নিজস্ব সংবাদদাতা:
দেশের পাট শিল্প রক্ষায় প্রস্তাবিত কর প্রত্যাহারসহ কাঁচা পাট রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন পাট রপ্তানিকারকদের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশন। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশনের (বিজেএ) প্রধান কার্য্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান জুট এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান আরজু রহমান ভুঁইয়া জানান, চলতি বছর সরকারি হিসেব অনুযায়ী দেশে ৮৪ লাখ বেল পাট উৎপাদন হলেওে সা¤প্রতিক বন্যায় ৫ লাখ বেল পাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশন মাত্র দশ লাখ বেল কাঁচা পাট রপ্তানি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে দেশের বেসরকারি পাটকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স এসোসিয়েশন (বিজেএসএ) এবং বাংলাদেশ জুট মিলস এসোসিয়েশন (বিজেএমএ) ইতিমধ্যে প্রতি টন কাঁচা পাট রপ্তানির জন্য ৮শ’ ৫০ ডলার রপ্তানি শুল্ক ধার্য্য করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছে। দেশের পাট শিল্পের জন্য এটি আত্মঘাতি প্রস্তাব দাবি করে পাট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের এই নেতা বলেন, তাদের এই প্রস্তাব সরকার বাস্তবায়ন করলে পাট শিল্পের জন্য মারাত্মক বিপদজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাবে। এতে দেশের পাটের বাজার চলে যাবে অন্য দেশে এবং পাট শিল্পের সাথে জড়িত বৃহৎ জনগোষ্ঠা কর্মহীন হয়ে পড়বে। তিনি আরো বলেন, বিজেএমসির কাছে গত অর্থ বছর উৎপাদিত সাড়ে ছয় লক্ষ বেল পাট এখনো উদ্বৃত্ত রয়েছে। সে হিসেবে এবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পরও দেশে প্রায় ৭২ লাখ বেল কাচাঁ পাট উৎপাদন হবে। আভ্যন্তরিন শিল্পকারখানায় প্রয়োজন ৫৫ লাখ বেল পাট। ফলে দেশে উৎপাদতি কাচাপাট উদ্ধত্ত থাকবে ১৭ লাখ বেল। দেশের পাট রপ্তানী বন্ধ করতে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে দাবি করে জুট এসোসিয়েশনের নেতারা অভিযোগ করেন, স্পিনার এসোসিয়েশনের ১০টি প্রতিষ্ঠান সিন্ডিকেট করে কাচঁপাটের দর কমাতে এবং পাটমজুদ করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য অযুক্তিক প্রস্তাব তুলে ধরছে। তাই কাচঁপাট রপ্তানীর খাতে যে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে সরকারকে ভেবে চিন্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার দাবি জানান। অন্যথায় সরকারকে দায়িত্ব নিতে বলে বলে সতর্ক করে দেন পাট রপ্তানীকারক নেতারা। বিজেএদর ভাইস প্রেসিডেন্ট আরজু রহমান ভুইয়া দাবি করেন, কাচঁ পাট রপ্তানির উপর শুল্ক আরোপ করা হলে দেশের কৃষকদের কাছ থেকে বাজার মুল্যের চেয়ে কম মুল্যে আমাদের পাট ক্রয় করতে হবে। বাজার মুল্যের চেয়ে কম মুল্যে পাটক্রয় করলে কৃষক ন্যায্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হবে। আগামীতে পাট উৎপাদনে আগ্রহ হারাবে। একই সাথে যে সব দেশ বাংলাদেশের কাচঁপাটের উপর নির্ভরশীল রয়েছে তারা ভারতসহ অন্য দেশের দিকে ঝুকে পড়বে। আর্ন্তজাতিক বাজার হারাবে বাংলাদেশ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দেশের সর্ববৃহৎ কাচা পাট রপ্তানী কারক প্রতিষ্ঠান পপুলার জুট এক্সচেঞ্জের পরিচালক অরুপ কুমার হোর এবং ইন্টারন্যাশনাল জুট ট্রেডার্সের পরিচালক গনেশ কুমার সাহাসহ নারায়নগঞ্জের ২০ জন কাঁচা পাট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক ও তাদের প্রতিনিধিরা।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।