ফতুল্লা সংবাদদাতা
ফতুল্লার আলোচিত আব্দুল হালিম হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী সোহাগ (৪৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফতুল্লা মডেল থানার একটি টিম সোহাগকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত সোহাগ ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ পানির ট্যাংকি সাউপাড়া এলাকার শাহজাহানের ছেলে। হত্যাকান্ডের শিকার নিহত আব্দুল হালিম ফতুল্লার উত্তর নরসিংপুর এলাকার আফসার উদ্দিনের ছেলে। জানা গেছে, কয়লা ব্যবসার জন্য চুক্তি ভিত্তিতে আব্দুল হালিমের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছিল বন্ধু ইকবাল। দীর্ঘদিন ওই ব্যবসার লাভ কিংবা মূল টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো টালবাহনা করছিল। এ টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে মনমালিন্য হয়। এর জের ধরে ২০১৪ সালের ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় টাকা দেয়ার কথা বলে আব্দুল হালিমকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ইকবাল তার বাড়ির ছাদে হালিমকে প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে অচেতন করে। তারপর ইকবালের নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে হালিমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ৫ টকুরো করে লাশ গুম করে ফেলে।
ঘটনার পরদিন হালিমের ছোট ভাই শামীম উদ্দিন বাদি হয়ে ইকবালের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় প্রথমে সাদেকুর রহমান গ্রেফতার হলে তার দেয়া তথ্যে ফতুল্লার কাশিপুর এলাকায় আব্দুল হালিমের বস্তাবন্দি অবস্থায় হাত-পা বিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পর্যায়ক্রমে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। ২০১৮ সালের ১৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আনিছুর রহমান এ মামলার রায়ে ৪ জনকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগে আরো ৭ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড প্রদান করেন। অর্থদন্ডের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরো ৬ মাস কারাদন্ডের আদেশ দেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হলো, ফতুল্লার শাসনগাও এলাকার মৃত ফুলচানের পুত্র ইকবাল হোসেন (৩৫), পশ্চিম দেওভোগ সাউপাড়া এলাকার শাহজাহানের পুত্র সোহাগ (৪০), সুনামগঞ্জের মৃত ইছাক মোল্লার পুত্র সাদেকুর রহমান (৩৮) ও শরিয়তপুরের মৃত হারুন কাজীর ছেলে বাবু কাজী (৪৫)। তারা ফতুল্লার মুসুলিমনগর এলাকায় বসবাস করতো এবং রায় ঘোষণার সময় দন্ডপ্রাপ্তরা পলাতক ছিল। এ মামলায় ৩ আসামীকে খালাস দেয়া হয়েছে। খালাসপ্রাপ্ত আসামীরা হলো, আবুল হোসেন, মেহেদী ও মোক্তার হোসেন। রায় ঘোষণার সময় খালাসপ্রাপ্ত ৩ জনই আদালতে উপস্থিত ছিল। ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রিজাউল হক দিপু গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ফতুল্লার উত্তর নরসিংপুর এলাকার ওয়ার্কশপ মালিককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগে ৪ জনকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছিলেন আদালত। রায়ের পর থেকে আসামীরা পলাতক ছিল। তাদের মধ্য থেকে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী সোহাগকে ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।