Logo
HEL [tta_listen_btn]

ফুটবল উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত না’গঞ্জ

নিজস্ব সংবাদদাতা
নারয়ণগঞ্জ জেলায় ফুটবলের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। অসংখ্য প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে নারায়ণগঞ্জে। স্থানীয় ক্লাবগুলোও নিয়মিত ফুটবল আয়োজন করে থাকে। তারপরও নারায়ণগঞ্জকে ফুটবল উন্নয়নের বরাদ্দ দেয়া হয়নি। কেনো বাদ দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নারায়ণগঞ্জবাসী জানতে চান, এর পেছনে নটের গুরু কে?
প্রসঙ্গত, দেশজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নের জন্য আটটি স্টেডিয়ামকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে ২৫ বছরের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এ সিদ্ধান্তকে ফুটবলের বৃহত্তর স্বার্থে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এই ৮টি স্টেডিয়ামের তালিকায় নারায়ণগঞ্জের কোনো স্টেডিয়ামের নাম না থাকায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন জেলার ক্রীড়ামোদী, সংগঠক এবং সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাবের আলোচনায় এখন একটাই প্রশ্ন ফুটবলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জেলা কেন উপেক্ষিত হলো?
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক ক্রীড়া আমিমুল এহসান গত ৪ সেপ্টেম্বর বাফুফের সাধারণ সম্পাদক বরাবর এক চিঠিতে নীলফামারী স্টেডিয়ামকে ২৫ বছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানান। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর আরও ৭টি স্টেডিয়ামকে একই শর্তে লিজ দেওয়া হয়। এই স্টেডিয়ামগুলো হলো গাজীপুর শহীদ বরকত, ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়াম, মুন্সিগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ লেঃ মতিউর রহমান স্টেডিয়াম, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম রাজশাহী, নোয়াখালীর শহীদ ভুলু স্টেডিয়াম, কক্সবাজারের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম এবং সিলেট জেলা স্টেডিয়াম।
দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রাজস্ব আদায়কারী এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জেলার কোনো স্টেডিয়ামকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করায় স্থানীয়রা এটিকে সরকারের উদাসীনতা হিসেবে দেখছেন। নারায়ণগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনের সাথে জড়িত অনেকেই মনে করেন, এ জেলায় ফুটবলের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে এবং অসংখ্য প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ক্লাবগুলোও নিয়মিত ফুটবল আয়োজন করে থাকে। তারপরও কেন এই শহরকে বাদ দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ফেসবুকে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, “অন্যান্য জেলায় স্টেডিয়াম বরাদ্দ দেওয়া হলেও নারায়ণগঞ্জের স্টেডিয়ামের কী অপরাধ? এই শহর কি দেশের অংশ নয়?” অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, অতীতেও নারায়ণগঞ্জকে বারবার উপেক্ষা করা হয়েছে। এবারের ঘটনা যেন সেই হতাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ তার ফেসবুক একাউন্টে নিন্দা জানিয়েছেন। ‘নারায়ণগঞ্জের নাম নেই কেন জানতে চাই? বলে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তার এই পোস্টে অনেকেই তার এই প্রশ্নের সাথে সহমত দিয়েছেন।

এদিকে, বরাদ্দকৃত স্টেডিয়ামগুলো বাফুফে ফিফা ও এএফসি-এর অর্থায়নে উন্নয়ন ঘটাতে চায়। ফিফা ও এএফসি সাধারণত এমন সম্পত্তিতে অর্থায়ন করে, যেখানে ফেডারেশনের সরাসরি স্বত্ব বা অধিকার ২৫ বছর বা তার বেশি সময় থাকে। এই কারণে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বাফুফের অনুরোধে লিজের মেয়াদ দুই যুগের বেশি রেখেছে। তবে বাফুফেকেই এসব স্টেডিয়ামের রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ বিল এবং ভূমি কর পরিশোধ করতে হবে। আয়-ব্যয়ের হিসাবও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে নিয়মিত জানাতে হবে।
নারায়ণগঞ্জের মানুষ আশা করছেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের এই ক্ষোভের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত নারায়ণগঞ্জকেও এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসবে। কারণ, ফুটবলের উন্নয়নে এ জেলার ঐতিহ্য ও অবদান অনস্বীকার্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com