বন্দর সংবাদদাতা
গ্যাস সংকটের কারণে বন্দরে ইলেকট্রিক চুলার কদর বাড়ছে। ফলে এই চুলার চাহিদাও বেড়ে যাচ্ছে। এখন অনেকেই ইলেক্ট্রিক চুলায় পাক করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন। এতে দুর্ঘটনার আশংকা থাকলেও তুলনামূলকভাবে টাকা কম খরচ হচ্ছে বলেবেশ কয়েক বছর ধরে আবাসিক সংযোগগুলোতে গ্যাস না থাকায় এবং এলপিজি গ্যাস ও জালানী লাকড়ির দাম বৃদ্ধি হওয়ায় বাসাবাড়িতে রান্নার জন্য সহজ উপায় হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে এ ইলেকট্রিক চুলা। ইলেকট্রিক চুলার ব্যবহার বেশি হলে বিদ্যুৎ এর ঘাটতি পড়বে বলেন জানান বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা। ইলেকট্রনিক্স দোকানগুলোর তথ্য মতে, গত ১৫ দিনে ইলেকট্রিক চুলা বিক্রি হয়েছে ৩৫০ টিরও বেশি। ইলেকট্রিক চুলার ক্রয় করতে আসা বোরহান উদ্দিন বলেন, গ্যাস না পেয়েও আমরা গ্যাসবিল দিচ্ছি, রান্নার জন্য মাসে এলপিজি বোতল লাগে ২ থেকে ৩টা, আর পারি না। পাশের বাসার করিম ভাই ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করে মাসে ৭ থেকে ৮শ’ টাকা বিল উঠে বলে জানালো, তাই আমি এই চুলা নিতে এসেছি। গৃহিনী আফরুজা বেগম বলেন, বাচ্চার বাবা একটা কোম্পানীতে চাকরি করে মাসে ১৮ হাজার টাকা বেতন পায়। ঘড় ভাড়া বিদ্যুৎ বিল যায় ৭ হাজার টাকা, বাচ্চাদের পড়ালেখার পেছনে যায় ৩ হাজার টাকা। মাসে ২টা গ্যাসের বোতল লাগে। সেখানে ৩ হাজার ৫শ’ টাকা লাগে।আর থাকে ৪ হাজার ৫শ’ টাকা। আপনারাই বলেন, বর্তমানের বাজারে পরিবারের ৪ জন মানুষকি এই টাকায় খাবার হয়? তাই একটু সাশ্রয়ের জন্য এই ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করি। শুনেছি এই চুলায় নাকি মাসে ৬ থেকে ৭ শ’ টাকা বিল আসে। এব্যাপারে বন্দরের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স দোকানে কথা বললে তারা জানান, বর্তমানে ইলেকট্রিক চুলার চাহিদা অনেক বেড়েছে। বিভিন্ন কোয়ালিটির এই চুলা আছে যা ৩৬শ’ থেকে ৪৬শ’ টাকার মধ্যে পাওয়া যায় এবং বিদ্যুৎ বিলও কম আসে। তাই হয়তো এই চুলার চাহিদা বেড়েছে। গত ১৫ দিনে আমাদের এখানে ৩৫০ টির বেশি চুলা বিক্রি হয়েছে যা আগে কখনো হয়নি। এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বন্দর জোনাল অফিস এর ডিজিএম স.ম. মিজানুর রহমান বলেন, ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহারে বিদ্যুৎ এর ঘাটতি পড়বে কারণ এই চুলাগুলোতে যে হিটার এতে অনেক বেশি মাত্রায় বিদ্যুৎ খরচ হয়ে থাকে। আর এই চুলা প্রতিটি মহল্লার বাসা বাড়িতে ব্যবহার হলে প্রচুর বিদ্যুৎ ব্যবহার হবে। এর ফলে আমাদের বিদ্যুৎ এর ঘাটতি পড়বে।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।