সিদ্ধিরগঞ্জ সংবাদদাতা
বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় অপহৃতা তরুণীকে ৬ মাসেও উদ্ধার করতে পারেনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। উল্টো তরুণীর পিতাকে মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানোর হুমকি দিচ্ছেন উপ-পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক। ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলে তরুণীকে ফিরিয়ে দেয়ার কথা বলছে অপহরণকারীরা। ফলে মেয়েকে উদ্ধার করতে রোববার (৫ মার্চ) জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী তরুণীর পিতা। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সিদ্ধিরগঞ্জের সিআইখোলা বউ বাজার এলাকায় আল আমিনের বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকেন হেলাল মিয়া। তার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় একই বাড়ির ভাড়াটিয়া নাঈম (২৫) নামে এক যুবক। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় গত বছরের ৩ আগস্ট তার মেয়েকে নাঈম ও আলামিন মিলে অপহরণ করে। তখন তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগটির তদন্তের দায়িত্ব পান উপ-পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক। ঘটনার ৬ মাস গত হলেও অপহৃতা তরুণীকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। মেয়েকে উদ্ধারের জন্য ভিকটিমের পিতা থানায় গেলে তদন্তকারী কর্তকর্তা আব্দুর রাজ্জাক উল্টো তাকেই মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানোর হুমকি দিচ্ছেন। ভিকটিমের পিতা বলেন, ঘটনার পর পরই আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করি। পুলিশ মেয়েকে উদ্ধার করার আশ্বাস দেয়। ৬ মাস ধরে থানায় আসা যাওয়া করছি। অপহরণকারীরা যে মোবাইল নাম্বার দিয়ে আমার কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করছে সেই নাম্বারটি পুলিশকে দিয়েছে। কিন্তু পুলিশ কিছুই করতে পারছেনা। আমাকে থানায় যেতে নিষেধ করা হচ্ছে। থানায় গেলে মামলা দিয়ে জেলে পাঠাবে বলে হুমকি দিচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক। তাই আমার মেয়েকে দ্রæত ফিরে পেতে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ করেছি।
তদন্তকারি কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এটা প্রেম সংক্রান্ত ব্যাপার। মেয়ের বাসায় গিয়ে তার পিতা ও আশপাশের লোকজনের সামনে ফোনে কথা হলে মেয়ে সরাসরি বলেছে সে নিজের ইচ্ছায় নাঈমের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছে। তাকে অপহরণ করা হয়নি। তবে অভিযোগকারীকে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকির অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, ভিকটিমের পিতা আমার কাছে এসেছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।