নিজস্ব সংবাদদাতা
ব্যাটারীচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের অবৈধ রেকারিং, ডাম্পিং, নির্যাতন, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং রুট পারমিট, রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও চলাচল সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন, সড়ক-মহাসড়কে স্বল্প গতির গাড়ির জন্য পৃথক লেন ও সার্ভিস রোড নির্মাণের দাবিতে মঙ্গলবার (২১ মার্চ) সকালে রিকশা, ব্যাটারীচালিত রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনেমানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। রিকশা, ব্যাটারীচালিত রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সংগঠক খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট জেলার সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদির, সংগ্রাম পরিষদ জেলারসংগঠক কামাল হোসেন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট কাঁচপুর শিল্পাঞ্চল শাখার সহ-সভাপতি আনোয়ার খান, গাবতলী-পুলিশ লাইন-তাগারপাড় আঞ্চলিক শাখার সংগঠক তাজুল ইসলাম প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বল্প দূরত্বে মানুষের বাহন হিসেবে ব্যাটারীচালিত রিকশা ও ইজিবাইক এখন সবচেয়ে জনপ্রিয়। রিকশা চালানোর মত প্রচন্ড কায়িক এবং অমানবিক বাহনের বিপরীতে ব্যাটারীচালিত এইসব বাহন যেমন চালকের জন্য কিছুটা আরামদায়ক তেমনি যাত্রীদের জন্যও সস্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। এটা বায়ু ও শব্দ দূষণ করে না এবং পরিবেশ বান্ধব। ইতোমধ্যেইকিছু ত্রæটি চিহ্নিত করে কিছুটা সংশোধন করা হয়েছে ফলে দুর্ঘটনার হার অন্য বাহনের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ইতোমধ্যে মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট মহাসড়ক ব্যতিত ব্যাটারীচালিত যান চলাচলে বাধা নেই বলে মতামত দিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় হওয়ার পর এখনও ইজিবাইকসহ ব্যাটারীচালিত রিকশা চলাচলে বাধা প্রদান করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন প্রবেশ পথে পুলিশ রেকার বিলের নামে ব্যাটারীচালিত রিকশা-ইজিবাইক আটকে ১ হাজার থেকে ১৫শ’ টাকা আদায় করছে। এ সুযোগে বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রও এদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে। শোনা যায়, কতিপয় দুর্নীতিবাজ পুলিশ ও হলুদ সাংবাদিক পারস্পরিক যোগসাজসে মাসিক টাকার বিনিময়ে কিছুব্যাটারীচালিত রিকশা শহরে চলতে দিচ্ছে। সরকারি নীতিমালা তৈরি না হওয়ায় এ বেআইনি চাঁদাবাজি চলছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ বেশ কিছু সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা ব্যাটারীচালিত রিকশা ও ইজিবাইক রেজিস্ট্রেশন দিয়েছে। তাদের নীতিমালা অনুযায়ী শহরে নির্বিঘেœ ব্যাটারীচালিত রিকশা ও ইজিবাইক চলছে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণে কর কর্পোরেশন ও পৌরসভা পাচ্ছে। এতে দরিদ্র রিকশা চালকদের উপর নির্যাতন ও হয়রানীর অবসান হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৩ বারের নির্বাচিত মেয়র নারায়ণগঞ্জ শহরে দরিদ্র রিকশা চালকদের ও তাদের পরিবারের মানুষদের জীবন বাঁচাতে ব্যাটারীচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের রেজিস্ট্রেশন ও নম্বর প্লেট দিয়ে শহরে চলমান হাজার হাজার ব্যাটারীচালিত রিকশা ও ইজিবাইক চলাচলে একটি শৃংখলা নিয়ে আসতে পারেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে গত ১০ বছর ধরে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে ব্যাটারীচালিত যানবাহনের আধুনিকায়ন, লাইসেন্স প্রদানসহ ৬ দফা দাবিতে ধারাবাহিক ও সুশৃঙ্খল আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে। ব্যাটারীচালিত যানবাহনের আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে কোন প্রয়োাজন হলে সহায়তা করতে এবং চালকদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়াসহ সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় যে কোন উদ্যোগে অংশ নিতে সংগ্রাম পরিষদ প্রস্তুত। রেজিস্ট্রেশন ও নীতিমালা প্রণয়ন সেক্টরের লাখ লাখ চালকের জীবনমান উন্নত করতে সহায়তা করবে।সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিবন্ধন, রুট পারমিট ও লাইসেন্স দেয়ার ব্যবস্থা চালু হলে সড়কে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। এর ফলে সরকার পাবে রাজস্ব, সড়কে আসবে শৃঙ্খলা আর চালক মালিকরা পাবে স্বস্তি। যার সামগ্রিক ফলাফলে অর্থনীতিতে গতি আসবে, দুর্নীতি-চাঁদাবাজির পথ বন্ধ হবে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে নীতিমালা প্রণয়ন করে রিকশা-ইজিবাইকের রুটপারমিট, রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও অবৈধ রেকারিং, ডাম্পিং, চাঁদাবাজি, নির্যাতন ও হয়রানী বন্ধের দাবি জানান।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।