Logo
HEL [tta_listen_btn]

বিএনপির পদযাত্রায় পুলিশের গুলি আড়াইহাজরে গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০ জন হাসপাতালে 

বিএনপির পদযাত্রায় পুলিশের গুলি আড়াইহাজরে গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০ জন হাসপাতালে 

নিজস্ব সংবাদদাতা
আড়াইহাজারে বিএনপির পদযাত্রায় পুলিশ ও নেতাকর্মীদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাতগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি নাহিদ মোল্লা গুলিবিদ্ধসহ ২০ জনআহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে পুলিশের ৩ জন সদস্যও আহত হয়েছেন। শনিবার (১১ ফেব্রæয়ারি) দুপুরে আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের পাঁচরুখী এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শর্টগানের গুলি ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করেছে।এ ঘটনায় আহতদের নাম পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। আড়াইহাজার পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, বিদ্যুৎ, গ্যাস, নিত্যপণ্যসহ কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সরকারের পদত্যাগ, খালেদা জিয়া ও নেতাকর্মীদের মুক্তিসহ ১০ দফা দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত পদযাত্রার অংশ হিসেবে সাতগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে মিছিল বের করা হয়। এসময় পুলিশ তাদের পদযাত্রায় বাধা দেয়। একপর্যায়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে পুলিশ গুলি ছুঁড়লে আমাদের ছাত্রদল নেতা নাহিদের শরীরে ছিটা গুলি এসে লাগে। এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আড়াইহাজারের প্রতিটি ইউনিয়নে পদযাত্রা কর্মসূচীর আয়োজন করি। এরই ধারাবাহিতকায় আমরা সাতগ্রাম ইউনিয়নে পদযাত্রা নিয়ে বের হলে পুলিশ আমাদের বাধা দেয়। আর একপর্যায়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পুলিশ রাবার বুলেট ছুঁড়ে। এতে আমাদের ২০-২৫জন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়। এসময় পুলিশের ধাক্কা-ধাক্কিতে আমিও আহত হই। আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জুয়েল বলেন, পুলিশের গুলিতে আমাদের বিএনপির ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে গাউসিয়া হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহŸায়ক মনিরুল ইসলাম রবি জানান, আমাদের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা করে মহাসড়কে উঠা মাত্রই ছাত্রলীগ-যুবলীগের গুন্ডারা ও পুলিশ তাদের উপর হামলা করে। এসময় নজরুল ইসলাম আজাদসহ অর্ধশতাধীক নেতাকর্মী আহত হয়। আওয়ামী লীগ ও পুলিশ পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এই হামলা চালিয়েছে। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক হাওলাদার বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উঠে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। তারা গাড়ি চলাচল রোধ করে গাড়ি ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। আমরা তাদের থামানোর চেষ্টা করলে তারা রাস্তা ছাড়তে রাজি হয়নি। একপর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও কাঁদানো গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তবে কত রাউন্ড রাবার বুলেট ও কাঁদানো গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে তাৎক্ষনিক তিনি জানাতে পারেননি। নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) আবির হোসেন বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক বন্ধ করে কর্মসূচী পালন করছিল। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে চাইলে তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশ সদস্যরা ৪০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তাদের ইট-পাটকেলে আমাদের ৩জন সদস্য আহত হয়েছেন।
রূপগঞ্জ
রূপগঞ্জের ৫ ইউনিয়নে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচীকে ঘিরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় এক যুবদল নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ইউনিয়নগুলোতে শান্তি সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ। বিএনপি পালন করে পদযাত্রা কর্মসূচী। গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন বিএনপির কর্মসূচী চলাকালীন গোলাকান্দাইল থেকে আটক করা হয়েছে ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান খোরশেদকে এমনটা অভিযোগ করেছেন রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন। তার দাবি, খোরশেদকে আটকের পর তাকে সোনারগাঁ থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। জানা যায়, শনিবার সকাল থেকে রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়ন, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন, মুড়াপাড়া ইউনিয়ন, গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন ও কায়েতপাড়া ইউনিয়নে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচী পালিত হয়। এরমধ্যে রূপগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির কর্মসূচীর শেষ পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসে তাদের ধাওয়া দেয়। একই সময়ে মুড়াপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির কর্মসূচীতে অংশ নেয়ায় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে প্রতিষ্ঠানে তালা মেরে দিয়েছে। এসময় দুই নেতাকর্মীকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। তবে আওয়ামী লীগের দাবি, কোনো হামলা নয়, বিএনপি-জামায়াত যেন কোনো নাশকতা করতে না পারে সেজন্য শান্তি সমাবেশ করেছে তারা। রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন জানান, আমরা ইতোমধ্যে ৫টি ইউনিয়নে আমাদের পদযাত্রা কর্মসূচী করেছি। রূপগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির কর্মসূচি শেষে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে এসে ঝামেলা করার চেষ্টা করে এবং মুড়াপাড়ায় আমাদের নেতাকর্মীরা পদযাত্রা কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছে বলে আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা মেরে দিয়েছে। এসময় আমাদের দু’জন কর্মীকে মারধর করা হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন বিএনপি কর্মসূচি থেকে ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান খোরশেদকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে আটক করে সোনারগাঁ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মুড়াপাড়ায় আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এদিকে জানা গেছে, মুড়াপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উভয়পক্ষই মাঠে শক্তি বৃদ্ধি করছে এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোন সময় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হতে পারে বলে আশংকা করছেন এলাকাবাসী। রূপগঞ্জের ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কোন সংঘর্ষের খবর আমরা পাইনি। কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আহসান উল্লাহ জানান, এরকম কোনো আটকের খবর আমার জানা নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com