Logo
HEL [tta_listen_btn]

নাটোর বাগাতিপাড়ার শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক ঝাঁক তরুণ-তরুণী

নাটোর বাগাতিপাড়ার শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক ঝাঁক তরুণ-তরুণী

এস ইসলাম, নাটোর জেলা সংবাদদাতা :

সারা দেশের শিক্ষাঙ্গনে পড়েছে কোভিড-১৯ এর প্রভাব । থমকে আছে স্বাভাবিক পাঠদান, বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ঘনবসতিপূর্ণ গ্রামীণ শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন নিয়ে হয়ে পড়েছেন চিন্তিত। এসব ভাবনা থেকেই নাটোরের বাগাতিপাড়ায় করোনা কালে ছুটিতে বাড়িতে আসা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক ঝাঁক তরুণ তরুণী গ্রামের অবহেলিত পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখাতে কাজ করে চলেছেন অবিরাম। তরুন-তরুণীরা গড়ে তুলেছেন ‘ডেয়ার টু ড্রীম’ নামের একটি সংগঠণ। সংগঠনটির একাধিক সদস্যের সাথে কথা বলে জানা যায়, গ্রামের অধিকাংশ স্কুল কলেজের ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নই দেখেনা। তাই এসব অবহেলিত পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের কে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাধ বিচরনের জন্য স্বপ্ন দেখাচ্ছেন এসব তরুন-তরুণীরা। করোনা কালে ছুটিতে বাড়িতে এসে নিজেরাও বসে রয়েছেন। এই ফাঁকে এসব বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ঝাঁক তরুণ-তরুণী এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন বুনে দিচ্ছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব শিক্ষার্থীদের নিয়ে “ডেয়ার টু ড্রীম” স্বপ্ন ছোঁয়ার দিশারি নামক একটি সংগঠন তৈরি করা হয়েছে। যার সভাপতি চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র এবং ব্যাংক কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন শান্ত, সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান ইমু (রাবি), সদস্য- আবুল বাসার (নোবিপ্রবি), শিমুল আলী (জাবি), তানভির রহমান (কুয়েট), জয়া সরকার (জবি), শুভ সরকার (প্রাবিপ্রবি), শাহজাহান (হাবিপ্রবি) সহ মোট ৩৪ জন। যারা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও দলগত ভাবে অনলাইন ও সেমিনারের মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষা উপদেশ ও ভর্তিপরীক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য মূলক পরামর্শ প্রদান করছেন। এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় সকল ধরনের সহায়তা প্রদান করবেন বলে তারা জানান। আর তারই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দুরত্ব মেনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন এলাকায় কখনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন কক্ষে কখনও বা বাড়ির উঠানে সেমিনার করে চলেছেন অবিরাম। যেখানে এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করছেন। সংগঠনটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন শান্ত বলেন, একটি সংগঠন করার দীর্ঘদিন থেকে ইচ্ছা ছিলো যেটা পিছিয়ে পড়া গ্রামের শিক্ষার্থীদের গ্রুমিং করে এবং ভালো কোন ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুযোগ করে দেয়। সেই থেকেই আমাদের এই উদ্যেগ, সদস্যরা অনেক পরিশ্রম করছেন যেনো বাগাতিপাড়ার শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন। আমি বিশ্বাস করি আমরা এই সংগঠন টাকে অনেক দুর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো। পিছিয়ে পড়া অবহেলিত গ্রামীণ শিক্ষার্থীদেরকে এগিয়ে নিয়ে যেতেই এই মহান উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। ফাগুয়াড় দিয়াড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আজাহার আলী বলেন, কোভিড-১৯ এর স্থবিরতা পুরো বিশ্বকে ধাবিত করছে অনিশ্চিত এক ভবিষ্যতের দিকে। প্রাণহীন নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে মাঠে-ঘাটে, পথে-প্রান্তরে। এ যেন সৌরজগতের এক নতুন পৃথিবী। এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব মেধাবী শিক্ষার্থীরা উপজেলার শিক্ষার্থীদেরকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে যা প্রশংসার দাবিদার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com