Logo
HEL [tta_listen_btn]

রোজার শুরুতেই উত্তপ্তবাজার

রোজার শুরুতেই উত্তপ্তবাজার

মনজুরুল ইসলাম
নারায়ণগঞ্জে রমজান শুরু হওয়ার আগেই বাড়তে শুরু করেছে দ্রব্য সামগ্রির দাম। প্রতি বছর রোজা এলেই নিত্যপণ্যের দামে আগুন লেগে যায়। এবারের রোজতেও এর কোনো ব্যতিক্রম নেই। ইফতারিতে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য শরবতে ব্যবহৃত লেবু বাজারে বিক্রি হচ্ছে হালি প্রতি সর্বনি¤œ ৭০ টাকায়। যদিও এর মান খুব একটা ভালো নয়। আর একটু বড় সাইজের ভালো মানের এলাচি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা হালি। ইফতারিতে বেগুনি বানানোর জন্য যে লম্বা বেগুন ব্যবহার করা হয় তার দাম প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ টাকায়।
রোজায় এসকল পণ্যের চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েছে। পাশাপাশি রোজার প্রথম দিকে বাজারে দাম বেশি থাকলেও শেষ দিকে দাম কমে আসবে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। যদিও দাম বাড়ার পেছনে ব্যবসায়ীদের দোষ দিচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। রমজানে এসব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অসন্তুষ্ট নি¤œআয়ের মানুষ। বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) শহরের দ্বিগুবাবুর বাজার, কালির বাজার এবং মাসদাইর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ভ্রাম্যমাণ ও খুচরা বাজার ঘুরে দামের এমন চিত্র দেখা গেছে। দ্বিগুবাবুর বাজারের সবজি বিক্রেতা রফিক বলেন, কাঁচামালের দাম বেশি হলে ক্রেতারা সহজে কিনতে চান না। সে ক্ষেত্রে আমাদের বিক্রিও কমে যায়। বিক্রি বাড়লে আমাদের লাভ ভালো হয়। তাই দাম বাড়লে আমাদের জন্যও সমস্যা। তবে সরকার যদি পাইকারি বাজারগুলোতে মনিটরিং করতে পারে তাহলে আমাদের জন্য সুবিধা হয়। কারণ পাইকারি বাজার থেকে আমরা যে দামে কাঁচামাল কিনবো অবশ্যই তার থেকে কিছু বেশি দাম দিয়ে বিক্রি করবো। লাভ ছাড়া তো আমরা বিক্রি করতে পারবো না। এই বিক্রেতা আরও বলেন, আমরা যখন পাইকারি বাজারে সবজি কিনতে যাই, সেই সময় বাজারে যদি কাঁচামাল কম থাকে এবং ক্রেতার সংখ্যা বেশি থাকে তখন পাইকাররা ইচ্ছা করে দাম বাড়িয়ে দেয়। এটা এখন বাংলাদেশের নিয়ম হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা এটা চিন্তা করে না যে, দাম বাড়ালে সাধারণ মানুষের কেনাকাটা করতে সমস্যা হয়। পাইকারি বিক্রেতারা তো ঠিকই বিক্রি করতে পারে। শুধু সমস্যায় পড়ি আমরা সাধারণ ছোট ব্যবসায়ীরা।
বাজারে সবজি নিতে আসা সাজিদ খান জানান, বুধবারও ৬০ টাকা কেজি বেগুন কিনেছি। আগামীকাল থেকে রেজা শুরু। মানুষতো এখন বেগুন কিনবেই। তাই বেশি দামে বিক্রি করছে তারা। এছাড়াও বাজারে ইফতারের অন্য অনুষঙ্গের দামও বেশী। এদিকে, ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। বাজারে এ দরেই তালিকা ঝুলানো দেখা গেছে। ২ দিন আগেও এ তালিকা ঝুলানো ছিলো না। আজ শুক্রবার (২৪ মার্চ) থেকে রোজা শুরু। সেই উপলক্ষে মাংসের দাম আগেই বাড়িয়ে বিক্রি করছেন কসাইরা। তারপরও ক্রেতা সমাগম বেড়েছে। কারণ, রোজার আগে মাংসের চাহিদা বাড়ে, সুযোগ বুঝে দাম বৃদ্ধি করে পকেট মোটা করে অসৎ ব্যবসায়ীরা। শুধু গরুই নয় মুরগির দামও বেড়েছে। মাংস বিক্রেতা রসুল হোসেন বলেন, দাম বাড়েনি। আগের দামেই মাংস বিক্রি করছি, লন লন। ভালো মাংস। যারা ভেজাল বিক্রি করবো তারা কম দামে বিক্রি করতে পারবো। আমরা সেটা করি না। ভালো মাংসের দাম একটু বেশি, দেইখা লন। ক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, দাম বাড়াতে বাড়াতে আকাশে ঠেকিয়ে এখন বক্তব্য হলো দাম বাড়েনি। বৃদ্ধি করার আর জায়গা নেই। ক্রেতারা তো অসহায়, মাংস কিনতে হলে বেশি দামে কিনে চুপচাপ চলে যেতে হবে।
মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির ২৮০ থেকে বাজার ভেদে ৩০০ টাকা। সোনালী মুরগির ধরন ভেদে ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা। লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকা। দেশি মুরগি ৬০০ টাকার উপরে। দাম বাড়লেও ক্রেতার ভিড়ই দেখা গেছে মুরগির দোকানে। রোজায় সাহ্রীতে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা তো মেটাতেই হবে। তাই বেশি দামেই মুরগি কিনছেন ক্রেতারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com