Logo
HEL [tta_listen_btn]

চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের বিক্ষোভ

চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের বিক্ষোভ

সিদ্ধিরগঞ্জ সংবাদদাতা
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার শিমরাইল এলাকার অ্যাপলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেড কারখানার চাকরিচ্যুত শ্রমিক কর্মচারীদের আইনগত পাওনাদী পরিশোধের দাবিতে কারখানার গেটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার (২১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত এ বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শতাধিক শ্রমিক কর্মচারি। আন্দোলনরত শ্রমিক কমিটির সভাপতি আলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র টিইউসির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাফিজুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল হাই শরীফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র জেলা কমিটির সভাপতি এমএ শাহীন, সদস্য নুর ইসলাম আক্তার, প্যারাডাইস কেবল শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো. সেলিম মিয়া, দপ্তর সম্পাদক আবু বক্কর, অ্যাপলোর শ্রমিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, বানু বেগম প্রমুখ। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, অ্যাপলো ইস্পাতের শ্রমিক কর্মচারীরা বছরের পর বছর এ কারখানায় কাজ করেছে। অনেকের পুরো জীবনটাই এখানে কাঁটিয়ে দিয়েছে। তাদের শ্রম ঘাঁম নিয়ে মালিক কোটি কোটি টাকা মুনাফা করেছেন। এখন হঠাৎ করে গত জুলাই মাসে কারখানাটি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে শ্রমিক কর্মচারীরা তাদের পরিবার স্বজন নিয়ে চরম বিপদে পড়েছে। দেশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে বর্তমান সময়ে শ্রমজীবি মানুষ যা আয় করে তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। এই দুরাবস্থার মধ্যে কারখানা মালিক ২১৪ শ্রমিক কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাদের আইনগত পাওনাদী পরিশোধ করছে না। নানান টালবাহানায় হয়রানি করছে। ফলে চাকুরিচ্যুত শ্রমিক কর্মচারীরা পরিবার স্বজন নিয়ে আধ পেটা খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ইতোমধ্যে তাদের বকেয়া বেতন-ভাতাও আন্দোলন করেই আদায় করতে হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এখনো শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরির ক্ষতিপূরণ (সার্ভিস বেনিফিট) পরিশোধ করে নাই। তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অ্যাপোলো শ্রমিক কর্মচারিদের সংকট নিরসনের জন্য রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল দপ্তরকে লিখিতভাবে অবহিত করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। এতে নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোন প্রকার ষড়যন্ত্র করে শ্রমিক কর্মচারিদের আইনি পাওনা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। অবিলম্বে আইনগতপাওনা সম্পূর্ণ প্রদান করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন অব্যাহতভাবে চলবে। পর্যায়ক্রমে কঠোর থেকে আরও কঠোরত আন্দোলন গড়ে তুলে দাবি আদায় করার হুঁশিয়ারী দেয়। যার প্রেক্ষিতে মালিক কর্তৃপক্ষ শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে কারখানায় ভিতরে আলোচনায় বসেন। সেখানে শিল্প ও পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। মালিক দেশের বাহিরে থাকার কারণে কর্তৃপক্ষ আগামী ১২ ডিসেম্বর কলকারখানা অধিদপ্তরে আলোচনা বৈঠকে বসে সংকট সমাধানের সিদ্ধান্ত দেয়। ফলে শ্রমিক কর্মচারীরা শান্ত হয়ে বাড়ি চলে যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com