সোনারগাঁ সংবাদদাতা
সোনারগাঁ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ আলম ও সেকেন্ড অফিসার (এসআই) সাধন বসাকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রæয়ারি) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আসসামস জগলুল হোসেন এ পরোয়ানা জারি করেন।আদালত আগামী ১০ দিনের মধ্যে জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে। মামলা সুত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের নগর সাদিপুর গ্রামের ওয়ালিউল্লাহর ছেলে জাহিদুল ইসলাম স্বপনের বাড়িতে হানা দেয় সোনারগাঁ থানার ওসি মোর্শেদ আলম ও সেকেন্ড অফিসার এসআই সাধন বসাক। এসময় স্বপনকে ঘুম থেকে উঠিয়ে পৌরসভা এলাকার চৌদানা মৌজায় থাকা তার ১৭২ শতাংশ জমির দখল ও বসতঘরের জমি ছেড়ে দিতে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দেয়। স্বপন পুলিশের কথার বিরোধীতা করলে তার স্ত্রী-সন্তানের সামনে হাত ও চোখ বেঁধে সোনারগাঁ থানায় নিয়ে যায়। পরে লকআপে রেখে ওসি এবং এসআই ব্যাপক নির্যাতন করে চৌদানা মৌজার ১৭২ শতাংশ জমির দখল ছেড়ে দিতে আবারো চাপ দেয়। এমনকি দখল ছেড়ে না দিলে ক্রসফায়ার দিয়ে জীবনে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় তারা। নির্যাতনের এক সময় স্বপন অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ স্বপনকে মুমূর্ষু অবস্থায় সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরদিন সোনারগাঁ থানা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু ও পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি আসাদ গিয়ে জাহিদুল ইসলাম স্বপনকে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে নিয়ে আসে।
এ ঘটনায়, ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর সোনারগাঁ উপজেলার চিলারবাগ এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে আনিসুর রহমান আলমগীর বাদি হয়ে জেলা ও দায়রা জজ নারায়গঞ্জ আদালতে সোনারগাঁ থানার তৎকালীণ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোর্শেদ আলম এবং একই থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সাধন বসাকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেন। পরে জমির মালিক জাহিদুল ইসলাম স্বপন গং জমি বেদখল হওয়ার আশঙ্কায় সিনিয়র সহকারি জজ, সোনারগাঁ আদালতে সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম ও এসআই সাধন বসাকসহ আরো কয়েকজনকে বিবাদি করে একটি চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা করে। মামলার বাদি আনিসুর রহমান আলমগীর বলেন, শুধু নির্যাতনই নয় টাকা দাবি করছিলো ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা। আমাদের দু’জনকে থানায় ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করার পর জাহিদের কাছ থেকে টাকা দাবি করেছিলো। আমি ছিলাম স্বাক্ষী। আমার উপরও অত্যাচার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করায় আমার পরিবারকে প্রতিনিয়ত ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে আসছে। আমার দাবি হলো, দ্রæত ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হোক। মামলার আইনজীবী মৃণাল কান্তি দত্ত জানান, ব্যবসায়ী আনিসুর রহমানের করা মামলায় ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের বিভাগীয় তদন্তও হয়েছে।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।