Logo
HEL [tta_listen_btn]

বর্ণাঢ্য আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং ডে

বর্ণাঢ্য আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং ডে

নিজস্ব সংবাদদাতা
কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মূলমন্ত্র শান্তি শৃংখলা সর্বত্র এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিউনিটি পুলিশিং ডে পালন করা হয়েছে। এদিন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের আয়োজনে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতিক। অনুষ্ঠানে কমিউনিটি পুলিশিং ডে উপলক্ষ্যে ১জন শ্রেষ্ঠ কমিউনিটি পুলিশিং কর্মকর্তা ও ৫জন শ্রেষ্ঠ কমিউনিটি পুলিশিং সদস্যকে সম্মাননা শ্রেষ্ঠ প্রদান করা হয়। জেলার শ্রেষ্ঠ কমিউনিটি পুলিশিং কর্মকর্তা হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হামিদুর রহমান। এদিকে, শ্রেষ্ঠ কমিউনিটি পুলিশিং সদস্য হিসেবে সম্মাননা দেয়া হয়েছে বন্দর থানা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন আনু, জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সহ-সভাপতি কাওসার আহাম্মেদ পলাশ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফ মিহির, অফিস সম্পাদক মোহাম্মাদ কামাল হোসেন ও ফতুল্লা কমিউনিটি পুলিশিং সভাপতি মোস্তফা কামাল। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) গোলাম মোস্তফা রাসেল’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মঞ্জুরুল হাফিজ, র‌্যাব-১১ অধিনায়ক (সিইও) তানভীর মাহমুদ পাশা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দন শীল, জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি প্রবীর কুমার সাহা, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সাবেক সভাপতি ডা. শাহ নেওয়াজ চৌধুরী, বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি কাওসার আহাম্মেদ পলাশ, অফিস সম্পাদক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, সোনারগাঁও উপজেলার চেয়ারম্যান এড. শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লায়ন মো. মাহাবুব রহমান বাবুল,শিপন সরকার, সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী, ফতুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন, আড়াইহাজার পৌরভার মেয়র মো. সুন্দর আলী, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিএম আরমান, ফতুল্লা কমিউনিটি পুলিশিং সভাপতি মোস্তফা কামাল, কমিউনিটি পুলিশিং সিদ্ধিরগঞ্জ সেক্রেটারী আনিসুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিপন সরকার শিখনসহ নেতৃবৃন্দ। প্রধান অতিথি নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতিক বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং মানে হলো সাধারণ মানুষের সাথে পুলিশের একটা সম্পর্ক তৈরী করা। অনেক সময় দেখা যায় আমাদের সমাজের অনেক কাজ পুলিশের কাছে পৌঁছায় না। তখন এই কমিউনিটি পুলিশের মাধ্যমে এসক সমস্যার সমাধান হয়ে থাকে। একটা বাল্যবিবাহ ঘটলে সেখানে কমিউনিটি পুলিশিং এর মাধ্যমে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। কমিউনিটি পুলিশিং এর কাজ হচ্ছে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করা এবং পুলিশ কর্তৃক সেই বাল্য বিবাহ, নারী নির্যাতনের মতো অপরাধ বন্ধ করা। আর এইভাবেই আমাদের আইনশৃংঙ্খলার উন্নতি হবে। বিশেষ অতিথি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন, আমরা দোষ ধরতে অভ্যস্ত। আমরা দোষ ধরতে খুব পছন্দ করি। কারণ এটা আমাদের একটা ন্যাচার। আমরা মানুষের ভালোর থেকে খারাপের দিকটা দেখি বেশী। এমন কোন সেক্টর নাই যে সেক্টরে পারফেক্ট আছে। রাজনীতিতে সবাই পারফেক্ট না, সাংবাদিকতা বলেন, শিক্ষকতা বলেন, হুজুর বলেন, পুলিশ বলেন, সেনা বাহিনী বলেন বা প্রশাসন বলেন, পারফেক্ট না। সবাই যদি পারফেক্ট হতো তাহলে তো আর পৃথিবীতে কোন অশান্তি থাকতো না। প্রত্যকেটায় ভালা-খারাপ থাকে। সংখ্যা কোনটা বেশী সেটা দেখতে হবে। আমরা অনেক সময় পুলিশের দোষ ধরি কিন্তু একটা জিনিস দেখেন এদের কিন্তু পার্সোনাল লাইফে ছুটি বলতে কিছু নাই। র‌্যাবের সদস্য তাদেরও ছুটি বলতে কিছু নাই। এদের ঈদে, পূজায়, নববর্ষেও ডিউটি করতে হয়। পরিবারের সাথে গল্প করবে এমন সময় এদের জীবনে খুব কম আসে।  নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং এর কন্সেপ্টটা আরও ১৯১ বছর আগের। ব্রিটিশ স্টেট ম্যান রবাট পিল নামে একজন এই কমিউনিটি পুলিশিং এর কন্সেপ্ট চালু করেন। আমি বরাবরই বলি, পুলিশ প্রশাসন আইনশৃংঙ্খলা রাক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে সব সম্ভব হয় না। আমরা সব কিছু পারি না। আর সব কিছুর জন্য দরকার সকল মানুষের সহযোগিতা। আমরা যখন আইন প্রয়োগ করি এটা সোসাইটিতে যেমন এক্সেপ্ট হয়, যারা জনপ্রতিনিধি আছে তাদের মাধ্যমে যখন আইন প্রয়োগ করি, সেটা আরও সার্থক হয়, তার স্থায়ীত্ব থাকে। মানুষ তখন মনে করে না আমি তাকে টর্চার করলাম তখন মানুষ আইনের প্রয়োগ মেনে চলে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু যখন রাজারবাগ এসেছিলেন, তখন বলেছিলেন প্রতিটা ইউনিয়নে ইউনিয়নে কমিউনিটির সাথে মিশে কাজ করার ব্যবস্থা করো। আমাদের পুলিশ রেজুলেশন অব বেঙ্গল এ লেখা আছে কিভাবে আমরা জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নের কাছে পুলিশের সেবা পৌঁছে দিতে পারবো, নির্দেশনা আছে। দেরিতে হলেও আমাদের বাংলাদেশে কমিউনিটি পুলিশিং এর ব্যবস্থাটা চালু করতে পেরেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায়। আজকের এই কমিউনিটি পুলিশিং এর কার্যক্রম থেকে আমি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম। র‌্যাব-১১ অধিনায়ক (সিইও) তানভীর মাহমুদ পাশা বলেন, পুলিশ এমন একটি প্রতিষ্ঠান যারা সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা প্রদান করে থাকে। এখানে মানুষকে খুশি করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ মানুষ আশা করে তারা শতভাগ সার্ভিস পাবে, যেটা একটা বাহিনীর সম্ভব হয় না। কমিউনিটি পুলিশিং একমাত্র মাধ্যম যেটা দিয়ে মানুষের সাথে পুলিশকে সম্পৃক্ত করা। জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি প্রবীর কুমার সাহা বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং যে উদ্দেশ্য করা সেটা খুব মহত উদ্দেশ্য। নারায়ণগঞ্জে কমিউনিটি পুলিশিংকে বেগবান করার জন্য পুলিশ সুপার মহদয় খুব ভালো উদ্যোগ নিয়েছেন। কমিউনিটি পুলিশিং যে উদ্দেশ্য করা আমাদের বিভিন্ন ফেসটুনে যে কথাগুলো আছে তা যদি আমরা পূরণ করতে পারি তাহলে আমাদের উদ্দেশ্য সার্থক হবে। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রসাশন ও অর্থ) মো. জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রসিকিউশন) শাওন শায়লা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. সোহান সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ বিল্লাল হোসেন, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) আবির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (ডিআইও-১) মো. কামরুল ইসলাম মিঞা, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা ইন্সপেক্টর (অফিসার ইনচার্জ) আনিচুর রহমান মোল্লা, ফতুল্লা মডেল থানা ইন্সপেক্টর (অফিসার ইনচার্জ) শেখ রিজাউল করিম দিপু, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ইন্সপেক্টর (অফিসার ইনচার্জ) মো. মশিউর রহমান, বন্দর থানা ইন্সপেক্টর (অফিসার ইনচার্জ) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, রূপগঞ্জ থানা ইন্সপেক্টর (অফিসার ইনচার্জ) এএফএম সায়েদ, আড়াইহাজার থানা ইন্সপেক্টর (অফিসার ইনচার্জ) আজিজুল হক হাওলাদার, সোনারগাঁও থানা ইন্সপেক্টর (অফিসার ইনচার্জ) মাহাবুব আলম, উপ-পুলিশ পরিদর্শক (ইনচার্জ, আইসিটি এন্ড মিডিয়া) হাফিজুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ
কমিউনিটি পুলিশিং এর মূলমন্ত্র শান্তি শৃঙ্খলা সর্বত্র এই ¯েøাগানকে প্রতিপাদ্য রেখে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের উদ্যোগে কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২২ পালিত হয়েছে। শনিবার (২৯ অক্টোবর) এ উপলক্ষে দুপুর ১টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে হাইওয়ে পুলিশ, কমিউনিটি পুলিশ এবং স্থানীয় পরিবহন সেক্টরের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। পরে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নবীর হোসেন এর সভাপতিত্বে এবং ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) সৈয়দ নাজমুল হোসেনে’র সঞ্চালনায় থানা ভবনে কমিউনিটি পুলিশিং ডে এর বিভিন্ন বিষয়াদি সম্পর্কে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার মো. আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের কথা পুলিশ জানতে পারবে। যতদিন রাষ্ট্র আছে, ততদিন কমিউনিটি পুলিশিং থাকবে। মানুষের মাঝে যেন অপরাধ প্রবণতা না জন্মায়, কমিউনিটি পুলিশিং সে বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করে যাচ্ছে। কমিউনিটি পুলিশিং এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে, পুলিশ ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা। সেই সাথে পুলিশিং সেবা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে পুলিশকে সহযোগিতা করতে সকলের নিকট আহŸান জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, শিমরাইল হাইওয়ে ক্যাম্পের ইনচার্জ শরফুদ্দিন, ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ওমর ফারুক, বাংলাদেশের ট্রাক কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির শিমরাইল শাখার সাধারণ সম্পাদক মো.সফিকুল ইসলাম উজ্জল, কার্যকরী সভাপতি আব্দুল সাত্তার, সহ-সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেন্টু ব্যাপারী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খোকন সাহ, দপ্তর সম্পাদক মো. নাজমুল প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com