ঘুর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে মাহমুদনগর এলাকায় একটি বৈদুতিক খুঁটি উপড়ে পড়েছে। এ ছাড়াও সোনাকান্দা মেরিন টেকনোলজিতে একটি বিশাল আকৃতির গাছ উপড়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘারমোড়া এলাকার বাসিন্দা শ্যামল জানান, ভারি বর্ষণের কারণে বন্দর উপজেলার শুভকরদী, ঘারমোড়া ও চরঘারমোড়াসহ কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার প্রধান রাস্তা ঘাট ও নিচু এলাকার ঘরবাড়িতে প্রচন্ড জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা চরম আকাড় ধারন করেছে। উল্লেখিত এলাকার অনেক মানুষ বর্তমানে পানিবন্ধী জীবন যাপন করছে। সে সাথে বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়েছে। যার কারণে উক্ত এলাকার জনগন চরম আতংকের মধ্যে রয়েছে। যে কোন সময় প্রাণহানীর আশংকা রয়েছে বলে তিনি জানান। এ ছাড়াও এবারের বর্ষায় ও অতিরক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়ন, মুছাপুর, ধামগড় ও মদনপুরসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকার রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে।
ফতুল্লায় ব্যাপক ক্ষতি
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অসংখ্য ফলের গাছপালা উপড়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় সড়কে ও ঘরের ওপর গাছ ভেঙ্গে পড়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় ফতুল্লার প্রতিটি এলাকায় সড়কে জমেছে হাটু পানি। রাতে ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টি হওয়ায় প্রায় এলাকায় বাসা বাড়িতে পানি জমে দুর্ভোগ পোহায় অনেকেই। তবে ঝড়ে ঘরবাড়ি গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ণ কর্মকর্তা (পিআইও) আনোয়ার হোসেন জানান, ঝড়ে কোন হতাহতের বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তারপর আমরা খোঁজ খবর নিয়ে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের সহযোগিতা করা হবে। এলাকাবাসী জানান, ফতুল্লার সস্তাপুর, কোতালেরবাগ, রামারবাগ, লামাপাড়া, নয়ামাটি, কায়েমপুর, তল্লা, ইসদাইর, লালপুর, ভুইগড়, দেলপাড়া, মাহমুদপুর, মুন্সিবাগ এলাকায় রাত থেকে বৃষ্টির পানি জমতে শুরু করেন। নিষ্কাশনের তেমন ব্যবস্থা না থাকায় মঙ্গলবার দুপুরেও হাটু পানি জমে রয়েছে। অনেক এলাকাতেই টিনের তৈরি বাড়ি ঘর ঝড়ের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। সস্তাপুর এলাকার সোহাগ মিয়া জানান, দক্ষিণ সস্তাপুর এলাকায় বায়তুল মনির রোডে অবস্থিত সাহাবুদ্দিন মিয়ার বাড়িতে একাধিক বড় বড় আমগাছ ঝড়ে উপড়ে ফেলেছে। এ এলাকায় অনেকে বাড়িতেই ঝড়ে অনেক ফল গাছ ক্ষতি হয়েছে। একই এলাকার সাহাবুদ্দিন জানান, ঝড়ে তার টিনে ঘরের চাল উড়িয়ে নিয়ে গেছে। পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে রাত কাটিয়েছেন। পরে সকালে উড়িয়ে নেয়া ভাঙ্গাচুরা টিন কুড়িয়ে এনে ঘরের চাল দিয়েছেন। তিনি সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন।
আড়াইহাজার বিদ্যুতহীন
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর তান্ডবে আড়াইহাজারে শতশত বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছপালা উপড়ে পড়েছে। ফসল ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ২০ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুতহীন থাকতে হচ্ছে কয়েক লাখ মানুষের। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে বলে আশ্বস্ত করেছে বিদ্যুৎ অফিস।
রোববার রাত থেকে সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত একটানা বৃষ্টি ও ঝড়ে গাছপালা,বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে ও ভেঙ্গে যায়। এ ছাড়াও কোন কোন স্থানে বিদ্যুতের তারের উপড় গাছ পড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপজেলার বেশীরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিলো। এছাড়া ঝড়ো হাওয়া ও প্রবল বর্ষণের কারণে ফসল ও সবজিক্ষেতগুলোতে পানি আটকে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সোমবার দুপুর থেকে মোবাইল নেটওর্য়াক বন্ধ থাকায় মানুষের মোবাইল যোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকে। নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়াইহাজার জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আসাদুজ্জামান জানান, তার অফিসের আওতায় প্রায় ৩ শতাধিক গাছপালা ও ২শ’ বেশী বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে ও ভেঙ্গে ফেলে এ ঝড়। ঝড়ে বিদ্যুতের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় তা স্বাভাবিক করতে আরো সময় লাগবে বলেও তিনি জানান। তবে ফসলের ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বাজারে সবজির দাম বেঁড়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com