বন্দর সংবাদদাতা:
নারায়ণগঞ্জ নগরীর দেওভোগের ত্রাস সাইফুল ইসলাম তুহিন ওরফে চাপাতি তুহিনের ক্রসফায়ারের পর ‘কিশোর গ্যাং’ তেমন আলোচনায় আসেনি। গত ১০ আগস্ট বন্দর উপজেলার দুই শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় আবারও আলোচনায় কিশোর গ্যাং। এই ঘটনার পর সামনে এসেছে বন্দরের একরামপুর ইস্পাহানি এলাকার শাকিলের নাম। শাকিলের নেতৃত্বে ওই এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। শাকিলের নেতৃত্বে এই কিশোর গ্যাংয়ে আছে ইস্পাহানি এলাকার হাসান, রবিন, হাবিব, ইমন, শান্তসহ আরও প্রায় ১০/১৫ জন। এই বাহিনীর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সর্বশেষ বন্দরের দুই শিক্ষার্থী মিয়াদ ও জিসানের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায়ও শাকিল ও তার ভাই শামীমকে আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্দরের একরামপুরের ইস্পাহানি এলাকার মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী মো: সালামের ছেলে মো: শাকিল। শাকিল একরামপুর এলাকার একটি কিশোর গ্যাংয়ের লিডার। তার নেতৃত্বে ওই এলাকায় নানা অপরাধমূলক কার্যক্রম সংঘটিত হচ্ছে। শাকিলের ভাই স্থানীয় একটি গ্যারেজ মালিক মো. শামীম ভাইয়ের গ্যাং পরিচালনায় সহযোগিতায় করেন। এই দলটিকে নেপথ্যে থেকে পরিচালনা করেন যুবলীগ নেতা শামীম। শামীম ২৩নং ওয়ার্ডের যুবলীগের যুগ্ন সম্পাদক ছিলেন। সূত্রটি আরও জানায়, শাকিলের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংটি ইস্পাহানি, একরামপুর, সিএসডি গেইট এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে বেড়ায়। এই গ্যাংয়ের সদস্যের আড্ডার স্থান হচ্ছে শাকিলের আপন ভাই শামীমের রিকশা গ্যারেজ। এইসব কিশোর সন্ত্রাসীরা এলাকায় প্রায়ই ‘ছোট ভাই বড় ভাই’ বলা নিয়ে বিভিন্ন কিশোর ও যুবক ছেলেদেরকে লাঞ্চিত ও মারপিট করে থাকে। একই ঘটনার প্রতিফলন ঘটেছে গত ১০ আগস্ট ইস্পাহানি ঘাটে। যার নির্মম শিকার হতে হয়েছে মিয়াদ ও জিসান নামে দুই শিক্ষার্থীর। গত ১০ আগস্ট বন্দরের ইস্পাহানি ঘাট এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলা থেকে বাঁচতে নৌকা থেকে শীতলক্ষ্যা নদীতে লাফিয়ে পড়ে নিখোঁজ হয় দুই শিক্ষার্থী। পরে তাদের লাশ মেলে নদীতে। ইস্পাহানি এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ইস্পাহানি এলাকার শামীমের ইন্ধনে কিশোর গ্যাং লিডার শাকিল ও তার ভাই শামীমসহ অন্যরা আরসিম এলাকার অন্তর, আকিল ও শান্ত গ্রæপের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। ওই সময় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য আলভীর (মিয়াদের খালাতো ভাই) সাথে ঘটনাস্থলে ছিল জিসান ও মিয়াদ নামে ওই দুই শিক্ষার্থী। এক পর্যায়ে ইস্পাহানি ঘাট সংলগ্ন তীরে বাঁধা একটি নৌকায় ওঠে জিসান ও মিয়াদসহ আরও কয়েকজন। হামলা করার উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ কিশোর গ্যাং গ্রপটিও ওই নৌকায় উঠে। পরে নৌকা থেকে নদীতে ঝাপ দেয় কয়েকজন। তাদের দেখাদেখি নিজেদের বাঁচাতে নদীতে ঝাপ দেয় মিয়াদ ও জিসান। অন্যরা তীরে উঠতে পারলেও নদীতে ডুবে মারা যায় তারা। এ ঘটনায় নিহত জিসানের বাবা বন্দর প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজিম আহম্মেদ এজাহারনামীয় ১৩ জনসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলার আসামি কিশোর গ্যাং লিডার শাকিল, তার ভাই শামীম এবং নেপথ্যের নায়ক শামীম ওরফে বড় ভাই শামীম। ইস্পাহানি এলাকার কিশোর গ্যাং লিডার শাকিল ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে এর আগেও থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি শাকিল ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কদমরসূল বিশ্ববিদ্যালয় এন্ড কলেজ এর ছাত্র আরিফুল ইসলাম জয়ের দাদী। সেদিন কলেজ ছাত্র জয়কে কিশোর গ্যাং লিডার শাকিলের নেতৃত্বে ইস্পাহানি এলাকার হাসান, রবিন, হাবিব, ইমন, শান্তসহ অজ্ঞাত আরও প্রায় ১০/১৫ জন লোহার রড, শাবল, ক্রিকেটের স্ট্যাম্প দিয়ে কলেজ ছাত্র জয়কে এলোপাথারি মারপিট করে আহত করে। এলাকাবাসী বাধা দিতে গেলে তাদেরকেও মারধর করা হয়।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।