নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সাহতা গোপালপুর গ্রামের মৃত আরশাদ মিয়ার ছোট ছেলে জুবায়ের (৮) ঘরের মেঝেতে রাখা জমানো ধানের উপর উঠে গলায় ওড়না জড়িয়ে ফাঁসির খেলা খেলতে গিয়ে গলায় ওড়না আটকে মারা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ মে) সকাল ১১টার দিকে মেঝেতে জমানো ধানের উপর খেলতে গিয়ে তার নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে জুবায়ের তার মায়ের অজান্তে পাশের ঘরে রাখা জমানো ধানের উপর উঠা নামার খেলা করছিল। সে সময় তার গলায় একটা ওড়না জড়ানো ছিল। খেলার ছলে ঘরের মেঝেতে জমানো ধানের উপর উঠে তার নিজের সাথে থাকা ওড়নাটি ঘরের ধর্ণার সাথে আটকিয়ে নিজের গলায় বেঁধে খেলতে থাকে। কিছুক্ষণ পর মেঝেতে জমানো ধানগুলো পায়ের নিচ থেকে সরে যেতে থাকে। ফলে একপর্যায়ে গলায় পেঁচানো ওড়না তার নিজের গলায় আটকে যায় এবং সে ধর্ণার সাথে ফাঁসিতে ঝুলে পড়ে। কিছুক্ষণ পর তার মা ছেলেকে খুঁজতে শুরু করে। পরে ধানের ঘরের দরজা খুলে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে। পরে পাড়ার লোকজন ছোটাছুটি করে এসে ঝুলন্ত জুবায়েরকে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ থানায় নিয়ে যায়।
মা ললিতা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর আমার ৩ ছেলে-মেয়েকে খুব কষ্ট করে লালন পালন করছি। নিজে কষ্ট করলেও ওদের কোন কষ্ট বুঝতে দেইনি। আজকে আমার ছোট ছেলে জুবায়েরের মৃত্যুর এই ঘটনা আমার অবহেলাতেই ঘটেছে। আমি কোনদিনই নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না। এখন কান্নাই আমার একমাত্র সম্বল।
পরিবারের বরাত দিয়ে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোকন কুমার সাহা জানান, খেলার ছলে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের কাছ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা করা হবে।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।