Logo
HEL [tta_listen_btn]

সাখাওয়াতের অনুপস্থিতি/রিভার্স না’গঞ্জ-৫ এ বিএনপির অভ্যন্তরীণ ফাটল প্রকাশ্যে

ফিরোজ আহমেদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদের প্রথম বড় নির্বাচনী জনসভায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) শহরের নগর খানপুর বরফ কল মাঠে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদের নির্বাচনী জনসভায় দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি থাকলেও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াতের দেখা মেলেনি। এই অনুপস্থিতি কেবল প্রটোকল ভঙ্গই নয়, বরং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্বের সংকটকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই সাখাওয়াত হোসেনের গতিবিধি রহস্যজনক। তিনি প্রথম থেকেই শিল্পপতি বাবুল নামে পরিচিত স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা গেছে। পরবর্তীতে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম ও তার পুত্র আশা গ্রুপের সঙ্গে মিলে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এই তিন নেতাই বিএনপির কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড থেকে বঞ্চিত হয়ে ‘বিদ্রোহী প্যানেল’ গঠন করেন এবং শিল্পপতি বাবুলকে সামনে রেখে নিজেদের অবস্থান জোরালো করার চেষ্টা চালান।
কিন্তু মাসুদুজ্জামান মাসুদের জনসভায় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু উপস্থিত থেকে প্রার্থীর পক্ষে বক্তব্য দিলেও আহ্বায়ক সাখাওয়াতের অনুপস্থিতি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, তিনি দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন করছেন না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়, বরং দীর্ঘদিনের ক্ষমতার লড়াইয়ের ফল। সাখাওয়াত গত কয়েক বছর ধরে নারায়ণগঞ্জে নিজেকে ‘একক নেতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু দলের তৃণমূল ও কেন্দ্রের একটি বড় অংশ তার এই একাধিপত্য মেনে নেয়নি।
জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সাখাওয়াত হোসেন দলের ভেতরে ‘নিজস্ব গ্রুপ’ গড়ে তুলেছেন এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছেন। তার এই আচরণের কারণে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির ভোট একাট্টা হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা হুমকির মুখে পড়েছে। শুধু তাই নয়, সাখাওয়াতের এই নীরব বিদ্রোহ দলের মনোবলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন মহানগর আহ্বায়কের এ ধরনের আচরণ শুধু দলের শৃঙ্খলাই ভাঙে না, বরং সাধারণ ভোটারদের মনেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। সাখাওয়াতের এই নিষ্ক্রিয়তা ও বিদ্রোহী মনোভাবের কারণে নারায়ণগঞ্জের বিএনপি এখন দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষে আছে দলীয় প্রার্থী মাসুদের সমর্থক, মহানগর বিএনপির নেতারা ও তৃণমূল কর্মীরা, অন্য পক্ষে সাখাওয়াত-বাবুল-কালাম গ্রুপ। এই বিভক্তি যদি নির্বাচনের আগে সমাধান না হয়, তবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির পরাজিত হবার সম্ভাবনা আছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সাখাওয়াত হোসেনের এই অনুপস্থিতি কি কেবলই একটি জনসভা বয়কট, নাকি দলের ভেতরে তার প্রভাব ও অস্তিত্বের চূড়ান্ত সংকটের ইঙ্গিত? নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com