Logo
HEL [tta_listen_btn]

কাতার বিশ্বকাপে নজর কাড়বে যারা

কাতার বিশ্বকাপে নজর কাড়বে যারা

ক্রীড়া সংবাদদাতা
কাতারে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থখ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি মাত্র ২ দিন। খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার অনেক বড় এক ক্ষেত্র এই বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ দিয়েই অনেক নামকরা ফুটবলার নিজের ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানেন। আবার অনেকে বিশ্বকাপে নিজের সেরাটা দিয়ে জাত চেনানোর চেষ্টা করেন। তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য বিশ্বকাপ ফুটবল আসর হতে পারে বেশ বড় উপলক্ষ।সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিভিন্ন দেশ থেকে নজর কাড়বে তারকা ফুটবলাররা। চলুন জেনে নেয়া যাক বিভিন্ন দেশের তারকা ফুটবলার সম্পর্কে।
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)
লিওনেল আন্দ্রেস মেসির জন্ম ২৪ জুন ১৯৮৭। তিনি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় যিনি ফরাসী পেশাদার লিগের শীর্ষস্তর লিগ ১ এর ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই এবং আর্জেন্টিনার জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন। তিনি বর্তমানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। লিওনেল মেসি টানা ৪ বারসহ মোট ৭ বার ব্যালন ডি’অর জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, যা ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর পাশাপাশি তিনি সর্বোচ্চ ৬ বার ইউরোপীয় সোনালী জুতো জয়েরও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তাঁর পেশাদার ফুটবল জীবনের পুরোটাই কেটেছে বার্সেলোনায়। যেখানে তিনি ১০টি লা লিগা, ৪টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ণস লিগ এবং ৬টি কোপা দেল রেসহ মোট ৩৩টি শিরোপা জয় করেছেন, যা বার্সেলোনার ইতিহাসে কোন খেলোয়াড়ের পক্ষে সর্বোচ্চ। এছাড়াও একজন অসাধারণ গোলদাতা হিসেবে মেসির দখলে রয়েছে লা লিগায় সর্বোচ্চ সংখ্যক গোল ৪৪০টি। লা লিগা ও ইউরোপের যেকোনো লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল ৫০টি। ইউরোপে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল ৭৩টি। এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ গোল ৯১টি। এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল ২৬টি এবং লা লিগা ৩৪টি ও চ্যাম্পিয়ণস লিগে ৮টি সর্বোচ্চ হ্যাট্রিকের কৃতিত্ব। পাশাপাশি মেসি একজন সৃষ্টিশীল প্লেমেকার হিসেবেও পরিচিত। তিনি লা লিগা ১৮৩টি এবং কোপা আমেরিকার ১২ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলে দাতা।
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল)
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো একজন পর্তুগিজ পেশাদার ফুটবলার, তার জন্ম ১৯৮৫ সালের ৫ই ফেব্রæয়ারি। তিনি প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং পর্তুগাল জাতীয় দলে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলে থাকেন। প্রায়ই বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গণ্য রোনালদো ৫টি ব্যালন ডি’অর এবং ৪টি ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু অর্জন করেছেন, যা কোন ইউরোপীয় খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড সংখ্যক জয়। কর্মজীবনে তিনি ৩২টি প্রধান সারির শিরোপা জয় করেছেন, তন্মধ্যে রয়েছে ৭টি লিগ শিরোপা, ৫টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ণস লিগ, একটি উয়েফা ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ণশিপ এবং একটি উয়েফা নেশনস লিগ শিরোপা। রোনালদোর চ্যাম্পিয়ণস লিগে সর্বাধিক ১৩৪টি গোল এবং ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ণশিপে সর্বাধিক ১২টি গোলের রেকর্ড রয়েছে। তিনি অল্পসংখ্যক খেলোয়াড়দের একজন যিনি ১ হাজার ১শ’টির উপর পেশাদার খেলায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং তার ক্লাব ও দেশের হয়ে ৭৯০টির বেশি গোল করেছেন। তিনি ১০০টি আন্তর্জাতিক গোল করা দ্বিতীয় পুরুষ ফুটবলার এবং প্রথম ইউরোপীয়।
নেইমার দ্যা জুনিয়র (ব্রাজিল)
নেইমার দা সিলভা সান্তোস জুনিয়রের জন্ম ৫ ফেব্রæয়ারি ১৯৯২। তিনি সাধারণত নেইমার নামে পরিচিত, একজন ব্রাজিলীয় পেশাদার ফুটবলার, যিনি ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে একজন ফরোয়ার্ড বা উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। তাকে আধুনিক বিশ্বের উদীয়মান ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম মনে করা হয়। নেইমার ১৯ বছর বয়সে ২০১১ এবং ২০১২ সালে দক্ষিণ আমেরিকার বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে নেইমার ফিফা ব্যালন ডি’অরের জন্য মনোনয়ন পান, তবে ১০ম স্থানে আসেন। তিনি ফিফা পুরস্কারও অর্জন করেন। তিনি সর্বাধিক পরিচিত তার ত্বরণ, গতি, বল কাটানো, সম্পূর্ণতা এবং উভয় পায়ের ক্ষমতার জন্য। তার খেলার ধরনের কারণে সমালোচকদের প্রশংসা ও মিডিয়া কাভারেজ পেয়েছেন এবং তাকে সাবেক ব্রাজিলীয় ফুটবলার পেলের সঙ্গে তুলনা করা হয়।
কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)
কিলিয়ান এমবাপে লোত্ত্যাঁ ফ্রান্স জাতীয় দল এবং পিএসজির অন্যতম স্ট্রাইকার। জনপ্রিয় এই ফুটবল তারকা ১৯৯৮ সালের ২০ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বর্তমানে ফ্রান্সের পেশাদার ফুটবল লিগের শীর্ষ স্তর লিগ ১-এর ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন। তিনি ফ্রান্সের হয়ে এপর্যন্ত ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ এবং উয়েফা ইউরো ২০২০-এ অংশগ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে ২০১৮ সালে দিদিয়ে দেশের অধীনে ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জয়লাভ করার পাশাপাশি ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে গোল করেছেন এবং পেলের পর দ্বিতীয় তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করেছেন।
গাভি (স্পেন)
বার্সালোনার এই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার চলতি বছরের ৫ আগস্ট ১৮ বছরে পা দিয়েছেন। সেই সাথে ডাক পেয়েছেন স্পেনের বিশ্বকাপ দলেও। স্পেনের বিস্ময় বালক ইতোমধ্যে নিজের প্রতিভাকে জানান দিয়েছেন বার্সার হয়ে। বার্সার হয়ে গাভি ১৯ ম্যাচ খেলেছেন। জাতীয় দলের হয়ে ১২ ম্যাচে এক গোল করেছেন।
বিলাল এল খান্নাওস (মরক্কো)
বিলাল এল খান্নাওস চলতি বছরের ১০ মে ১৮ বছরে পা দিয়েছেন। এই মিডফিল্ডার মরক্কোর বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়েছেন। বেলজিয়ামের ক্লাব রেসিং জেংকের হয়ে খেলছেন তিনি। বেলজিয়াম জাতীয় দলের হয়ে খেলারও সুযোগ ছিল তার সামনে। কিন্তু তিনি মরক্কোকে বেছে নিয়েছেন। ১৪ বছর বয়সে রেসিং জেংকে দলে যোগ দেন খান্নাওস। বেলজিয়ামের অনূর্ধ্ব ১৫ ও ১৬ দলের হয়েও খেলেছেন। চলতি মৌসুমে ১৬টি ম্যাচে অংশ নিয়ে একটি অ্যাসিস্ট করেছেন। মূলত মিডফিল্ডার হয়ে খেললেও রক্ষণভাগে বেশ ভালো ভূমিকা রাখেন তিনি।
জুইসন বেনেট (কোস্টারিকা)
চলতি বছরের ১৫ জুন ১৮ বছরে পা দিয়েছেন এই মিডফিল্ডার। বর্তমানে খেলছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সান্ডারল্যান্ডের হয়ে। বিশ্বকাপে কোস্টারিকার জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন এই তরুণ। লিগে ১৬ ম্যাচে অংশগ্রহণ করে ৩টি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছেন। জাতীয় দলের হয়ে এই তরুণ ফুটবলার ৭ ম্যাচে ২টি গোল ও ২টি অ্যাসিস্ট করেছেন। গতি ও দারুণ স্কিলের জন্য তিনি অল্প বয়সে সবার নজর কেড়েছেন।
গারাং কৌল (অস্ট্রেলিয়া)
চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ১৮ বছরে পা দেয়া এই ফরোয়ার্ড বর্তমানে খেলছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের হয়ে। দারুণ পারফরম্যান্সে জায়গা করে নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলে। ১২ টি লিগ ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন এই ফরোয়ার্ড। ২৫ সেপ্টেম্বর নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম আর্ন্তজাতিক ম্যাচ খেলেন তিনি। দুরন্ত গতি, চমৎকার স্কিলের অধিকারী এই তরুণ ফুটবলার বিশ্বকাপে নজর কাড়বে সবার।
মেসুত ওজিল (জার্মানি)
মেসুত ওজিল এর জন্ম অক্টোবর ১৯৮৮) একজন জার্মান ফুটবলার যিনি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলে থাকেন। ওজিল ২০০৬ সাল থেকে জার্মানির বয়সভিত্তিক দল এবং ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জার্মানি জাতীয় ফুটবল দলে খেলেছেন। ২০১০ ফিফা বিশ্বকাপের পারফর্মেন্সের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হন এবং গোল্ডেন বল অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত করা হয়, যা টুর্ণামেন্টের সেরা খেলোয়াড়কে দেয়া হয়। ওজিল ২০০৬ সালে তার বরিষ্ঠ(সিনিয়র) ক্যারিয়ার শুরু করেন বুন্দেসলিগায় তার আদি শহরের ক্লাব শার্লকে ০৪ এর হয়ে। ২০০৮ সালে তিনি ওয়ের্ডার ব্রেমেনে চলে আসেন এবং ২০১০ সালে বিশ্বকাপে তার দারুণ পারফর্মেন্সে মুগ্ধ হয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ওই বছরের আগস্ট মাসে তাকে দলে নেয়।২০১৩ সালের সামার ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষ দিনে আর্সেনাল তাদের ক্লাব রেকর্ড ৪২.৫ মিলিয়ন ইউরোর মাধ্যমে তাকে দলে নিয়ে আসে। এর মাধ্যমে তিনি জার্মানির সর্বকালের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় হন।
জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড)
১৯ বছর বয়সেই ইংল্যান্ড দলের মাঝমাঠের ভরসা হয়ে উঠেছেন তরুণ জুড বেলিংহাম। পেয়েছেন বিশ্বকাপের দলে ডাক। ১৭ বছর ১৩৬ দিন বয়সে জাতীয় দলে তার অভিষেক হয়েছিল তার। সেই ১৭ বছর বয়সেই জাতীয় দলের হয়ে পুরো ৯০ মিনিট খেলে ইউরোর ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন। বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মধ্যমাঠেরও অন্যতম ভরসা এই তরুণ। ইংল্যান্ডের হয়ে এ পর্যন্ত ১৭ ম্যাচ খেলেছেন বেলিংহাম। বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে খেলেছেন ১২৩ ম্যাচ। তাতে ১৯ গোল ও ২৩ টি অ্যাসিস্ট করে আলো কেড়েছেন তরুণ এ ফুটবলার।
পেদ্রি (স্পেন)
১৯ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার একজন নিয়মিত খেলোয়াড়। বার্সা ও স্পেনের মধ্যমাঠের প্রাণভোমরা বলা হয় তাকে। একজন মিডফিল্ডার হলেও বিপক্ষের রক্ষণভাগে সব সময় থাকে তার আনাগোনা। ২০১৯ সালে লাস পালমাসের মূল দলে খেলার মাধ্যমে জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করেন। লাস পালমাসের হয়ে মাত্র ১ মৌসুম খেলার পর ২০২০ সালে তিনি যোগ দেন বার্সায়। বার্সার হয়ে ৭৩টি ম্যাচ ইতোমধ্যে খেলেছেন পেদ্রি। স্পেনের হয়ে খেলেছেন ২০২০ সালের ইউরো। জাতীয় দলের হয়ে মোট ১৪টি ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। সব লিগ মিলিয়ে ১৩০ ম্যাচে ১৬ গোল করেছেন। এই বিশ্বকাপেও স্পেনের মাঝমাঠের অন্যতম প্লে-মেকার ভাবা হচ্ছে তাকে।
জামাল মুসিয়ালা (জার্মানি)
১৯ বছর বয়সী এই তরুণ মিডফিল্ডার বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলছেন। মূলত মিডফিল্ডার হলেও বিপক্ষের ডি-বক্সে তার উপস্থিতি থাকে সব সময়। ২০১৬ সালে মুসিয়ালা ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে খেলেছেন। ২০২১ সালে জার্মানির হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিষেক হয় তার। জার্মানির জার্সি গায়ে তিনি এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন। কজার্মানদের হয়ে অংশ নিয়েছেন ২০২০ সালের ইউরোতে। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চলতি মৌসুমে ৯ ম্যাচে ৫ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেছেন মুসিয়ালা। গোল করা ও গোলে সহায়তায় পারদর্শী তরুণ এ ফুটবলার বিশ্বকাপে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় থাকতে পারেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com