Logo

স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে নেমেছি মাওলানা আউয়াল

স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে নেমেছি মাওলানা আউয়াল

নিজস্ব সংবাদদাতা:
নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি ও ডিআইটি মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেছেন, আমরা স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে শামিল হয়েছি। এ যুদ্ধে আমরাই জয়ী হব। আল্লাহ তাআলা বাংলাদেশ স্বাধীন দিয়েছিল। সেই বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে গিয়ে আরেকবার মুক্তিবাহিনী বানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের জন্য সোচ্চার হয়েছি। হরতালকে অবশ্যই আমরা পালন করবো। স্বরাষ্টমন্ত্রীকে বলতে চাই, আপনার পুলিশ বাহিনী, ছাত্রলীগের লোকজনকে কন্ট্রোল করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় না করান তাহলে আগামীতে বাংলার জনগণ আপনাদের বিচার করবে। আমাদের হাতে অস্ত্র নাই। পুলিশের হাতে অস্ত্র, ছাত্রলীগের হাতে অস্ত্র। আমাদের অস্ত্র কেবল আমাদের জবান। জবান খুলে আল্লাহ পাকের কাছে আওয়াজ তুলে দেই। আল্লাহ এই জালিমদেরকে তুমি খতম করে দেও। আমরা তাদের দেখতে চাই না। শনিবার (২৭ মার্চ) দুপুর ২টায় শহরের ডিআইটি এলাকায় বঙ্গবন্ধু সড়কে অনুষ্ঠিত হেফাজতের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সংগ্রামী তৌহিদী জনতা, দুঃখ, ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি। কী অপরাধ ছিল আমার ভাইদেরকে গুলিবিদ্ধ করে শহীদ করা হয়েছে। তারা কোনো উচ্ছৃঙ্খলতা করে নাই। সামান্য কয়েকজন মানুষের উপর বায়তুল মোকারমের সামনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের গুন্ডাবাহিনীদের লেলিয়ে দিয়েছিল। মসজিদে হামলা করেছে, গুলি করেছে। ছাত্রলীগের হাতে, সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র ও রাম দা ছিল। ভিডিওতে আমরা তা দেখেছি। এগুলো দিয়ে আমার ভাইদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। আর পুলিশ সেসব সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা করেছিল। মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, বাংলাদেশটাকে তারা শুধু নিজের মনে করছে। যখন চাইবা পুলিশ বাহিনী দিয়া গুলি করবা, এইটা হতে দেওয়া যায় না। একটা কসাইকে সম্মান দিতে গিয়ে ঈমানদার ভাইদের রক্ত ঝরিয়েছ। এই বিচার হবে। আল্লাহ বিচার করবে। গুলি করতে চাইলে করো, বুক পেতে দিলাম। পুলিশ ভাইয়েরা, অস্ত্র ছাইড়া আমাদের সারিতে আসেন। তখন বুঝতে পারবেন, আপনাদের কত শক্তি। আপনারা ঈমানি শক্তির সাথে পারবেন না। নবী, সাহাবীরা রক্ত দিয়েছে। আমরাও দিতে রাজি আছি। এদিকে, বিক্ষোভ সমাবেশে হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় কর্মসূচী অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীরা আগামীকাল ফজরের নামাজের পর, সকাল সন্ধ্যা হরতাল পালন করার ঘোষণা দেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জাকির হোসাইন কাসেমী, জেলা হেফাজতে ইসলামের সহসভাপতি মাওলানা দ্বীন ইসলাম, মাওলানা দৌলত সরকার, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোঃ বশির উল্লাহ, মহানগরের সভাপতি মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, সহসভাপতি মুফতি কবির হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মুফতি হারুনুর রশীদ, যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা আলী হোসাইন, জেলা মুজাহিদ কমিটির সভাপতি ইসলামী আন্দোলনের নেতা মুফতি মাসুম বিল্লাহসহ আরও বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
ফেরদাউসের হুমকি
মহানগর হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান বলেছেন, ‘শুক্রবার হেফাজত কিংবা কোনো ইসলামী সংগঠনের কোনো কর্মসূচি ছিল না। তারপরও জনগণ উৎসুক হয়ে সেখানে প্রতিবাদ করতে গিয়েছিল। তাদের উপর হামলা হলো। তাহলে বোঝা গেল ওই ভারতের দাদাবাবুদের জন্য পিরিতি আপনাদের উতলায়ে উঠতাছে। আমরাও জানায়ে দেই, আপনারা ভারতে পালাই না। গুলি খেলে বাংলার জমিনে খাবো, বাংলার জমিনে রক্ত দেবো। তবু নাস্তিক, মুরতাদের উদ্দেশ্য বাংলার জমিনে বাস্তবায়িত হতে দিবো না।’ শনিবার (২৭ মার্চ) দুপুর দুইটার দিকে শহরের ডিআইটি এলাকায় বঙ্গবন্ধু সড়কে অনুষ্ঠিত হেফাজতের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি আরও বলেন, ‘নির্দেশনার মধ্য থেকে হরতাল পালনের আহবান জানাই। কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীরকে বলতে চাই, আপনি একা না, আপনার পেছনে নারায়ণগঞ্জবাসী আছে। আমরা ভাইসা আসি নাই। আপনি বললে দুই ঘন্টা সময় লাগবে না নারায়ণগঞ্জ অচল করে দেবো।’ মাওলানা ফেরদাউস বলেন, ‘একজন মানুষ কী পরিমাণ অপরাধ করলে তার বুকে গুলি চালানো যায়? এই প্রশ্ন বাংলাদেশ সরকার ও প্রশাসনের কাছে রাখলাম। হেফাজতে ইসলাম গতানুগতিক রাজনৈতিক সংগঠন না। আমরা বুক পেতে দিচ্ছি আপনারা গুলি করুন। কোথাও উচ্ছৃঙ্খলতা হয়নি। তারপরও বায়তুল মোকাররম মসজিদের ভিতরে ছাত্রলীগ, যুবলীগের গুন্ডারা ভারতের কসাই মোদীর জন্য নিরীহ আলেম-ওলামাদের উপর গুলি চালিয়েছে।’ হেফাজতের এই নেতা বলেন, ‘আপনারা বাংলাদেশের বন্ধ না শত্রু। স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, আমরা ভয় পাওয়ার জাতি না। আমরা রক্ত দেওয়ার জাতি। বুলেট দিয়েছি, অস্ত্র দিয়েছি, বুক পেতে দিলাম, গুলি করেন আপত্তি নাই। জনগণের আবেগ বুঝতে চেষ্টা করেন। সীমান্তে হত্যাকারী, ফেলানীর রক্তে যার হাত রঞ্জিত তার পক্ষে থাকবেন না।’ নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জাকির হোসাইন কাসেমী বলেন, ‘মুসলমানদের রক্তে কসাই মোদীর হাত রঞ্জিত। সে আমাদের দুশমন। ঢাকায় কেন্দ্রীয় কোনো কর্মসূচি ছিল না। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা গতকাল জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। কুলাঙ্গার মোদীর বিরুদ্ধে তারা স্লোগান দিয়েছিল। তাদের এই স্লোগান দেওয়ার অপরাধে আমার ভাইয়ের বুকে গুলি চালানো হলো। মুরুব্বিরা যেই কর্মসূচি দিবে নিজের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে তা পালন করবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *