সিদ্ধিরগঞ্জ সংবাদদাতা
সিদ্ধিরগঞ্জে এনসিসির ১নং ওয়ার্ড এলাকার মূর্তিমান আতংক শাহাজালাল সাজু ওরফে ল্যাংড়া সাজু ও তার বাহিনী দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ল্যাংড়া সাজু ও তার বাহিনীর বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড, অত্যাচারে আতংকে দিনাতিপাত করছে এলাকার সাধারণ মানুষ। তারা চাঁদাবাজী, জমি দখল, ডাকাতি, মারামারিসহনানা অপকর্মে প্রকাশ্যে করে বেড়াচ্ছে। ১০ থেকে ১৫ জনের এই বাহিনীটির নানা ধরণের অপকর্মে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। তাদের ভয়ে মানুষ আতঙ্কগ্রস্থ। এই বাহিনীর অধিকাংশ সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের অপরাধে জেল খেটেছে।বাহিনীটির উল্লেখযোগ্য সদস্যরা হলো, সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি (দক্ষিণ মজিববাগ) আলামিন নগর এলাকায় চাঁদা না দেয়ায় একটি বাড়িতে তালা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঐ বাড়ির মালিক মোজাম্মেল শেখ রাতেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে থানা পুলিশ। অভিযুক্তরা হলো, মিজমিজি পূর্বপাড়া এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে শাহজালাল সাজু ওরফে ল্যাংড়া সাজু (৩৮), মৃত আলাউদ্দিন ভূইয়ার ছেলে নূর কামাল (৪০), জজ মিয়ার ছেলে বাবু ওরফে কাইল্লা বাবু (৩০), সানাড়পাড় এলাকার শহিদ উল্লাহর ছেলে আব্দুল কাইয়ুম (৩৬), বাতেনপাড়া এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. সুমন (৪০) এবং শিমরাইল এলাকার মো. কামালের ছেলে মো. সারোয়ার (৩৮) সহ অজ্ঞাত কয়েকজন। স¤প্রতি এই বাহিনীর বিরুদ্ধে মিজমিজি পূর্বপাড়া এলাকায় এক বাড়ির মালিক ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেয়ায় তার বাড়ি তালাবদ্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোজাম্মেল শেখ ২৭ ফেব্রæয়ারি রাতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। বাড়ির মালিক মোজাম্মেল শেখ জানান, ঐ বাড়িতে ৬টি রুমে ভাড়াটিয়া রয়েছে। ঐ অবস্থায় অভিযুক্তরা বাড়ির গেটে একত্রে ৫টি তালা মেরে পুরো বাড়ি তালাবদ্ধ করে দেয়। পরে আমরা আইনের আশ্রয় নিয়ে তালা খুলে ফেলেছি।অভিযুক্তদের দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় তারা এই কাজ করেছে। এর ফলে ভাড়াটিয়ারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তাদের নিরাপদ বাসস্থানের ব্যাঘাত ঘটছে। অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচার দাবি জানাচ্ছি প্রশাসনের কাছে। এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এ.এস.আই) আব্দুর রাজ্জাক জানান, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায় নি। পরে বাড়ির মালিক গেটের তালা খুলে দেয়া হয়েছে। এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাহজালাল সাজু বিগত ২০১৬ সালে ডাকাতি মামলায় জেল খেটেছে। তার বাসা থেকে ডাকতির মালামাল উদ্ধার করেছিল প্রশাসন। সে মামলায় দীর্ঘ ৯ মাস জেল খেটেছে। ২০১৯ সালের মিজমিজি পূর্বপাড়া এলাকায় ছেলে ধরা সন্দেহে এলাকাবাসীর গণধোলাইয়ে বাকপ্রতিবন্ধী সিরাজ হত্যা মামলার ১১নং আসামী সাজু। এছাড়াও সে একাধিক মামলার আসামী। ডাকাতি মামলার আসামী ভূমিদস্যু শাহজালাল সাজু ওরফে লেংড়া সাজু গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর মিজমিজি পূর্বপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকায় হিজড়া দিয়ে মোসা. মোমেলা নামের এক বৃদ্ধ নারীর পৈতৃক সম্পত্তিকে নিজের সম্পত্তি দাবি করে জোরপূর্বক দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধা নারী জানান, তার পৈত্রিক সম্পত্তির ২৭ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্নভাবে অত্যাচার করে দখলে নেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে ভূমিদস্যুরা। এ পর্যন্ত ৬ বার তার বসত বাড়িতে হামলা চালানো হয়। হিজড়া দিয়ে জমি দখলে তাদের বাধা দেয়া হলে তাকে মারধরও করে তারা। তিনি বলেন, আমার নিজের সম্পত্তি নিজে ভোগ করতে পারছি না। এখানকার ভূমিদস্যুরা আমার বাসায় প্রতিদিন রাতে হুন্ডা মহড়া দিয়ে হুমকি-ধামকি দিয়ে যায়। আমার জমি দখলে নিতে জমিতে বালু ফেলা হয় এবং আমাকে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হয়। এরআগে বিগত ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রæয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার বরাবর সাজু বাহিনীর সাজু, গোলাম হোসেন, নুরুল হক, বকুল, মন্টুদের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ দিয়েছিলেন ভুক্তভোগী মোমেলা। তাছাড়া বাবু ওরফে কাইল্লা বাবু একসময় সিদ্ধিরগঞ্জ পুলে দোকান-পাট থেকে চাঁদা উত্তোলন করতো। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদকসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।