Logo
HEL [tta_listen_btn]

পুলিশের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ/ মুচলেকা দিয়ে থানা থেকেমুক্ত

পুলিশের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ/ মুচলেকা দিয়ে থানা থেকেমুক্ত

নিজস্ব সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে থাকাকে কেন্দ্র করে গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজনের সাথে পুলিশের অসদাচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তরিকুল সুজনকে পুলিশ ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়ার দেড় ঘন্টা পর মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। মঙ্গলবার (২১ ফেব্রæয়ারি) রাত সাড়ে ১০টায় শহরের চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ওই ঘটনা ঘটে। এসময় উপস্থিত দু’জন গণমাধ্যমকর্মী ঘটনার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করতে গেলে তার সাথেও অসদাচরণ করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ওই দুই গণমাধ্যমকর্মীর মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে তাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেয়ারও ভয় দেখান পুলিশ সদস্য। এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশি বাধার মুখে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিবাদী ব্যানার ঢাকা হয় কালো কাপড়ে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহরের চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ওই ব্যানারে লেখা ছিল, একুশের উচ্চারণ, দূর হ দুঃশাসন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুর দিকে পুলিশের বাধায় ব্যানারটিতে কালো কাপড় লাগানো হয়। পরে এ কালো কাপড় বাঁধা অবস্থাতেই শহীদ মিনারে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা চলে। এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হবার পর থেকে শহীদ মিনারে থাকা লোকজনকে শহীদ মিনার থেকে বেরিয়ে যাবার নির্দেশ দেয় পুলিশ। তরিকুল সুজন বলেন, সাংস্কৃতিক জোটের অনুষ্ঠান শেষ হবার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহীদ মিনারের উত্তর পাশে দাঁড়িয়ে হালিম খাচ্ছিলেন তরিকুল সুজন। এসময় একজন পুলিশ সদস্য এসে তাকে শহীদ মিনার ত্যাগ করতে বলেন, পর মুহূর্তে আরও একজন সদস্য পুনরায় তাদের শহীদ মিনার থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন, এসময় দু’জন পুলিশ সদস্যই বাঁশের লাঠি হাতে তার সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। তিনি আরও বলেন, তারা মারমুখী আচরণ করলে আমি প্রতিবাদ জানাই। শহীদ মিনারে প্রবেশ বা রাতের ওই সময়ে অবস্থান না করার বিষয়ে কখনই তোন নিষেধাজ্ঞা ছিল না। সুতরাং কোন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড যেহেতু করছি না, এ রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমি তাদের এ আচরণের প্রতিবাদ জানালে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আমার সাথে মারমুখী আচরণ করে পুলিশ ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে যান। প্রায় দেড় ঘন্টা থানায় রাখার পর মুচলেকা নিয়ে রাত একটার দিকে থানা থেকে আমাকে ছেড়ে দেয়। সংবাদকর্মীসোহেল রানা বলেন, পুলিশ আমার সাথেও অসদাচরণ করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন সংবাদকর্মী হিসেবে তরিকুল সুজনকে পুলিশ ভ্যানে তোলার ছবি তুলতে গেলে একজন এসআই আমার মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে নেন এবং জানতে চান আমি পুলিশের অনুমতি ছাড়া কেন ছবি তুলেছি। সেই মুহূর্তে ঘটনাস্থল ত্যাগ না করলে আমাকে থানায় আটক করে আইসিটি আইনে মামলা দিয়ে দেয়ার হুমকি দেয় পুলিশ। পরে নিরাপত্তার জন্যআমি সেখান থেকে কিছুটা দূরে চলে যাই। পেশাগত কাজ করতে গিয়ে পুলিশের এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ইন্সপেক্টর (অফিসার ইনচার্জ) আনিচুর রহমান মোল্লা বলেন, বিষয়টি একটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল। কাউকে আটক করা হয়নি। তিনি স্বেচ্ছায় পুলিশ ভ্যানে উঠে থানায় এসেছিলেন পরে বিষয়টি থানাতেই মীমাংসা করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি মুচলেকা রাখা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com