নিজস্ব সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থাপিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচির অন্যতম দফা হলো স্বাস্থ্যসেবা। এই স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, “আগামী দিনে যদি জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনে, তাহলে স্বাস্থ্য খাতকে সম্পূর্ণ সংস্কার করা হবে। প্রতিটি পরিবারের প্রধানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি করে স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের সব সদস্য বিনামূল্যে চিকিৎসা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করতে পারবেন। নির্ধারিত যে কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাধ্য থাকবে। এভাবেই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হবে।”
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় শহরের মিশনপাড়া হোসিয়ারি কমিউনিটি কেন্দ্রের সামনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত “সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প”-এর প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সাখাওয়াত আরও বলেন, “বাংলাদেশের অনেক মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে যায়। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। জনগণের এই কষ্ট কমাতে এবং দেশের টাকা দেশে রাখতেই বিএনপি আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবে। উন্নত দেশের মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
অনুষ্ঠানে সব ধরনের রোগের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। ক্যাম্পে আগত সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণের সুযোগ পান। সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উদ্যোগে চলমান থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডাঃ মজিবুর রহমান, বরকত উল্লাহ, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক, মহানগর ১৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল আরিফ, ১৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিরা সরদার, ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ রানা, ১২নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দিন, সহ সাধারণ সম্পাদক মাসুম, ২৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান চুন্নু সাউদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক দুলাল হোসেন, সদস্য আব্দুর রশিদ, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহাজাদা আলম রতন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন, মহানগর ওলামা দলের আহ্বায়ক হাফেজ শিবলী, মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক সুলতানাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন নেতৃবৃন্দ।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান অভিযোগ করেছেন, বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় তাদের প্রতি অবজ্ঞা দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেছেন, “আমরা নমিনেশন চেয়েছিলাম। দল এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। দল প্রাথমিকভাবে কারো নাম প্রকাশ করেছে- সেটাকে যদি আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, সেটা আমাদের প্রতি অন্যায় হবে। চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করতে পারি। কিন্তু সেই অপেক্ষাকেও আজ অবজ্ঞার চোখে দেখা হচ্ছে।”
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির এক জনসভায় তিনি এসব বক্তব্য রাখেন।
সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, “আমরা কারো অবজ্ঞার শিকার হতে চাই না। আমরা কখনো দলের সঙ্গে বেইমানি করিনি, ভবিষ্যতেও করবো না। চূড়ান্ত নমিনেশন যে পাবে- তার পক্ষেই আমরা থাকবো। কিন্তু আমাদেরকে রক্তচক্ষু দেখিয়ে দুর্বল করার চেষ্টা করবেন না।”
তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় নেতাদের কাউকে মনোনয়ন দিলে দলের ভেতরে কোনো ধরনের সন্দেহ বা বিভক্তি তৈরি হতো না।
মাসুদুজ্জামানকে উদ্দেশ করে সাখাওয়াত বলেন, “ধৈর্য হারাবেন না। আমাদেরকে প্রতিপক্ষ হিসেবে গণ্য করবেন না। আমরা বিএনপির পরীক্ষিত নেতাকর্মী- রাজপথে ছিলাম, জেল খেটেছি। চূড়ান্ত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আমরা একসঙ্গেই কাজ করবো।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের ভোটের অধিকার নিয়ে দেশে-বিদেশে চক্রান্ত হচ্ছে। নির্বাচন দীর্ঘায়িত করতে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
সাবেক সংসদ সদস্য এড. আবুল কালাম বলেন, “যারা জেল-জুলুমের শিকার, তারা ন্যায় চান। নারায়ণগঞ্জে আমরা পরীক্ষিত সৈনিক। বিচ্ছিন্ন হলে কোনো সংগ্রাম সফল হবে না।”
শিল্পপতি আবু জাফর বাবুল বলেন, “আমি নির্যাতিত। আমার নামে ১০টি মামলা, দুদকের একাধিক মামলা, বাড়িতে হামলা হয়েছে। আজ যারা বড় বড় কথা বলেন, তাদের কয়জন এমন নির্যাতনের শিকার? কেউ একজন বলেছেন- মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়ন রক্ষায় তিনি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কাছে যাবেন। যদি আপনাদেরকে দিয়েই থাকে, তাহলে তাদের কাছে যাওয়ার দরকার কী? কারণ আপনারা জানেন- আপনাদের পায়ের তলায় মাটি নেই।”
জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা দলের নেত্রী রহিমা শরীফ মায়া, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা প্রমুখ।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।