Logo
HEL [tta_listen_btn]

বন্দরে দুই কিশোরের মৃত্যু  আসামি হলেন অনেকে

বন্দরে দুই কিশোরের মৃত্যু  আসামি হলেন অনেকে

বন্দর সংবাদদাতা:
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে প্রতিপক্ষ কিশোর দলের ধাওয়া খেয়ে শীতলক্ষ্যায় ঝাপ দিয়ে দুই কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় ১৩ জনকে এজাহারামীয় আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মামলায় আসামি তালিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এই মামলায় একাধিক আসামি রয়েছেন যারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন তাদের স্বজনরা। ব্যক্তিগত পূর্ব শত্রæতার জেরে হয়রানির উদ্দেশ্যে একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মামলায় গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন- মোক্তার হোসেন (৬৭), আহমদ আলী (৬২), কাশেম (২৮), আলভী (১৭), আনোয়ার হোসেন (৪৫), শিপলু (২৩)। অন্য আসামিরা হলেন- শাকিল (২৩), শামীম (৪০), শামীম (২৫), জাকির হোসেন, সুজন (২২), শিপলু (২৩), মনির হোসেন (৩০)। গত সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে বন্দরের খানবাড়ি মোড় এলাকার নাজিম উদ্দিন খানের ছেলে সরকারি কদম রসুল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র মিনাজুল ইসলাম মিয়াদ (১৮) এবং নবীগঞ্জ বাগবাড়ি এলাকার কাজিম আহম্মেদের ছেলে বিএম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র জিসান আহম্মেদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিসানের পিতা বন্দর প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজিম আহম্মেদ বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। স্থানীয় সূত্রমতে, মামলার কয়েকজন আসামির সাথে কাজিম আহম্মেদের ব্যক্তিগত দ্ব›দ্ব রয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিষয়েও তাদের সাথে দ্ব›দ্ব রয়েছে। প্রতিপক্ষের লোকজনকে হয়রানি করতেই ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় তাদের আসামি করা হয়েছে। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এই মামলায় গ্রেফতার আসামি মোক্তার হোসেন এবং আহমদ আলী বাদী কাজিম আহম্মেদের চাচাতো ভাই। তাদের মধ্যে পারিবারিক দ্ব›দ্ব রয়েছে। ভাতিজার মৃত্যুর খবর পেয়ে দেখতে এলে মোক্তার হোসেন ও আহমদ আলীকে পুলিশের উপস্থিতিতেই মারধর করেন কাজিম আহম্মেদ। পরে পুলিশের কাছে তাদের তুলে দেন। কাজিমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে বন্দরের ইস্পাহানি ঘাট এলাকায় কিশোর দলের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষ কিশোর দলের হামলা থেকে বাঁচতে সহযোগীদের দেখাদেখি শীতলক্ষ্যা নদীতে ঝাপ দেয় মিনাজুল ইসলাম ও জিসান আহম্মেদ। অন্যরা সাঁতরে নদী পার হলেও নিখোঁজ হয় দুইজন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নদীতে লাশ পাওয়া যায় দুইজনের। তবে বন্দর থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় নিহত জিসান আহম্মেদের পিতা কাজিম আহম্মেদ বাদী উল্লেখ করেন, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ছেলে জিসান ও বন্ধু মিনাজুলকে ডেকে নিয়ে ইস্পাহানি ঘাটে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দিয়েছে। এদিকে মামলার প্রধান আসামি আলভী নিহত মিনাজুল ইসলামের খালাতো ভাই। ঘটনার সময় আত্মরক্ষার্থে আলভীও নৌকা থেকে পানিতে ঝাপ দেয়। এই মামলায় তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফখরুদ্দিন ভূইয়া প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, তার ছেলেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ডেকে এনে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলায় বাদী উল্লেখ করেছেন। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা তদন্ত করছি। তদন্তনাধীন মামলার বিষয়ে বেশি কিছু বলতে পারবো না। তবে তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নয় এমন কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহোদয়ের পর্যবেক্ষনে মামলাটি খুবই গুরুত্বের সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সাথে কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া না গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com