নিজস্ব সংবাদদাতা
তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন কামরুল। সেই সময় তার সর্বসাকুল্যে বেতন ছিলো দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। কিন্তু অল্পদিনের ব্যবধানেই তিনি আঙ্গুলফুলে কলাগাছে রূপান্তরিত হন। চাকরিকালে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভূমি কর্মচারী ও কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত ছিলেন। অবৈধভাবে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা কামিয়েছেন।ফতুল্লা থানার এনায়েতনগর ইউনিয়নের ভূমি সহকারি কর্মকর্তা কামরুল হকের চাকরির বয়স প্রায় ৩৭ বছর। এসময় তিনি অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন। এ টাকায় তিনি সিদ্ধিরগঞ্জে হাউজিং ভূমি পল্লী আবাসিক এলাকায় স্ত্রীর নামে ৬ তলা আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এই বাড়িতে দামি দামি গাড়ি নিয়ে লোকজনের আনাগোনা লেগেই থাকে। সিদ্ধিরগঞ্জের ভূমি পল্লী আবাসিক এলাকার প্লট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বড় ব্যবসায়ীরা ক্রয় করে থাকেন। এনায়েতনগর ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা কামরুল হক ভূমি পল্লী আবাসিক এলাকায় ৬ কাঠা জমির ওপর ৬ তলা আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। পাশাপাশি ভূমি পল্লীর প্রধান ফটকের দক্ষিণ পাশে ৬ কাঠার প্লটও কিনেছেন। কিন্তু বাড়ি ও প্লট কামরুল নিজের নামে না করে স্ত্রী খাদিজা আক্তার পাপিয়ার নামে ক্রয় করেন। সূত্র জানায়, ১৯৮৫ সালে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন কামরুল। সেই সময় তার সর্বসাকুল্যে বেতন ছিলো দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। চাকরিকালে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভূমি কর্মচারী ও কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত ছিলেন। অবৈধভাবে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা কামিয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ি সোনারগাঁ উপজেলার চর গোয়ালদী এলাকায়। সেখানেও তিনি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেছেন। কিন্তু সেখানে তিনি থাকেন না। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (এনসিসি) এর ৪নং ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি পল্লী আবাসিক এলাকায় স্ত্রীর নামে নির্মাণ করা ৬ তলা বাড়িতে তিনি থাকেন। এ বাড়িতে প্রায় সময়ই দামি দামি গাড়ি নিয়ে লোকজন আসেন। অন্যসব যানবাহনেও লোকজন আসেন। আবার অনেকে আসে রাতে বা বন্ধের দিনগুলোতে। তারা জমির মিউটিসনসহ জমির অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলাপ করেন তার সঙ্গে। এ অলিশান বাড়িতে কামরুলের উঠার পর থেকে কয়েক বছর ধরে এমনটাই চলে আসছে বলে জানায় ভূমি পল্লীর বাসিন্দারা। এ বিষয়ে সহকারি ভূমি কর্মকর্তা কামরুল হক জানান, গ্রামের জমি বিক্রি করে বাড়িটি ও সম্পদ করেছেন। তবে গ্রামের বাড়িতে কত বিঘা বা কী পরিমাণ জমি বিক্রি করেছেন এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি তিনি। স্ত্রীর নামে ব্যাংকে ৫ কোটি টাকার বেশি এফডিআর রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।