Logo
HEL [tta_listen_btn]

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসে  মহিলা ফোরামের মানববন্ধন

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসে  মহিলা ফোরামের মানববন্ধন

নিজস্ব সংবাদদাতা:
নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ঘরে-বাইরে অব্যাহত নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধন করেছে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম জেলা শাখা। গত রোববার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৫টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মহিলা ফোরামের সংগঠক খায়রুন নাহারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সভাপতি সুলতানা আক্তার, বন্দর শাখার আহবায়ক মুন্নি সরদার, মহিলা ফোরামের সংগঠক বিথী মাহমুদ, রাজল²ী প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ‘১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট ১৪ বছরের গৃহকর্মী ইয়াসমিন তার বাড়ি ফেরার পথে ভুলক্রমে অন্য বাসে উঠে পড়ে। বাস থেকে নামার পর তাকে কিছু পুলিশ কর্মকর্তা নিয়ে যায় এই বলে, তাকে বাড়ি পৌছে দেয়া হবে। কিন্তু তা হয় না। বরং তাকে গণধর্ষণ করে হত্যা করে ফেলে দেয়া হয়। ৪ দিন পর তার লাশ পাওয়া যায়। কিশোরী ইয়াসমিন হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে সেদিন দিনাজপুরের ৭ জন ভাইকে জীবন দিতে হয়েছিল। পরে আন্দোলনের মুখে ১৯৯৭ সালে তিন পুলিশ কর্মকর্তার ফাঁসির রায় হয় এবং ২০০৪ সালে বাকিদের বিচার হয়। এরপর থেকে ২৪ আগস্টকে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসাবে বাংলাদেশে পালিত হয়ে আসছে।’ নিখিল দাস বলেন, ‘ইয়াসমিন হত্যার ২৪ বছর পরও নারীর নিরাপত্তা নেই। সম্প্রতি আইন ও সালিশি কেন্দ্রর রিপোর্ট অনুযায়ী, এ বছর জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত এই ৬ মাসে ৬০১ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৪ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছে, ৩৭ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে, ৬ বছরের থেকে কম বয়সি ৪০ জন শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে। কি ভয়ংকর! কেমন দেশ আমরা বানিয়েছি। যে দেশে আমাদের মা, বোন, শিশুরা নিরাপদ না। অনেকে বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী, বিরোধী দলীয় প্রধান নারী। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী হলেও এ দেশের সরকার নারীবান্ধব নয়। আমাদের প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে সর্বত্র পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা বিরাজমান। যার কারণে ধর্ষণের শিকার নারীকে প্রমাণ করতে হয় সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বিচারের জন্য তাকে দারে দারে ঘুরতে হয়, অপমানিত হতে এবং নির্যাতিত হতে হয়। আমাদের আদালতগুলেরতে জেরার নামে ভুক্তভোগীকে নারী নানা অশ্লীল প্রশ্ন করা হয়। কেননা আমাদের বিচার ব্যবস্থা উন্নত নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘কিছুদিন আছে সুপ্রিম কোর্ট আটকে থাকা মামলা সচল করে দ্রুত তা সুরাহা করার কথা বলেছে। কিন্তু সেখানে নারী নির্যাতনের মামলার উল্লেখ নেই। তাহলে আমরা কী ধরে নেবো, আমাদের দেশে যারা সর্বোচ্চ জায়গায় থেকে বিচার করছেন তারাও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতায় পরিচালিত। আমরা মনে করি, নারী-শিশু নির্যাতন, নিপীড়ন বিষয়ে আমাদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। আইন আছে তবে সে আইন কার্যকর করতে হবে।’ সুলতানা আক্তার বলেন, ‘ইয়াসমিন হত্যার পর আন্দোলনের মুখে পরে সরকার বিচার করতে বাধ্য হয়েছিল। এখনো প্রতিনিয়ত আমরা ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা দেখি কিন্তু তার শুষ্ট বিচার হয় না। বিচার হীনতার যে অপসংস্কৃতি দাড়িয়েছে এর কারণেই আজ নির্যাতনের ঘটনা দিনদিন বাড়ছে। সে স্থান থেকে ইয়াসমিন হত্যা দিবস আমাদের জন্য একটি শিক্ষার বিষয়। এ দিবস আমাদের অনুপ্রেরণার স্থান। আমরা মনে করি, নারীকে ভোগের সামগ্রী নয় মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে এ ঘটনাগুলো কমে আসবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com