Logo
HEL [tta_listen_btn]

রমজানে বাজার মনিটরিং করবে পুলিশ

রমজানে বাজার মনিটরিং করবে পুলিশ

নিজস্ব সংবাদদাতা
আর মাত্র কয়েক দিন পরেই শুরু হবে পবিত্র মাহে রমজান। রমজান মাস ধর্মীয় দিক থেকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এটি ব্যবসা-বাণিজ্যেরও মাস। এ মাসে ব্যবসায়ীদের, বিশেষ করে ভোগ্যপণ্য ও বস্ত্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা হয় সারা বছরের। এ মাসে ভোগ্যপণ্য, জামাকাপড় ইত্যাদির ভোগ বা ব্যবহার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, রসুন, খেজুর, ময়দা, ছোলা, চিনি ইত্যাদির বাজার থাকে রমরমা। কিন্তু, পবিত্র রমজান কাছে এলেই আমাদের দেশে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা যেন একটি প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে প্রতি বছর রমজান এলেই আমাদের দেশের জনগণকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে হয়। যার ফলে জনজীবন হয়ে ওঠে অসহনীয় এবং যন্ত্রণাদায়ক। আর তাই, এই রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, খাদ্যের অপর্যাপ্ততা, পণ্য মজুদ করে দাম বৃদ্ধিসহ ইত্যাদি বিষয়ে যেন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন নিশ্চিতকল্পে সব ধরনের চাঁদাবাজী প্রতিরোধে জেলা ও হাইওয়ে পুলিশকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছে অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) মো. আতিকুল ইসলাম। গত, ১৪ মার্চ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সংক্রান্ত ভার্চুয়াল সভায় এ নির্দেশনা দেয়া হয়। বাংলাদেশ পুলিশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপার ভার্চুয়ালি এ সভায় অংশ নেন। জানা গেছে, অতিরিক্ত চাহিদাকে পুঁজি করে প্রতি বছর পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী ও মজুতদারের আবির্ভাব ঘটে। তাদের সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী যোগদান করে। পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে না। কিন্তু এসব অসাধু সিন্ডিকেটের যোগসাজশে ও মজুতদারির মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও খাদ্যসামগ্রীর কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এবং মূল্যবৃদ্ধি করে। যার ফলে তারা অধিক হারে মুনাফা লুটে নেয়। ফলস্বরূপ তা নারায়ণগঞ্জের সীমিত আয়ের জনগণের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। রমজান এলেই নারায়ণগঞ্জের জনগণ এদের কাছে একপ্রকার জিম্মি হয়ে যায়। নি¤œধ্যবিত্ত ও দারিদ্র্য মানুষের কাছে যেটি একপ্রকার মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়ায়। খেটে খাওয়া, দিনমজুর ও যাদের দৈনিক বা মাসিক আয় নির্দিষ্ট, পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়।
প্রতিবছর রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে নারাযণগঞ্জ জেলা প্রশাসন নানারকম পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। কিন্তু বরাবর দেখা যায়, কোনো এক অজানা কারণে বাজারের নাটাই প্রশাসনের হাতে থাকে না। বাজারের নাটাই থাকে কোনো এক অশুভ ব্যবসায়ী চক্রের হাতে। তারা তাদের নিজেদেরও ইচ্ছামতো দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে, বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবর্তে একপ্রকার অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করে। রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে থাকে। যদিও এটি প্রশংসার দাবিদার কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় তা পর্যাপ্ত নয়। তাই তাদের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে পুলিশের নজরদারী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া বলে মনে করেন অনেকেই। তবে, পুলিশ মাঠপর্যায়ে কিভাবে কাজ করবে বিষয়টি জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে আমরা এ বিষয়ে মিটিং করেছি। নারায়ণগঞ্জের বাজার মালিক সমিতি যারা আছে, নিতাইগঞ্জ বাজার মালিক সমিতিসহ কাঁচা বাজার মালিক সমিতি, তাদের সাথে আলাদা আলাদাভাবে কথা বলেছি এবং তাদেরকে সরকারের সিদ্ধান্ত খুব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও কিন্তু মাঠে কাজ করছে পাশপাশি জেলা প্রশাসকের ম্যাজিস্ট্রেটরাও মাঠে কাজ করছে, আমাদেরও মনিটরিং ব্যবস্থা রেখেছি। যদি কেউ আমাদের কাছে কমপ্লেইন করে বা হুট করে যদি কেউ মূল্যবৃদ্ধি করে দেয়, তাহলে আমরা সেটি কঠোর হস্তে দমন করবো এবং আইনগত ব্যবস্থাও নিবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com