ফতুল্লা সংবাদদাতা
আজ ভয়াল ২৯ নভেম্বর। ৫৪ বছর ধরে স্বজন হারানোর কান্না ও রাষ্ট্রের অবহেলার মধ্য দিয়ে আবারও সামনে এসেছে বক্তাবলী গণহত্যা দিবস। বিভীষিকা স্মৃতিময় বেদনার ক্ষত বয়ে বেড়ালেও শুধু একটি দিনেই রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা আসেন শষ্যভাণ্ডার খ্যাত এই ইউনিয়নে। গণকবরে ফুল ও স্মৃতিচারণে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তারা। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলীতে পালন হবে দিবসটি। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হবে।
১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বর এই দিনে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলীতে ১৩৯ জনকে গুলি করে হত্যা করে হানাদার বাহিনী। একই সঙ্গে গানপাউডার ছিটিয়ে পুড়িয়ে দেয় ২২টি গ্রাম। বুড়িগঙ্গা-ধলেশ্বরী নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল বক্তাবলীকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নিরাপদ হিসেবে বেছে নেন মুক্তিযোদ্ধারা।
এখানে ঘাঁটি বানিয়ে চলে প্রশিক্ষণের কাজ। এখান থেকেই বিভিন্ন স্থানে চালানো হয় অভিযান। গ্রামবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু সেসময়কার রাজাকাররা এ খবর পৌঁছে দেয় হানাদার বাহিনীর কাছে।
১৯৭১ সালের এই দিনে ভোরে হানাদার বাহিনী ঘিরে ফেলে বক্তাবলী। মুক্তিযোদ্ধারাও গড়ে তোলেন প্রতিরোধ। চার ঘণ্টা চলে সম্মুখযুদ্ধ। একপর্যায়ে পিছু হটে হানাদার বাহিনী। তবে যাওয়ার আগে তারা বক্তাবলী পরগনার ২২টি গ্রামের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয় এবং নিরস্ত্র ১৩৯ জনকে গুলি করে হত্যা করে। বক্তাবলী পরিণত হয় ধ্বংসস্তুপে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ করার কথা বললেও এই অঞ্চলে এতবড় একটি গণহত্যার স্মৃতি সংরক্ষণ অথবা স্বীকৃতির উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ২০১২ সালে বক্তাবলীতে এক আয়োজনে তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খাঁন গণকবরটিকে বধ্যভূমি ঘোষণার স্বীকৃতি ও একটি স্মৃতি কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু বাস্তবে এর দেখা মিলেনি।
দিনটি স্মরণে বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। দিনটিকে স্মরণ করতে শহীদ পরিবারের সন্তান ও বিভিন্ন সংগঠন বেশ কিছু কর্মসূচি নিয়েছে। প্রতিবছরের মতো উপজেলা প্রশাসন সকালে গণকবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবে বলে জানা গেছে। নারায়ণগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড দিবসটিকে সামনে রেখে আলোচনা সভাসহ বেশ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।