Logo
HEL [tta_listen_btn]

বাপ্পি চত্বরে অনুমোদনহীন ফ্লোর নির্মাণ!

বাপ্পি চত্বরে অনুমোদনহীন ফ্লোর নির্মাণ!

নিজস্ব সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডে বাপ্পি চত্বর এলাকার একটি ৪ তলা ভবন ওই এলাকার বাসিন্দারের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নাজমুল এবং সাঈদ হাসান গং রাজউক এবং সিটি কর্পোরেশনের কোনরকম অনুমোদন ছাড়াই ৪ তলা ভবনের উপর ৫ম তলা নির্মাণ করছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, রাজউক থেকে দুই দফা চিঠি দিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হলেও কোনো নির্দেশনারই তোয়াক্কা করছেন না ভবন কর্তৃপক্ষ। এতে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এছাড়াও জনগণের চলাচলের রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণের কাজ করছে। তাদের দাবি, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ করে দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার। সরেজমিনের ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, শহরের ১৮নং ওয়ার্ড এলাকায় বাপ্পি চত্বরের মূল সড়কের পাশেই অনুমোদনহীন ভাবে ৫ম তলার নির্মাণ কাজ চালানো হচ্ছে। সেখানে ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে যা ইমারত নির্মাণ আইনের পরিপূর্ণ লংঘন। তাছাড়া ভবনের পাশ দিয়ে জনগণের চলাচলের রাস্তা অনেকটাই দখল করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে করে এলাকাবাসীর চলাচলের বিঘœ ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্মাণাধীন ভবনের রাজউক অনুমোদিত নকশা দাখিলের জন্য ভবন মালিককে দুই দফা নোটিশ পাঠানো হয়েছিলো কিন্তু তিনি কোনো নোটিশের জবাব দেননি। ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর এবং ৩০ নভেম্বর রাজউক কর্তৃক দুই দফা নোটিশ প্রদান করা হয় যার স্মারক নাম্বার ২৫.৩৯.০০০০.১৩৮.৩২.৪০৫.২২ ও ২৫.৩৯.০০০০.১৩৮.৩২।
৩০ নভেম্বরের দ্বিতীয় নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সরজমিন পরিদর্শনকালে রাজউক অনুমোদিত নকশা প্রদর্শন না করায় আপনাকে/আপনাদের রাজউক অনুমোদিত নকশা দাখিলের নোটিশ প্রদান করা হয় কিন্তু আপনি নির্দেশ মোতাবেক নির্মাণ সাইডে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন যা ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ এর ৩ বি ধারার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এমতাবস্থায় ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ এর ৩ বি ধারা অনুযায়ী অবৈধভাবে নির্মিত আপনার ইমারতের স্থাপনার অংশটুকু কেনো ভেঙ্গে ফেলে/অপসারণের আদেশ দেয়া হবে না তা আগামী ৭ দিনের মধ্যে নি¤œস্বাক্ষরকারী বরাবর লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে বলা হলো। অন্যথায় আপনার বিরুদ্ধে ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই সাথে সকল প্রকার নির্মাণ কাজ বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হলো। এ বিষয়ে ভবন মালিক সাঈদ হাসান বলেন, আমরা রাজউকের চিঠির জবাব দিয়েছি। আমাদের সকল কাজ অনুমোদন নিয়েই করা হচ্ছে। বিষয়টি আমরা স্থানীয় কাউন্সিলর এবং সদর মডেল থানার ওসিকে জানিয়েছি। স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটিকেও জানিয়েছি। আগামী শনিবার (৭ জানুয়ারি) সদর মডেল থানায় এ বিষয়ে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে আমি আমার সকল কাগজপত্র উপস্থাপন করবো। এ বিষয়ে রাজউক নারায়ণগঞ্জ জোনের অথরাইজড অফিসার ইলিয়াস হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমাদের ফিল্ড ইন্সপেক্টর শফিক বলতে পারবেন। বিষয়টি নিয়ে ফিল্ড ইন্সপেক্টর শফিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মাত্র দু’দিন হলো নারায়ণগঞ্জে জয়েন করেছি। তাই আমি এ বিষয়ে পুরাপুরি ওয়াকিবহাল না। তাছাড়া আমি এখনো সরেজমিনে ওই এলাকা পরিদর্শন করিনি। আমি পুরো বিষয়টি জেনে জানাতে পারব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com