Logo
HEL [tta_listen_btn]

অপ্রতিরোধ্য অয়ন ওসমানের ক্যাশিয়ার মানিক সাহা

দেশের আলো রিপোর্ট
পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পালিয়ে যাওয়া এমপি গডফাদার শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের ছায়ায় লালিত পালিত একটি অন্ধকার সাম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছেন মানিক সাহা। এই ধূর্ত ব্যবসায়ী, যিনি বি কে সাহা রোড, নিতাইগঞ্জের বাসিন্দা, তেল-চিনি-গমের সাধারণ ব্যবসার আড়ালে চালিয়ে যাচ্ছেন একটি বিষাক্ত জাল-হুন্ডি ব্যবসা, সুদখোরি, খাদ্য সিন্ডিকেট। এই মানিক সাহা একটি অপরাধী চক্রের মূল হোতা, যা সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে নিয়ে নিজের পকেট ভরিয়ে তুলছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর ছবি, যা দেশের অর্থনীতিকে খুঁড়িয়ে ফেলার ষড়যন্ত্রের নগ্ন রূপ প্রকাশ করে।
মানিক সাহার প্রধান অস্ত্র হলো হুন্ডি ব্যবসা, যা পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে অবৈধ অর্থপাচার তথা হুন্ডি ব্যবসা। তেল-চিনি-গমের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি আসলে অয়ন ওসমানের সমস্ত কুকর্মের সাথী এবং ক্যাশিয়ার। বিদেশে পালিয়ে থাকা ওসমান পরিবারের কাছে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব তার কাঁধে। এই অবৈধ চ্যানেল দিয়ে কোটি কোটি টাকা দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে দুর্বল করে তুলছে। ফ্যাসিস্ট শাসনের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা এই অপরাধী নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে তার লুটেরা খেলা, যার ফলে সাধারণ মানুষ হচ্ছে দুর্ভোগের শিকার। মানিক সাহার এই হুন্ডি নেটওয়ার্ক শুধু অর্থপাচার নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ, যা দেশের সার্বভৌমত্বকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
আরও ভয়াবহ তার সুদখোরির ব্যবসা। ধূর্ত মানিক সাহা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ নিয়ে মানুষকে পিষে ফেলছেন। স্বর্ণ, জমি-জমা এবং বাড়িঘরের দলিলের বিনিময়ে মোটা অংকের টাকা ধার দিয়ে, তিনি অসহায় মানুষকে ফাঁদে ফেলেন। জানা যায়, তার এই সুদের জাতাকলে পিষ্ট হয়ে অসংখ্য পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে। স্বর্ণ-গয়না হারিয়ে, বাড়িঘর বিক্রি করে অনেকে পথে বসেছেন। এই সুদখোরি নয়, এটি একটি নির্মম শোষণের চক্র, যা সমাজের দুর্বল অংশকে আরও দুর্বল করে তুলছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনের সময়ে এমন অপরাধীরা রাজত্ব করেছে, যারা মানুষের দুর্দশাকে পুঁজি করে নিজেদের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। মানিক সাহার এই ব্যবসা শুধু অনৈতিক নয়, এটি একটি সামাজিক অপরাধ, যা হাজারো পরিবারের স্বপ্নকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে।
নিতাইগঞ্জে খাদ্যদ্রব্যের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে এই মানিক সাহা। বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মিলের ডিও কিনে, খাদ্যপণ্য বাজারে না ছেড়ে মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেন তিনি। ফলে দ্রব্যমূল্য আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে, এবং সাধারণ মানুষের পকেট ফাঁকা হয়। এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে মানিক সাহা সাধারণ জনগণের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এটি শুধু ব্যবসা নয়, এটি একটি ষড়যন্ত্র যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে তুলেছে। ফ্যাসিস্ট শাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় এমন সিন্ডিকেটগুলো ফুলে-ফেঁপে উঠেছে, যা জনগণের রক্ত-ঘামের ফসল লুট করে নিয়েছে।
গত ছয় মাস যাবত মানিক সাহার নতুন লুটেরা(ব্যবসা) খেলা শুরু হয়েছে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ডেভেলপারের ব্যবসা। সম্প্রতি টানবাজারে অবস্থিত আশা ও মাশা সিনেমা হল ভেঙ্গে মাল্টিস্টোর বিল্ডিং নির্মাণের কাজ নিয়েছেন তিনি। জানা যায় অয়ন ওসমানের কুকর্মের সহযোগী মানিক সাহা নারায়ণগঞ্জের এলিট শ্রেণীর ক্লাব নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের মেম্বার হয়েছেন। সাধারণের মনে প্রশ্ন মানিক সাহার মতো ভন্ড প্রতারক সুদী ব্যবসায়ী কি করে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের মেম্বার হতে পারে!
এই মানিক সাহা চক্রকে অবিলম্বে থামাতে হবে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনের অবশেষ হিসেবে এমন অপরাধীরা এখনও সক্রিয়, যা জাতির জন্য হতাশা ও আশঙ্কার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এখনই হস্তক্ষেপ করতে হবে, না হলে এই লুটেরা মানিক সাহার পরিসর আরও বিস্তার লাভ করবে।
মানিক সাহা শুধু একজনের গল্প নয়, এটি একটি ব্যবস্থার পচনের চিত্র।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com