রূপগঞ্জ সংবাদদাতা
রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের দু’বার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু দাউদ মোল্লার বাড়িতে গুলি, হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে বেআইনি জনতাবদ্ধে বাড়িঘরে অনাধিকার প্রবেশ করে ভাংচুর, গুলি, চুরি ও হুমকির অপরাধে শনিবার (২৫ ফেব্রæয়ারি) রাতে আবু দাউদ মোল্লা বাদি হয়ে ভুলতা ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতিসহ ৯ জনকে নামীয় ও অজ্ঞাত ৪০ থেকে ৪৫ জনকে আসামী করে রূপগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামীরা হলেন, ভুলতা ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি রাশেদ, মাসুমাবাদ এলাকার মৃত বাকামীরের ছেলে আলিনুর, ফনি দারোয়ানের ছেলে আল-আমিন, আলিফ, ছালেকের ছেলে মোশারফ, জুনায়েদ, মিঠাবো এলাকার মৃত মনির মোল্লার ছেলে মাসুদ, ভায়েলা এলাকার রাকিব, যাত্রামুড় এলাকার তোতা খানের ছেলে নাসির খান। বাদি আবু দাউদ মোল্লা মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, তিনি ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের দু’বার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বসুন্ধরা গ্রæপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছেন। আর বসুন্ধরা গ্রæপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ভুলতা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রাশেদের নেতৃত্বে ওই ৯ জনসহ অজ্ঞাত ৪০ থেকে ৪৫ জনের একটি দল অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ৩০টি মোটরসাইকেল যোগে বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রæয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আবু দাউদ মোল্লার বাড়ির সামনে ও পুকুরপাড়ে অবস্থান নিয়ে গালিগালাজ শুরু করে এবং ৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। এসময় বাড়ির নির্মাণ শ্রমিকদেরও হুমকি দেয় ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এছাড়া হামলাকারীরা নিরাপত্তায় ব্যবহৃত সিসি টিভি ক্যাবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে। হামলাকারীরা আবু দাউদ মোল্লার স্ত্রী হোসনে আরা বেগমের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আসবাবপত্র ভাংচুর করে ঘরে থাকা ব্যবসার ১১ লাখ টাকা ও ৮ ভরিস্বর্ণালংকার লুট করে। পরে হামলাকারীরা এই বলে হুমকি দেয়, আবু দাউদ মোল্লাকে যেখানে পাবো সেখানে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হবে। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়। আবু দাউদ মোল্লার স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম বলেন, আবু দাউদ মোল্লা হাটাবো বাজারে থাকায় প্রাণে বেঁচে যায়। সন্ত্রাসীরা হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালিয়েছে। মামলা হয়েছে কিন্তু আসামীদের গ্রেফতার করা হয়নি। অবিলম্বে আসামীদের গ্রেফারের দাবি জানাই। আবু দাউদ মোল্লা অভিযোগ করে আরো বলেন, আমিতো নৌকার রাজনীতি করি। আর একটি পক্ষের সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি বিধায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের নেককারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বর্তমানে আমিসহ পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি আসামীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত শাস্তি দাবি করছি।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, মামলার আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।